সূরা কাহফ: ৫ম রুকুঃ (৩২- ৪৪ আয়াত)দুই বাগানের মালিক

সূরা কাহফ

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

৫ম রুকুঃ (৩২- ৪৪ আয়াত)

দুই বাগানের মালিক

এই ঘটনার মূলকথা হল- ‘সম্পদের পরীক্ষা’।

৮:৩২ وَ اضۡرِبۡ لَهُمۡ مَّثَلًا رَّجُلَیۡنِ جَعَلۡنَا لِاَحَدِهِمَا جَنَّتَیۡنِ مِنۡ اَعۡنَابٍ وَّ حَفَفۡنٰهُمَا بِنَخۡلٍ وَّ جَعَلۡنَا بَیۡنَهُمَا زَرۡعًا

৩২. আর আপনি তাদের কাছে পেশ করুন দু’ব্যক্তির উপমাঃ তাদের একজনকে আমরা দিয়েছিলাম দুটি আঙ্গুরের বাগান এবং এ দুটিকে আমরা খেজুর গাছ দিয়ে পরিবেষ্টিত করেছিলাম ও এ দু’টির মধ্যবর্তী স্থানকে করেছিলাম শস্যক্ষেত্র।

১৮:৩৩ کِلۡتَا الۡجَنَّتَیۡنِ اٰتَتۡ اُکُلَهَا وَ لَمۡ تَظۡلِمۡ مِّنۡهُ شَیۡئًا ۙ وَّ فَجَّرۡنَا خِلٰلَهُمَا نَهَرًا

৩৩. উভয় বাগানই ফল দান করত এবং এতে কোন ত্রুটি করত না। আর আমরা উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রবাহিত করেছিলাম নহর।

এই দুই ব্যক্তি কারা ছিল এ ব্যাপারে মুফাসসিরদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। মহান আল্লাহ কেবল বুঝানোর জন্য তাদের দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন, না বাস্তবিকই দু’জন এ রকম ছিল? যদি ছিল, তবে তারা বানী-ইস্রাঈলদের মধ্যে ছিল, না মক্কাবাসীদের মধ্যে?

এরা দুই ভাই অথবা দুই বন্ধু বা ব্যবসায়িক সাথী ছিলেন, সঠিক জানা যায় না।

যেভাবে চতুর্দিকে দেওয়াল দিয়ে হেফাযত করা হয়, অনুরূপভাবে এই বাগানগুলোর চতুর্দিকে খেজুরের গাছ ছিল। যা আড় ও দেওয়ালের কাজ দিত।

অর্থাৎ, উভয় বাগানের মধ্যস্থলে ক্ষেত ছিল, যাতে ফসলাদি উৎপন্ন হত। আর এইভাবে উভয় বাগানে ছিল শস্য ও ফল-ফসলের সমাবেশ। নহর ছিলো যাতে বাগানের সেচের ব্যাপারে যেন কোন বাধা সৃষ্টি না হয় অথবা বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল অঞ্চলের মত যেন বৃষ্টির মুখাপেক্ষী না হয়।

১৮:৩৪ وَّ کَانَ لَهٗ ثَمَرٌ ۚ فَقَالَ لِصَاحِبِهٖ وَ هُوَ یُحَاوِرُهٗۤ اَنَا اَکۡثَرُ مِنۡکَ مَالًا وَّ اَعَزُّ نَفَرًا

৩৪. এবং তার প্রচুর ফল-সম্পদ ছিল। তারপর কথা প্রসঙ্গে সে তার বন্ধুকে বলল, ধন-সম্পদে আমি তোমার চেয়ে বেশী এবং জনবলে তোমার চেয়ে শক্তিশালী।

ثمر শব্দের অর্থ বৃক্ষের ফল এবং সাধারণ ধন-সম্পদ। এখানে ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ ও কাতাদাহ থেকে দ্বিতীয় অর্থ বর্ণিত হয়েছে। [ইবন কাসীর] কামুস গ্রন্থে আছে ثمر একটি বৃক্ষের ফল এবং নানা রকমের ধন-সম্পদের অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ থেকে জানা যায় যে, লোকটির কাছে শুধু ফলের বাগান ও শস্যক্ষেত্রই ছিল না, বরং স্বর্ণ-রৌপ্য ও বিলাস-ব্যসনের যাবতীয় সাজ-সরঞ্জামও বিদ্যমান ছিল। [অনুরূপ দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]

نَفَرٌ (দল, জনবল) বলতে সন্তান-সন্ততি ও ভৃত্য-চাকর।

সম্পদশালী ব্যক্তিটির মনে একধরনের গর্ব ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস জন্ম নিয়েছিলো।

অহংকারের আরবী নাম কিবর (الْكِبْر)। যার অর্থ বড়ত্ব। অন্যের চাইতে নিজেকে বড় মনে করাই এর অন্তর্নিহিত অর্থ। এর পারিভাষিক অর্থ, সত্যকে দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। নিম্নের হাদীছটিতে এর পরিণতি ও ব্যাখ্যা দু’টিই বর্ণিত হয়েছে।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন,

لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِى قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ. قَالَ رَجُلٌ إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أَنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَنًا وَنَعْلُهُ حَسَنَةً. قَالَ : إِنَّ اللهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ- ‘ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অন্তরে কণা পরিমাণ অহংকার রয়েছে। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, লোকেরা চায় যে, তার পোষাক সুন্দর হৌক, তার জুতা জোড়া সুন্দর হৌক। জবাবে তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য পসন্দ করেন। ‘অহংকার’ হ’ল ‘সত্যকে দম্ভের সাথে পরিত্যাগ করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা’। মুসলিম হা/৯১; মিশকাত হা/৫১০৮ ‘ক্রোধ ও অহংকার’ অনুচ্ছেদ।

আবু ওয়াহাব আল-মারওয়াযী বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে প্রশ্ন করলাম ‘অহংকার (الْكِبْر) কাকে বলে? তিনি বললেন, মানুষকে হেয় জ্ঞান করা। পুনরায় প্রশ্ন করলাম, ‘আত্মম্ভরিতা (العُجْب) কাকে বলে? তিনি বললেন, তোমার কাছে যা আছে, অন্যের কাছে তা নেই বলে ধারণা করা। সিয়ারু আ‘লামিল নুবালা ৮/৪০৭।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তিনটি ধ্বংসকারী বস্ত্ত থেকে মানুষকে সাবধান করেছেন (১) প্রবৃত্তি পূজারী হওয়া (২) লোভের দাস হওয়া এবং (৩) আত্ম অহংকারী হওয়া। তিনি বলেন, এটিই হ’ল সবচেয়ে মারাত্মক (وَهِيَ أَشَدُّهُنَّ)। বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, সনদ হাসান; মিশকাত হা/৫১২২।

আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّمَاۤ اَمْوَالُكُمْ وَ اَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ  وَّ اَنَّ اللهَ عِنْدَهٗۤ اَجْرٌ عَظِیْمٌ۠.

জেনে রেখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। আর আল্লাহরই নিকট রয়েছে মহা পুরস্কার।সূরা আনফাল : ২৮

আল্লাহ বলেন,

تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلاَ فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ-

‘আখেরাতের এই গৃহ (অর্থাৎ জান্নাত) আমরা প্রস্ত্তত করে রেখেছি ঐসব মুমিনের জন্য, যারা দুনিয়াতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেনা এবং বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম হ’ল কেবল আল্লাহভীরুদের জন্য’ (ক্বাছাছ ২৮/৮৩)।

আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।’ -সূরা নিসা : ৩৬

আর দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাসই উত্তম; অতএব, তোমরা কি অনুধাবন কর না? আন’আমঃ ৩২

কোন মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করলে বা হেয় ভাবলে সে যারপর নাই কষ্ট পায়। এ কাজ থেকে রাসূল (সা) নিষেধ করেছেন এবং এর অশুভ পরিণতি বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন,

‘তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পর ধোঁকাবাজি করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অগোচরে শত্রুতা করো না এবং একে অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করবে না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না, তাকে অপদস্ত করবে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না। তাক্বওয়া এখানে, এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তিনবার স্বীয় বক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় জ্ঞান করে। কোন মুসলিমের উপর প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও ইয্যত-আব্রু হারাম’। মুসলিম হা/২৫৬৪; মিশকাত হা/৪৯৫৯; ছহীহুত তারগীব হা/২৮৮৫।

তিনি আরো বলেন, إِنَّ مِنْ أَرْبَى الرِّبَا اسْتِطَالَةَ الْمَرْءِ فِي عِرْضِ أَخِيهِ.

‘সবচেয়ে বড় সূদ হল অন্যায়ভাবে কোন মুসলিমের মানহানি করা’।আবূদাঊদ হা/৪৮৭৬; ছহীহাহ হা/১৪৩৩, ৩৯৫০; ছহীহুল জামে‘ হা/২২০৩, ২৫৩১; ছহীহুত তারগীব হা/২৮৩৩।

১৮:৩৫ وَ دَخَلَ جَنَّتَهٗ وَ هُوَ ظَالِمٌ لِّنَفۡسِهٖ ۚ قَالَ مَاۤ اَظُنُّ اَنۡ تَبِیۡدَ هٰذِهٖۤ اَبَدًا

৩৫. আর সে তার বাগানে প্রবেশ করল নিজের প্রতি যুলুম করে। সে বলল, আমি মনে করি না যে, এটা কখনো ধংস হয়ে যাবে;

যে বাগানগুলোকে সে নিজের জান্নাত মনে করছিল। সে মনে করেছিল এগুলো স্থায়ী সম্পদ। অর্বাচীন লোকেরা দুনিয়ায় কিছু ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও শান-শওকতের অধিকারী হলেই সর্বদা এ বিভ্রান্তির শিকার হয় যে, তারা দুনিয়াতেই জান্নাত পেয়ে গেছে। এখন আর এমন কোন জান্নাত আছে যা অর্জন করার জন্য তাকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে? এভাবে সে ফল-ফলাদি, ক্ষেত-খামার, গাছ-গাছালি, নদী-নালা, ইত্যাদি দেখে ধোঁকাগ্ৰস্ত হবে এবং মনে করবে এগুলো কখনো ধ্বংস হবে না। ফলে সে দুনিয়ার মোহে পড়ে থাকবে এবং আখেরাত অস্বীকার করে বসবে। [ইবন কাসীর]

১০:৪৪ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَظۡلِمُ النَّاسَ شَیۡئًا وَّ لٰکِنَّ النَّاسَ اَنۡفُسَهُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ

নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি কোন যুলুম করেন না, বরং মানুষই নিজেদের প্রতি যুলুম করে থাকে। সূরা ইউনুসঃ ৪৪

নিজের ওপর জুলুম কীভাবে হয়? ‘নিজের ওপর জুলুম’ হয় পাপাচারের দ্বারা, অনাচারের দ্বারা এবং অন্যায়-অবিচারের দ্বারা। মানুষ কেন নিজের ওপর জুলুম করে? মানুষ নিজের ওপর জুলুম করে পরিণাম থেকে গাফেল হয়ে। কেউ যখন মনে করে তার কোনো জবাবদিহিতা নেই, তখন সে বেপরোয়া হয়ে অন্যায়-অনাচারে লিপ্ত হয় এবং নিজের চরম ক্ষতিসাধন করে। এ কারণে আখেরাতে অবিশ্বাস বা আখেরাত সম্পর্কে উদাসীনতা মানুষের সব অপকর্মের মূল। আর যারা মানুষকে আখেরাত থেকে বিমুখ বা উদাসীন করে তারাই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু।

নিশ্চয় যারা আখেরাতে ঈমান আনে না, তাদের জন্য তাদের কাজকে আমরা শোভন করেছি(১), ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়; সূরা নমলঃ ৪

আর এ দুনিয়ার জীবন তো খেলতামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আর আখেরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত! আনকাবুতঃ ৬৪

১৮:৩৬ وَّ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّ لَئِنۡ رُّدِدۡتُّ اِلٰی رَبِّیۡ لَاَجِدَنَّ خَیۡرًا مِّنۡهَا مُنۡقَلَبًا

৩৬. আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি আমার রব-এর কাছে ফিরিয়ে নেয়াও হয়, তবে আমি তো নিশ্চয় এর চেয়ে উৎকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।

সেই কাফের কেবল তার অহংকার ও দাম্ভিকতাতেই পতিত ছিল না, বরং তার উন্মত্ততা ও ভবিষ্যতের সৌন্দর্যময় ও সুদীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা তাকে আল্লাহর পাকড়াও এবং কুকর্মের প্রতিফল পাওয়ার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন করে রেখেছিল। এমন কি সে কিয়ামতকেও অস্বীকার করল এবং বড়ই ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে বলল যে, কিয়ামত যদি সংঘটিত হয়ও, তবে সেখানেও আমার ভাগ্যে জুটবে উত্তম পরিণাম। যার কুফরী ও অবাধ্যতা সীমা অতিক্রম করে যায়, সে মাতালের মত এই ধরনের অহংকারমূলক দাবী করে। যেমন, অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন,

وَلَئِنْ رُجِعْتُ إِلَى رَبِّي إِنَّ لِي عِنْدَهُ لَلْحُسْنَى (فصلت: ৫০)

‘‘আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে যাই, তবে অবশ্যই তাঁর কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। (সূরা হা-মীম সাজদাহ ৫০ আয়াত)

أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآياتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا (مريم:৭৭)

‘‘তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে আমার নিদর্শনাবলীতে অবিশ্বাস করে এবং বলে, আমাকে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অবশ্যই দেওয়া হবে। (সূরা মারয়্যাম ৭৭ আয়াত)

তারা আরও বলেছে, আমরা ধনে-জনে সমৃদ্ধিশালী; আর আমাদেরকে কিছুতেই শান্তি দেয়া হবে না। সূরা সাবাঃ ৩৫

তারা কি মনে করে যে, আমি ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তাদেরকে যে সাহায্য করি, তা তাদের জন্যে পরিণাম ও আখেরাতের দিক দিয়েও মঙ্গলজনক? (কখনই নয়) বরং তারা আসল সত্য সম্পর্কে বে-খবর। [সূরা আল মুমিনুন: ৫৫–৫৬

মহান আল্লাহ এর খন্ডন করেছেন—

আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছে তার জীবনোপকরণ বৃদ্ধি করেন এবং সংকুচিত করেন; কিন্তু এরা দুনিয়ার জীবন নিয়েই আনন্দিত, অথচ দুনিয়ার জীবন তো আখিরাতের তুলনায় ক্ষণস্থায়ী ভোগমাত্র। সূরা রাদঃ২৬

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক মরা কান ছোট ছাগলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি তা দেখিয়ে সাহাবায়ে কিরামকে বললেন, আল্লাহর শপথ! এ ছাগলটি যেমন তার মালিকের নিকট মূল্যহীন তেমনি দুনিয়ার মূল্য আল্লাহর নিকট তার ছেয়েও সামান্য। [মুসলিমঃ ২৯৫৭]

১৮:৩৭ قَالَ لَهٗ صَاحِبُهٗ وَ هُوَ یُحَاوِرُهٗۤ اَکَفَرۡتَ بِالَّذِیۡ خَلَقَکَ مِنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ سَوّٰىکَ رَجُلًا

৩৭. তদুত্তরে তার বন্ধু বিতর্কমূলকভাবে তাকে বলল, তুমি কি তাঁর সাথে কুফরী করছ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি ও পরে বীর্য থেকে এবং তারপর পূর্ণাংগ করেছেন পুরুষ আকৃতিতে?

তার এই ধরনের কথা-বার্তা শুনে তার মু’মিন সাথী তাকে ওয়ায ও নসীহতের ভঙ্গিমায় বুঝাতে লাগল যে, তুমি তোমার সেই স্রষ্টার সাথে কুফরী করছ, যিনি তোমাকে মাটি ও এক ফোঁটা পানি (বীর্যবিন্দু) থেকে সৃষ্টি করেছেন। মানবকুলের পিতা আদম (আঃ)-কে যেহেতু মাটি থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাই মানুষের মূল হল মাটিই। অতঃপর সৃষ্টির উপাদান হয়েছে বীর্য যা পিতার পৃষ্ঠদেশ থেকে স্খলিত হয়ে মায়ের গর্ভাশয়ে গিয়ে স্থির হয়। সেখানে আল্লাহ নয় মাস পর্যন্ত তার লালন-পালন করেন। অতঃপর তাকে সম্পূর্ণ একজন মানুষরূপে মায়ের পেট থেকে বের করেন। কারো কারো নিকট মাটি থেকে সৃষ্টি হওয়ার অর্থ হল, মানুষ যে খাবার খায়, তা সবই যমীন অর্থাৎ, মাটি থেকে অর্জিত। এই খাবার হতেই সেই বীর্য তৈরী হয়, যা মহিলার গর্ভাশয়ে গিয়ে মানুষ সৃষ্টির মাধ্যম হয়। এইভাবে প্রত্যেক মানুষের মূল উপাদান মাটিই বিবেচিত হয়। অকৃতজ্ঞ মানুষকে তার (সৃষ্টির) মূল সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তার স্রষ্টা এবং প্রতিপালকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করানো হচ্ছে যে, তুমি তোমার প্রকৃত স্বরূপ এবং মৌলিক উপাদানের ব্যাপারে চিন্তা কর। তাঁর এই সমস্ত অনুগ্রহের প্রতি লক্ষ্য কর যে, তিনি তোমাকে কি থেকে কি বানিয়ে দিয়েছেন। এই সৃষ্টি করার কাজে কেউ তাঁর শরীক ও সাহায্যকারী নেই। এ সব কিছুই করেছেন কেবল সেই মহান আল্লাহ, যাঁকে মানতে তুমি প্রস্তুত নও। হায় আফসোস! কত অকৃতজ্ঞ এই মানুষ!

অন্য আয়াতেও আল্লাহ্ তা বলেছেন, “তোমরা কিভাবে আল্লাহর সাথে কুফরী করছ? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জীবিত করেছেন।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮]

আল্লাহ বলেন,

أَوَلَمْ يَرَ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ نُطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُبِينٌ- وَضَرَبَ لَنَا مَثَلاً وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ- قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ ‘মানুষ কি দেখে না যে, আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু হ’তে? অথচ সে এখন হয়ে পড়েছে প্রকাশ্যে বিতর্ককারী। ‘মানুষ আমাদের সম্পর্কে নানা উপমা দেয়। অথচ সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে ভুলে যায়। আর বলে, কে এই পচা-গলা হাড়-হাড্ডিকে পুনর্জীবিত করবে? ‘তুমি বলে দাও, ওকে পুনর্জীবিত করবেন তিনি, যিনি ওটাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। বস্ত্ততঃ তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবহিত’ (ইয়াসীন ৩৬/৭৭-৭৯)।

তোমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছ, তোমরা এই যে, শূক্রকীট নিক্ষেপ কর, তা থেকে তোমরা সন্তান সৃষ্টি কর, না এর সৃষ্টিকর্তা আমরা? আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যুকে নির্ধারণ করেছি, আর আমরা কিছুমাত্র অক্ষম নই এ কাজ থেকে যে, তোমাদের আকৃতি পরিবর্তন করে দেব এবং এমন একটা আকৃতিতে তোমাদের সৃষ্টি করব, যা তোমরা জান না। নিজেদের প্রথম সৃষ্টি লাভকে তো তোমরা জান, তাহলে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? –সূরা ওয়াকিয়াঃ ৫৮-৬২

অধিক ধন-সম্পদ মানুষকে অনেক সময় অহংকারী করে তোলে। মাল ও সন্তান মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। কিন্তু মানুষ অনেক সময় এর দ্বারা ফেৎনায় পতিত হয় এবং অহংকারে স্ফীত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়। দৃষ্টান্ত স্বরূপ আল্লাহ ক্বারূণের কথা বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেন,

إِنَّ قَارُونَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوسَى فَبَغَى عَلَيْهِمْ وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا إِنَّ مَفَاتِحَهُ لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ إِذْ قَالَ لَهُ قَوْمُهُ لاَ تَفْرَحْ إِنَّ اللهَ لاَ يُحِبُّ الْفَرِحِينَ- … قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ اللهَ قَدْ أَهْلَكَ مِنْ قَبْلِهِ مِنَ الْقُرُونِ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ قُوَّةً وَأَكْثَرُ جَمْعًا وَلاَ يُسْأَلُ عَنْ ذُنُوبِهِمُ الْمُجْرِمُونَ

‘ক্বারূণ ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত। কিন্তু সে তাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল। আমরা তাকে এমন ধন-ভান্ডার দান করেছিলাম, যার চাবিসমূহ বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল। তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিকদের পসন্দ করেন না।’ … ‘সে বলল, এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞান বলে প্রাপ্ত হয়েছি। অথচ সে কি জানে না যে, আল্লাহ তার পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছেন, যারা তার চাইতে শক্তিতে প্রবল ছিল এবং সম্পদে প্রাচুর্যময় ছিল। আর অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না (তারা সরাসরি জাহান্নামে যাবে)’ (ক্বাছাছঃ৭৬, ৭৮)।

ক্বারূণী ধন সবাই পেতে চায়। কিন্তু তা মানুষকে অহংকারী করে তোলে। যা তাকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করে। যেমন

আল্লাহ বলেন,فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ فَمَا كَانَ لَهُ مِنْ فِئَةٍ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللهِ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُنْتَصِرِينَ

‘অতঃপর আমরা ক্বারূণকে ও তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে ধ্বসিয়ে দিলাম। ফলে তার পক্ষে এমন কোন দল ছিল না, যে আল্লাহর শাস্তি হতে তাকে সাহায্য করতে পারে এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না’ (ক্বাছাছঃ ৮১)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِى صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَيُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ فِى جَهَنَّمَ يُسَمَّى بُولَسَ تَعْلُوهُمْ نَارُ الأَنْيَارِ يُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ طِينَةِ الْخَبَالِ

‘অহংকারী ব্যক্তিগণ কিয়ামতের দিন উঠবে মানুষের রূপে পিঁপড়া সদৃশ। সর্বত্র লাঞ্ছনা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। অতঃপর তাদের ‘বূলাস’ নামক জাহান্নামের এক কারাগারের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যেখানে লেলিহান অগ্নি তাদেরকে ঢেকে ফেলবে। সেখানে তারা জাহান্নামীদের পোড়া দেহের গলিত পুঁজ-রক্তে পূর্ণ ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ নামক নদী থেকে পান করবে।তিরমিযী হা/১৮৬২, ২৪৯২, মিশকাত হা/৩৬৪৩, ৫১১২।

১৮:৩৮ لٰکِنَّا۠ هُوَ اللّٰهُ رَبِّیۡ وَ لَاۤ اُشۡرِکُ بِرَبِّیۡۤ اَحَدًا

৩৮. কিন্তু তিনিই আল্লাহ, আমার রব এবং আমি কাউকেও আমার রব-এর সাথে শরীক করি না।

সাহাবী মুআয বিন জাবাল (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে একটি গাধার পিঠে বসে ছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন,’’

يا معاذ أتدري ما حق الله على العباد، وما حق العباد على الله؟ قلت الله ورسوله أعلم، قال: حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا، قلت يا رسول الله أفلا أبشر الناس؟ قال: لا تبشرهم فيتكلوا (أخرجاه في الصحيحين)

‘‘হে মুআয, তুমি কি জানো, বান্দার উপর আল্লাহর কি হক রয়েছে? আর আল্লাহর উপর বান্দার কি হক আছে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে তারা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হচ্ছে ‘‘যারা তার সাথে

কাউকে শরিক করবে না, তাহলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন না।’’ আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি কি এ সুসংবাদ লোকদেরকে জানিয়ে দেব না? তিনি বললেন, তুমি তাদেরকে এ সুসংবাদ দিওনা, তাহলে তারা ইবাদত ছেড়ে দিয়ে [আল্লাহর উপর ভরসা করে] হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। (বুখারি ও মুসলিম)

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا (النساء: 36)

‘‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। আর তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। (নিসা: ৩৬)

১৮:৩৯ وَ لَوۡ لَاۤ اِذۡ دَخَلۡتَ جَنَّتَکَ قُلۡتَ مَا شَآءَ اللّٰهُ ۙ لَا قُوَّۃَ اِلَّا بِاللّٰهِ ۚ اِنۡ تَرَنِ اَنَا اَقَلَّ مِنۡکَ مَالًا وَّ وَلَدًا

৩৯. তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে তখন কেন বললে না, আল্লাহ যা চান তা-ই হয়, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোন শক্তি নেই? তুমি যদি ধনে ও সস্তানে আমাকে তোমার চেয়ে নিকৃষ্টতর মনে কর—

অর্থাৎ “আল্লাহ যা চান তাই হবে। আমাদের যদি কোন কিছু চলতে পারে তাহলে তা চলতে পারে একমাত্র আল্লাহরই সুযোগ ও সাহায্য -সহযোগিতা দানের মাধ্যমেই। এ আয়াত থেকে সালফে সালেহীনের কেউ কেউ বলেনঃ

কোন পছন্দনীয় বস্তু দেখার পর যদি (مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) বলে দেয়া হয়, তবে কোন বস্তু তার ক্ষতি করে না। [ইবন কাসীর] অর্থাৎ পছন্দনীয় বস্তুটি নিরাপদ থাকে বা তাতে চোখ লাগার মত ক্ষতি হয় না।

সহীহ হাদীসেও এ আয়াতের মত একটি হাদীস এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেনঃ “আমি কি তোমাকে জান্নাতের একটি মূল্যবান সম্পদের সন্ধান দেব না? সেটা হলো: “লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” [বুখারী: ৬৩৮৪, মুসলিম: ২৭০৪]

আবার কোন কোন বর্ণনায় বলা হয়েছে, জান্নাতের সে মূল্যবান সম্পদ হলো: “লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। [মুসনাদে আহমাদ: ২/৩৩৫]

আবু মুসা আশআরী রা. হতে বার্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন,

أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَلِمَةٍ هِيَ كَنْزٌ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ، لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ‏

“তোমাকে জান্নাতের অন্যতম ধনভাণ্ডারের কথা বলে দেব না কি?”

আমি বললাম, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রাসূল!’

তিনি বললেন, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ (লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)

অর্থ: “আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত অনিষ্ট ও পাপ কর্ম থেকে বাঁচার এবং কল্যাণ লাভ ও সৎকর্ম করার কোনও ক্ষমতা নেই।” [বুখারী ও মুসলিম]

ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أَكْثِرُوا مِنْ غِرَاسِ الجَنَّةِ، فَإِنَّهُ عَذْبٌ مَاؤُهَا، طَيِّبٌ تُرَابُهَا، فَأَكْثِرُوا مِنْ غِرَاسِهَا”. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ: وَمَا غِرَاسُهَا؟ قَالَ: “مَا شَاءَ اللهُ، لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ

“তোমরা জান্নাতে বেশি পরিমাণে চারা গাছ রোপন করো। কারণ জান্নাতের পানি সুমিষ্ট এবং মাটি পবিত্র। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতের চারা গাছ রোপন কী?

তিনি বললেন, “মাশাআল্লাহ! লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।”

[ইবনে আবিদ দুনিয়া যিকর অধ্যায়ে ও তবারানী। শায়খ আলবানি তাগিব-তারহীব গ্রন্থে এটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।]

যদি কেউ নিজে কখনো মনের মাঝে অহংকার বা সমস্যা ফিল করে গুরুর তখ যেনো বলে লাহাওলা ওয়ালা…

যদি কেউ এইরকম হিংসা আসে কারো ব্যপারে তাহলে এটা বলা লা হাওলা ওয়ালা…

মাশা আল্লাহ, বারাকাল্লাহু লাক-আপনার বারাকা বৃদ্ধি করে দিন।

১৮:৪০ فَعَسٰی رَبِّیۡۤ اَنۡ یُّؤۡتِیَنِ خَیۡرًا مِّنۡ جَنَّتِکَ وَ یُرۡسِلَ عَلَیۡهَا حُسۡبَانًا مِّنَ السَّمَآءِ فَتُصۡبِحَ صَعِیۡدًا زَلَقًا

৪০. তবে হয়ত আমার রব আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তোমার বাগানে আকাশ থেকে নির্ধারিত বিপর্যয় পাঠাবেন, যার ফলে তা উদ্ভিদশূন্য ময়দানে পরিণত হবে।

ইবনে আব্বাস এর অর্থ নিয়েছেন আযাব। অপর কারও মতে, অগ্নি। আবার কেউ কেউ অর্থ নিয়েছেন প্রস্তর বর্ষণ। কোন কোন মুফাসসিরের মতে এর অর্থ, এমন বৃষ্টিপাত যাতে গাছ-গাছড়া উপড়ে যায়, ফসলাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। [ইবন কাসীর

১৮:৪১ اَوۡ یُصۡبِحَ مَآؤُهَا غَوۡرًا فَلَنۡ تَسۡتَطِیۡعَ لَهٗ طَلَبًا ﴿

৪১. অথবা তার পানি ভূগর্ভে হারিয়ে যাবে এবং তুমি কখনো সেটার সন্ধান লাভে সক্ষম হবে না।

অর্থাৎ যে আল্লাহর হুকুমে তুমি এসব কিছু লাভ করেছে তাঁরই হুকুমে এসব কিছু তোমার কাছ থেকে ছিনিয়েও নেয়া যেতে পারে। তুমি যদি এখন প্রচুর পানি পাওয়ার কারণে ক্ষেত-খামার করার সুবিধা লাভ করে আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করে কাফের হয়ে যাচ্ছ, তবে মনে রেখো তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদের এ পানি পুনরায় ভূগর্ভে প্রোথিত করে দিতে পারেন, তারপর তুমি কোন ভাবেই তা আনতে সক্ষম হবে না। কুরআনের অন্যত্রও এ কথা বলে মহান আল্লাহ তাঁর এ বিরাট নেয়ামত পানি নিঃশেষ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেনঃ “বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছি কি যদি পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন কে তোমাদেরকে এনে দেবে প্রবাহমান পানি?” [সূরা আল-মুলক: ৩০] [ইবন কাসীর]

১৮:৪২ وَ اُحِیۡطَ بِثَمَرِهٖ فَاَصۡبَحَ یُقَلِّبُ کَفَّیۡهِ عَلٰی مَاۤ اَنۡفَقَ فِیۡهَا وَ هِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوۡشِهَا وَ یَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِیۡ لَمۡ اُشۡرِکۡ بِرَبِّیۡۤ اَحَدًا

৪২. আর তার ফল-সম্পদ বিপর্যয়ে বেষ্টিত হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল তার জন্য হাতের তালু মেরে আক্ষেপ করতে লাগল যখন তা মাচানসহ ভূমিতে লুটিয়ে পড়ল। সে বলতে লাগল, ‘হায়, আমি যদি কাউকেও আমার রব-এর সাথে শরীক না করতাম!

এটা হল ধ্বংস ও বিনাশেরই আভাস। অর্থাৎ, তার পুরো বাগানটাই ধ্বংস করে দেওয়া হল।

বাগান প্রস্তুত ও সংস্কারের কাজে এবং চাষাবাদে যে অর্থ ব্যয় সে করেছিল, তার জন্য আক্ষেপের হাত কচলাতে লাগল। হাত কচলানোর অর্থ, অনুতপ্ত হওয়া।

যে মাচান ও ছাদ-ছপ্পরের উপর আঙ্গুরের লতা রাখা ছিল, সেগুলো সব যমীনে পড়ে গেল এবং আঙ্গুরের সমস্ত ফসল ধ্বংস হয়ে গেল।

এখন সে অনুভব করতে পেরেছে যে, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশী স্থাপন করা, তাঁর যাবতীয় নিয়ামত দ্বারা প্রতিপালিত ও উপকৃত হয়ে তাঁর বিধি-বিধানকে অস্বীকার করা ও তাঁর অবাধ্যতা করা কোনভাবেই কোন মানুষের জন্য উচিত নয়। তবে এখন আক্ষেপ ও অনুতাপ কোন ফল দেবে না। ধ্বংসের পর আফসোস করলে আর কি হবে? ইরশাদ হয়েছে–

এমনকি যমীনের উৎপাদন –যা মানুষ ও জন্তু সকলেই খায় –খুব পুঞ্জীভূত হয়ে সুশোভিত হয়ে উঠল –তখন এর মালিকগণ মনে করছিল যে, তারা এখন তা ভোগ করতে সক্ষম। তখণ সহসা রাতের বেলা কিংবা দিনের বেলা আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছল এবং আমরা তা এমনভাবে ধ্বংস করে ফেললাম, যেন গতকাল সেখানে কিছুই ছিল না। আমরা চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এভাবে নিদর্শনসমূহ বিস্তারিতভাবে পেশ করি।–সূরা ইউনুসঃ ২৪

১৮:৪৩ وَ لَمۡ تَکُنۡ لَّهٗ فِئَۃٌ یَّنۡصُرُوۡنَهٗ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَ مَا کَانَ مُنۡتَصِرًا

৪৩. আর আল্লাহ ছাড়া তাকে সাহায্য করার কোন লোকজন ছিল না এবং সে নিজেও প্রতিকারে সমর্থ হলো না।

১৮:৪৪ هُنَالِکَ الۡوَلَایَۃُ لِلّٰهِ الۡحَقِّ ؕ هُوَ خَیۡرٌ ثَوَابًا وَّ خَیۡرٌ عُقۡبًا ﴿

৪৪. এখানে কর্তৃত্ব আল্লাহরই, যিনি সত্য। পুরস্কার প্রদানে ও পরিণাম নির্ধারণে তিনিই শ্রেষ্ঠ।

আয়াতটির অর্থ নির্ধারণে দু’টি প্রসিদ্ধ মত এসেছে:

এক, আয়াতে উল্লেখিত هنالك শব্দটির অর্থ আগের বাক্যের সাথে করা হবে। আর الولاية থেকে নতুনভাবে অর্থ করা হবে। সে মতে পূর্বের আয়াতের অর্থ হবেঃ যেখানে আল্লাহর আযাব নাযিল হয়েছে সেখানে আল্লাহ ছাড়া তাকে সাহায্য করার কোন লোকজন ছিল না এবং সে নিজেও প্রতিকারে সমর্থ হলো না।

দুই, আর যদি هنالك শব্দটিকে এ আয়াতের পরবর্তী বাক্য الولاية এর সাথে মিলিয়ে অর্থ করা হয় তখন আয়াতের দু’ধরনের অর্থ হয়।

যদি الولاية শব্দটির واو এর উপর فتحة দিয়ে পড়া হয় তখন শব্দটির অর্থ হয়, অভিভাবকত্ব, বন্ধুত্ব। আর আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়: যখন আযাব নাযিল হয় তখন কাফের বা মুমিন সবাই অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবে একমাত্র আল্লাহর দিকেই ফিরবে, তাঁর আনুগত্য মেনে নিবে। এর বাইরে কোন কিছু চিন্তাও করবে না। যেমন কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে,

“তারপর তারা যখন আমার শাস্তি দেখতে পেল। তখন বলল, আমরা এক আল্লাহতেই ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদেরকে শরীক করতাম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম। [সূরা মুমিন/ গাফের: ৮৪]

অনুরূপভাবে ফিরআউনের মুখ থেকেও বিপদকালে এ কথাই বের হয়েছিল, মহান আল্লাহ বলেনঃ “পরিশেষে যখন সে নিমজ্জামান হল তখন বলল, “আমি বিশ্বাস করলাম বনী ইসরাঈল যার উপর বিশ্বাস করে। নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আত্মসমৰ্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ‘এখন! ইতিপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে?” [সূরা ইউনুসঃ ৯০–৯১]

আর যদি الولاية শব্দটির واو এর নীচে كسرة দিয়ে পড়া হয়। যেমনটি কোন কোন قراءة তে আছে, তখন শব্দটির অর্থ হয় ক্ষমতা, নির্দেশ ও আইন। আর আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়: যখন আযাব নাযিল হবে তখন একমাত্র মহান আল্লাহর ক্ষমতা, আইন ও নির্দেশই কার্যকর হবে। অন্য কারো কোন কথা চলবে না। তিনি তাদের ধ্বংস করেই ছাড়বেন। [ইবন কাসীর]

(২) আয়াতের দুটি অর্থ করা যায়।

এক, তখন একমাত্র হক্ক ও সত্য ইলাহ আল্লাহ তা’আলারই কর্তৃত্ব। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে,

“তারপর তাদের হক্ক ও সত্য প্রতিপালক আল্লাহর দিকে তারা ফিরে আসে। দেখুন, কর্তৃত্ব তো তাঁরই এবং হিসেব গ্রহনে তিনিই সবচেয়ে তৎপর।” [সূরা আল-আন’আম: ৬২]

দুই, তখন একমাত্র হক্ক ও সত্য কর্তৃত্ব ও অভিভাবকত্ব আল্লাহরই। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে, “সে দিন সত্য ও হক্ক কর্তৃত্ব ও অভিভাকত্ত্ব হবে কেবলমাত্র দয়াময়ের এবং কাফিরদের জন্য সে দিন হবে কঠিন।” [সূরা আল-ফুরকান: ২৬] [ইবন কাসীর]

দাওয়াহর পদ্ধতিঃ

অহংকারী বন্ধুটি তার পার্থিব সম্পদকে অবিনশ্বর ভেবে শেষ পর্যন্ত পরকালকে অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফরি করেছিলো। পরিণামে তার দ্বীনি বন্ধুটি তাকে প্রথমেই আল্লাহর অস্তিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। সে চাইলে প্রথমে বোঝাতে পারতো কেন এই পার্থিব সম্পদ ধ্বংসশীল। কিন্তু তা না করে সে শুরুতেই আল্লাহর অস্তিত্বের কথা এবং মানুষ কত তুচ্ছ অবস্থা থেকে ধাপে ধাপে পরিপূর্ণ বয়সে উপনীত হয় (অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্যের কথা) স্মরণ করিয়ে দিলো। মহান আল্লাহ বলেন-

“তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললো, তুমি তাঁকে অস্বীকার করছো, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে?” [সূরা কাহফ(১৮): ৩৭]

যদিও অহংকারী বন্ধুটি সরাসরি আল্লাহকে অস্বীকার করার কথা বলেনি বরং বিচার দিবসকে অস্বীকার করেছিলো, তথাপি দ্বীনি বন্ধুটির উপরোক্ত কথা থেকে বোঝা যায় বিচার দিবসকে অস্বীকার করা আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল।

আল্লাহর অস্তিত্বের দাওয়াহ দেওয়ার পর সে আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াহ দিলো। মহান আল্লাহ বলেন-

“কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না।” [সূরা কাহফ(১৮): ৩৮]

এভাবেই দ্বীনদার বন্ধুটি আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াহ দেওয়ার পাশাপাশি শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। এছাড়াও আল্লাহর আযাবের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করতে হবে। এটাও দাওয়াহর অন্তর্ভুক্ত। দ্বীনদার বন্ধুটি তার বন্ধুকে সতর্ক করে বলেছিলো

“…তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে। অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না…” [সূরা কাহফ(১৮): ৪০-৪১]

দুনিয়ার ভোগ ও সম্পদের লালসাতে মানুষ কিভাবে চলছে, এই বিষয়ে রাসূল সা কি বলেছেন–

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) একদিন মিম্বরে বসলেন এবং আমরা তাঁর আশেপাশে বসলাম। এ সময় তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদের জন্য যার আশঙ্কা করছি তা হ’ল এই যে, তোমাদের উপরে দুনিয়ার শোভা ও তার সৌন্দর্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে’। বুখারী হা/১৪৬৫; মিশকাত হা/৫৯৫৭।

এমনকি তিনি তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর উম্মতের শিরকে লিপ্ত হওয়ার চাইতে বরং দুনিয়া অর্জনের প্রতিযোগিতাকেই বেশী ভয় করতেন। বিদায় হজ্জ শেষে মদীনায় ফিরে তিনি মসজিদে নববীর মিম্বরে বসে সমবেত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি তোমাদের আগেই চলে যাচ্ছি এবং আমি তোমাদের উপরে সাক্ষ্যদানকারী হব। তোমাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে ‘হাউযে কাওছারে’। আমি এখুনি আমার ‘হাউযে কাওছার’ দেখতে পাচ্ছি। আমাকে পৃথিবীর সম্পদরাজির চাবিসমূহ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমার এ ভয় নেই যে, আমার পরে তোমরা শিরকে লিপ্ত হবে। কিন্তু আমার আশংকা হয় যে, তোমরা দুনিয়া অর্জনে পরস্পরে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, অতঃপর তোমরা পরস্পরে লড়াই করবে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে, যেমন তোমাদের পূর্বের লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে’। বুখারী ফাৎহুল বারী হা/৪০৪২-এর আলোচনা; মুসলিম হা/২২৯৬

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন-

‘যদি আমার নিকট ওহোদ পাহাড় সমান সোনা থাকত, তাহ’লে আমি এতে আনন্দিত হ’তাম যে, ঋণ পরিশোধের মত বাকী রেখে অবশিষ্ট সম্পদ তিনদিন অতিবাহিত না হ’তেই আল্লাহর পথে খরচ করে ফেলি’। মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৮৫৯।

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন

‘দুর্ভোগ বিত্তবানদের জন্য। তবে তারা ব্যতীত যারা ধন-সম্পদ সম্পর্কে বলে, এইভাবে এইভাবে এইভাবে এইভাবে অর্থাৎ ডানে, বামে, সামনে ও পিছনে চারদিকে (ব্যয় কর)’। ইবনু মাজাহ হা/৪১২৯, সনদ হাসান; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৪১২।

অর্থাৎ সে তার সম্পদকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে ব্যয় করে। এভাবে বিভিন্ন হাদীছে রাসূল (ছাঃ) প্রাচুর্যের ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে ধনী হওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করেছেন।

প্রাচুর্যশীল ব্যক্তি দুনিয়ার বিলাসিতা ভুলে যাবে :

সম্পদশালী ব্যক্তি আখেরাতে ব্যর্থ হ’লে একবার জাহান্নামের সাক্ষাৎ ঘটলেই দুনিয়ার সকল প্রাচুর্য ও বিলাসিতা ভুলে যাবে। আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন,

‘ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হ’তে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার চুবানো হবে, তারপর তাকে বলা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো কল্যাণ দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখনো সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম হে প্রভু!

অপরদিকে জান্নাতীদের মধ্য হ’তে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে পৃথিবীতে সবচেয়ে দুঃখী ও অভাবী ছিল। তাকে জান্নাতে ঢুকানোর পর বলা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো কষ্ট দেখেছ? তোমার উপরে কি কখনো বিপদ অতিক্রম করেছে? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম! আমার উপর কোনদিন কোন কষ্ট আসেনি এবং আমি কখনো কোন বিপদও দেখিনি’। মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৬৯।

তাই আমাদের সামনে রাখা প্রয়োজন মহান আল্লাহর বানী-

আর আপনি আপনার দু’চোখ কখনো প্রসারিত করবেন না সে সবের প্রতি, যা আমরা বিভিন্ন শ্রেণীকে দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি, তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। আর আপনার রব-এর দেয়া রিযিকই সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী। সূরা ত্বহাঃ ১৩১

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তোমাদের রূপ ও ধন-সম্পদ দেখেন না, তিনি তোমাদের অন্তর ও কাজকর্ম দেখেন। [মুসলিম: ২৫৬৪]

 

 

 

আমরা অনেকেই `Inshallah’ একত্রে লিখি যার অর্থ: “আল্লাহকে সৃষ্টি করা।” বরং লিখতে হবে এভাবে লিখতে হবে “In shaa allah”—এটা কি সঠিক?

উত্তর:

এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। ইনশাল্লাহ/ Inshallah অর্থ: “আল্লাহকে সৃষ্টি করা”-এটা ভুল অর্থ।

প্রকৃতপক্ষে আরবিতে ‘ইনশাল্লাহ’ এর কোনও অর্থ নেই। বরং ইনশাউল্লাহ/ Inshaullah/ ِإِنْشَاءُ الله অর্থ: আল্লাহর সৃষ্টি, রচনা, লিখন, গঠন ইত্যাদি।

যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءً “আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।” [সূরা ওয়াকিয়া: ৩৫]

আর ইনশাইল্লাহ/Inshaillah/ َإنْشَئِ الله [এটি فعل الأمر বা অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া] অর্থ: আল্লাহকে সৃষ্টি করো, গঠন করো ইত্যাদি।

এত:এব `Inshallah’ অর্থ: “আল্লাহকে সৃষ্টি করা”—এমন ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে সমস্যায় ফেলা সমীচীন নয়।

হ্যাঁ,লেখার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধভাবে লেখার চেষ্টা করা কর্তব্য। আর তা এভাবে লেখা:

– ইনশাআল্লাহ/ InshaAllah/إِنْ شَاءَ اللهُ

– অথবা ইনশা-আল্লাহ/ Insha-Allah

– অথবা “In shaa-Allaah”

এর অর্থ: “আল্লাহ যদি চান।”

তবে কেউ যদি অজ্ঞতা বশত: ইনশাল্লাহ/ Inshallah লিখে ফেলে তাহলে তা অবশ্যই বানানগত ভুল। তবে এ কারণে ‘আল্লাহকে সৃষ্টি করা’র মত অর্থ প্রকাশিত হয় না।

সুতরাং এভাবে লিখলেও গুনাহ হবে না। তবে জেনে-বুঝে এভাবে লেখা উচিৎ নয় বরং তা বিশুদ্ধভাবে লেখার চেষ্টা করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, কুরআন ছাড়া সাধারণ কথাবার্তায় তাজবিদের সব নিয়ম-কানুন অনুসরণীয় নয়। সুতরাং আরবিতে إِنْ شَاءَ اللهُ বাক্যটিতে তিনটি শব্দ পৃথক পৃথক লেখা হলেও বাংলা বা ইংরেজিতে সেগুলো পৃথক পৃথক লেখা আবশ্যক নয়। অনুরূপভাবে এখানে মাদ্দে মুত্তাসিল (চার আলিফ টান) বা ইখফা (যেমন: ইং শাআল্লাহ) এর উচ্চারণ প্রকাশ করাও জরুরি নয়।

তবে মুখে উচ্চারণের সময় ‘শা’ এর পরে সর্ব নিম্ন এক আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে। কারণ এটা আরবির ভাষাগত স্বাভাবিক উচ্চারণ।

আল্লাহু আলাম।

প্রশ্ন: অনেকে `মাশাআল্লাহ’ কে`মাশাল্লাহ’ লেখে। তা কি সঠিক হবে?

উত্তর:

সঠিক উচ্চারণ: ‘মাশাআল্লাহ’/MashaAllah/مَا شَاءَ اللَّهُ

অর্থ: “আল্লাহ যা চেয়েছেন।”

তাই এভাবেই লিখতে হবে। তবে কেউ সঠিক নিয়মটি না জানার কারণে ‘মাশাল্লাহ’ বা ‘মাশাল্লা’ বললে বা লিখলে তাতে গুনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ। কারণ তা ‌আরবি ভাষাগতভাবে অশুদ্ধ হলেও তাতে অর্থগত বিকৃতি সৃষ্টি হয় না।

❑ প্রশ্ন: জিকির করার সময় কী বলতে হয় ‘সুবাহান-আল্লাহ’ না কি ‘সুবাহানাল্লাহ’?

উত্তর:

সঠিক উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হ বা সুবহানাল্লাহ/Subhanallah/سُبْحَانَ اللّهِ

অর্থ: “আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।”

তবে ‘সুবহান-আল্লাহ’ আরবি ভাষা রীতি অনুযায়ী অশুদ্ধ হলেও যেহেতু অর্থগত কোন বিকৃতি সৃষ্টি হয় না তাই তাতে গুনাহ নেই ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য যে, ‘ইনশা-আল্লাহ’, ‘সুবহা-নাল্লাহ’, ‘মাশা-আল্লাহ’ শব্দগুলো কুরআনের আয়াতের অংশ। তাই কুরআন তিলাওয়াতের সময় সেগুলো তাজবিদ ও মাখরাজের নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করে বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।▬▬▬✪✪✪▬▬▬

-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-

 

এই ঘটনাটি সূরা কাহফের ৩২-৪৪ আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। এই ঘটনার মূলকথা হলো- “সম্পদের পরীক্ষা”। এছাড়াও এতে এসব শিক্ষা রয়েছে-

https://www.muslimmedia.info/2016/08/29/surah-kahf-two-owners-of-gardens

(১) অতিরিক্ত পার্থিব সম্পদের ভয়াবহতাঃ

মানুষের জীবনধারণের জন্য সম্পদের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। কিন্তু অতিরিক্ত সম্পদ অনেক সময় আল্লাহর দ্বীন ও স্মরণ থেকে আমাদেরকে গাফেল করে ফেলতে পারে। সম্পদের লোভে অন্ধ মানুষের হাতে যখন সম্পদ এসে যায় তখন এই সম্পদ তাকে ইহকাল তো বটেই, পরকাল সম্পর্কেও গাফেল করে দিতে পারে। এই বিষয়টি আমরা জানতে পারি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে-

“আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দু’টিকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র। উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করতো না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি। সে ফল পেলো। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললো, আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী। নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করলো। সে বললো, আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাবো।”

[সূরা কাহফ(১৮): ৩৩-৩৬]

এখানে দেখা যায়, আল্লাহ সেই দুই বন্ধুর একজনকে এমন দুটি বাগান দিয়েছিলেন যেগুলো ছিল খেজুর গাছ দিয়ে পরিবেষ্টিত, সর্বদা ফলদানকারী, দুয়ের মাঝে ছিল শস্যক্ষেত্র আর জলাশয়। অর্থাৎ সবদিক দিয়েই এই বাগান দুটি ছিল একজন কৃষকের জন্য স্বপ্নতুল্য। এই বিরাট নিয়ামত পেয়ে অহংকারী বন্ধুটি নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শুরু করল। প্রথমে সে দাবী করল এই দুনিয়াবী সম্পদ অবিনশ্বর, এরপর সরাসরি পরকালকেই অস্বীকার করে বসলো। আল্লাহ আমাদেরকে এমন সম্পদ থেকে রক্ষা করুন যা আমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয়।

(২) পাপী ব্যক্তি মূলত নিজের উপরেই জুলুম করেঃ

আল্লাহ বলেন- “…নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করলো।… ” [সূরা কাহফ(১৮): ৩৫]

মানুষের পাপের ভার মানুষকেই বহন করতে হয়, হয় ইহকালে নয়তো পরকালে। পাপের কারণে একজন মানুষ অন্যের যে ক্ষতি করে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করে নিজের। একারণে পাপ মূলত নিজের উপরেই জুলুম।

(৩) ‘পার্থিব সম্পদ ক্ষণস্থায়ী’-একথা মনে রেখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাঃ

দুনিয়াবী ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী। স্থায়ী কেবল বান্দার আমল। আল্লাহ চাইলে নিমেষের মধ্যেই আমাদের সমস্ত ধন-সম্পদ কেড়ে নিতে পারেন। আলোচ্য ঘটনায় অহংকারী বন্ধুটি অহংকার করার কারণে আল্লাহ শাস্তিস্বরূপ তার স্বপ্নের বাগান ধংস করে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন-

“অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেলো এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিলো, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগলো। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিলো…” [সূরা কাহফ(১৮): ৪২]

সুতরাং এই ক্ষণস্থায়ী পার্থিব সম্পদে আকৃষ্ট হওয়া কোনো মুমিনের কাজ নয়। হালাল পন্থায় জীবন নির্বাহের জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুর দিকেই আমাদের দৃষ্টিপাত করা উচিৎ। পাশাপাশি আমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর সমস্ত সম্পদের জন্য সার্বক্ষণিক আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে, মনে রাখতে হবে এই সম্পদ প্রাপ্তির পেছনে আমাদের কোনো হাত নেই। একমাত্র আল্লাহই মানুষকে সম্পদ দেন, আবার আল্লাহই সম্পদ কেড়ে নেন। সম্পদের মোহে অন্ধ হয়ে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া তাই চূড়ান্ত মূর্খতা। দ্বীনদার বন্ধুটি তার অহংকারী বন্ধুকে সম্পদের শুকরিয়া জ্ঞাপন করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলো-

“যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখো, তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন এ কথা কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তা-ই হয়। আল্লাহর দেওয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই।” [সূরা কাহফ(১৮): ৩৯]

(৪) দাওয়াহর পদ্ধতিঃ

অহংকারী বন্ধুটি তার পার্থিব সম্পদকে অবিনশ্বর ভেবে শেষ পর্যন্ত পরকালকে অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফরি করেছিলো। পরিণামে তার দ্বীনি বন্ধুটি তাকে প্রথমেই আল্লাহর অস্তিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। সে চাইলে প্রথমে বোঝাতে পারতো কেন এই পার্থিব সম্পদ ধ্বংসশীল। কিন্তু তা না করে সে শুরুতেই আল্লাহর অস্তিত্বের কথা এবং মানুষ কত তুচ্ছ অবস্থা থেকে ধাপে ধাপে পরিপূর্ণ বয়সে উপনীত হয় (অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্যের কথা) স্মরণ করিয়ে দিলো। মহান আল্লাহ বলেন-

“তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললো, তুমি তাঁকে অস্বীকার করছো, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে?” [সূরা কাহফ(১৮): ৩৭]

যদিও অহংকারী বন্ধুটি সরাসরি আল্লাহকে অস্বীকার করার কথা বলেনি বরং বিচার দিবসকে অস্বীকার করেছিলো, তথাপি দ্বীনি বন্ধুটির উপরোক্ত কথা থেকে বোঝা যায় বিচার দিবসকে অস্বীকার করা আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল।

আল্লাহর অস্তিত্বের দাওয়াহ দেওয়ার পর সে আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াহ দিলো। মহান আল্লাহ বলেন-

“কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না।” [সূরা কাহফ(১৮): ৩৮]

এভাবেই দ্বীনদার বন্ধুটি আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াহ দেওয়ার পাশাপাশি শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। এছাড়াও আল্লাহর আযাবের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করতে হবে। এটাও দাওয়াহর অন্তর্ভুক্ত। দ্বীনদার বন্ধুটি তার বন্ধুকে সতর্ক করে বলেছিলো

“…তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে। অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না…” [সূরা কাহফ(১৮): ৪০-৪১]

(৫) আল্লাহ-র কাছে উত্তম প্রতিদানের আশা রাখাঃ

প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হলো ঈমান ও সৎ আমল বজায় রাখার পাশাপাশি কিয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান আশা করা। আলোচ্য ঘটনার দ্বীনদার বন্ধুটি এর ব্যতিক্রম ছিলো না। সে বলেছিলো-

“আশাকরি আমার পালকর্তা আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন…”

[সূরা কাহফ(১৮): ৪০]

(৬) পাপ করে ফেলার পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসাঃ

মানুষের দ্বারা পাপ হতেই পারে। কিন্তু আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বোত্তম যে পাপ করে ফেলার পর দ্রুত অনুতপ্ত হয়, তাওবাহ করে এবং ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করে। তাওবাহর ফযীলত কুরআনের অসংখ্য আয়াত এবং অসংখ্য হাদীস থেকে প্রমাণিত। এই শিক্ষাটি আমরা দেখি সেই অহংকারী বন্ধুটির মাঝে যখন তার বাগান আল্লাহর আযাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো আর সে বলেছিলো-

“অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেলো এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিলো, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগলো। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিলো। সে বলতে লাগলো, হায়! আমি যদি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম…” [সূরা কাহফ(১৮): ৪২]

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।