কুর’আনের মাস রমাদানে করনীয় ও ইতিকাফ-২০২৪

আসসালামু’আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

Power point presentation

কুর’আনের মাস রমাদানে করনীয় ও ইতিকাফ

 

ইতিকাফ করাঃ

ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- অবস্থান করা। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্যেও হতে পারে, অল্প সময়ের জন্যেও হতে পারে। শরিয়তের এমন কোন দলীল পাওয়া যায় না যা নির্দিষ্ট কোন সময়সীমার মধ্যে ইতিকাফকে সীমাবদ্ধ করে দিবে।

ইবনে হাযম বলেছেন:

“আরবী ভাষায় ইতিকাফ শব্দের অর্থ-অবস্থান করা। তাই আল্লাহর মসজিদে তাঁর নৈকট্য লাভের আশায় যে কোন অবস্থানই হল ইতিকাফ। সেটা কম সময়ের জন্যে হোক অথবা বেশি সময়ের জন্যে হোক। যেহেতু কুরআন ও সুন্নাহ নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বা সময় নির্ধারণ করেনি” সমাপ্ত। [আল-মুহাল্লা (৫/১৭৯)]

ইতিকাফের হুকুম কী?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমার দলিলের ভিত্তিতে ইতিকাফ শরয়ি বিধান।

কুরআনের দলিল হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী: “এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১২৫]

এবং আল্লাহ্‌র বাণী: “আর যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে যৌনকর্ম করো না।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৮৭]

হাদিসের দলিল: এ সংক্রান্ত অনেক হাদিস রয়েছে। যেমন আয়েশা (রাঃ) এর হাদিস: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমযান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন।”[সহিহ বুখারী (২০২৬) ও সহিহ মুসলিম (১১৭২)]

 

ইজমা: একাধিক আলেম ইতিকাফ শরয়ি বিধান হওয়ার পক্ষে ইজমা উদ্ধৃত করেছেন; যেমন- ইমাম নববী, ইবনে কুদামা ও শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া প্রমুখ।[দেখুন: আল-মাজমু (৬/৪০৪), আল-মুগনি (৪/৪৫৬), শারহুল উমদা (২/৭১১)।

শাইখ বিন বায (রহঃ) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে (১৫/৪৩৭) বলেন:

“কোন সন্দেহ নেই ইতিকাফ আল্লাহ্‌র নৈকট্য হাছিলের একটি মাধ্যম। ইতিকাফ রমযান মাসে পালন করা অন্য সময়ে পালন করার চেয়ে উত্তম…। এটি রমযান মাসে ও অন্য সময়ে পালন করা শরিয়তসম্মত।”।[সংক্ষেপিত]

দুই:

ইতিকাফের হুকুম: ইতিকাফের মূল বিধান হচ্ছে- এটি সুন্নত; ওয়াজিব নয়। তবে, কেউ মানত করলে তার উপর ওয়াজিব হবে। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কোন আনুগত্য পালন করার মানত করে সে যেন সেই আনুগত্য আদায় করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র অবাধ্য হওয়ার মানত করে সে যেন আল্লাহ্‌র অবাধ্য না হয়।”[সহিহ বুখারী (৬৬৯৬)

এবং যেহেতু উমর (রাঃ) বলেছেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমি জাহেলি যুগে মাসজিদুল হারামে এক রাত ইতিকাফ করার মানত করেছি। তিনি বললেন: “তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর।”[৬৬৯৭]

ইবনুল মুনযির তাঁর ‘আল-ইজমা’ নামক গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-৫৩) বলেন:

আলেমগণ ইজমা করেছেন যে, ইতিকাফ সুন্নত; ফরয নয়। তবে কেউ যদি মানত করে নিজের উপর ফরয করে নেয় তাহলে ফরয হয়।”[সমাপ্ত]

দেখুন: ড. খালেদ আল-মুশাইকিহ এর ‘ফিকহুল ইতিকাফ’ পৃষ্ঠা- ৩১

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

প্রশ্ন: যদি এলাকার কেউ ইতিকাফে না বসে তাহলে কি পুরো এলাকাবাসী গুনাগার হবে? আর কেউ যদি বসে তাহলে কি পুরো এলাকাবাসী তার সওয়াব লাভ করবে?

উত্তর:

আমাদের দেশে মনে করা হয় যে, সমাজের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তিকে অবশ্যই ইতিকাফে বসতে হবে তা না হলে সবাই গুনাহগার হবে। কিন্তু এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। কারণ, ইতিকাফ হল একটি সুন্নত ইবাদত। যে কোন মুসলিম তা পালন করতে পারে। যে ব্যক্তি তা পালন করবে সে অগণিত সওয়াবের অধিকারী হবে। সবার পক্ষ থেকে একজনকে ইতিকাফে বসতেই হবে এমন কোন কথা শরীয়তে নেই। কেননা তা ফরযে কেফায়াহ নয় রবং সুন্নত।

আল্লাহ তাআলা সকল ক্ষেত্রে তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নতকে যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন এবং সকল বিদআত ও সুন্নত বিরোধী কার্যকলাপ থেকে হেফাযত করুন। আমীন।

—————-

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।।

ইতিকাফ কি যে কোন সময় অনুষ্ঠিত হতে পারে; নাকি রমযান ছাড়া ইতিকাফ করা যায় না?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

বছরের যে কোন সময় ইতিকাফ করা সুন্নত; সেটা রমযানের মধ্যে হোক অথবা রমযানের বাইরে হোক। এর পক্ষে দলিল পাওয়া যায়, ইতিকাফ সংক্রান্ত সাধারণ দলিলগুলো থেকে; যেগুলো রমযান মাস ও অন্য যে কোন মাসকে শামিল করে। দেখুন 48999 নং ফতোয়া।

ইমাম নববী আল-মাজমু গ্রন্থে (৬/৫০১) বলেন:

ইতিকাফ একটি সুন্নত ইবাদত। যা ইজমার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে ইজমার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যে, শুধুমাত্র মান্নতের কারণে ইতিকাফ ফরজ হতে পারে। বেশি বেশি ইতিকাফ করা মুস্তাহাব। রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা মুস্তাহাব; এ সময়ে এর মুস্তাহাব হওয়াটা আরও জোরদার হয়।

তিনি আরও (৬/৫১৪) বলেন:

সর্বোত্তম ইতিকাফ হলো- রোযার সাথে যে ইতিকাফ; রমযান মাসের ইতিকাফ; রমযানের শেষ দশদিনের ইতিকাফ। সমাপ্ত

আলবানি তাঁর ‘কিয়ামু রমযান’ গ্রন্থে বলেন:

ইতিকাফ রমযানে ও রমযানের বাইরে বছরের যে কোন সময় পালন করা সুন্নত। এ বিষয়ে দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত থাক”। এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইতিকাফের ব্যাপারে সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং সলফে সালেহীনদের থেকে মুতাওয়াতির রেওয়ায়েত এসেছে।

উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন, জাহেলী যুগে আমি মান্নত করেছিলাম যে, মসজিদে হারামে এক রাত্রি ইতিকাফ করব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: সুতরাং তোমার মান্নত পূর্ণ কর। ফলে তিনি এক রাত ইতিকাফ করলেন।[বুখারি ও মুসলিম]

আবু হুরায়রা (রাঃ) এর হাদিসের ভিত্তিতে রমযানে ইতিকাফ পালনের বিধান জোরদার হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমযান মাসে দশদিন ইতিকাফ করতেন। যে বছর তিনি মারা যান সে বছর বিশদিন ইতিকাফ করেন।[সহিহ বুখারি]

রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা সর্বোত্তম ইতিকাফ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যু অবধি রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করেছেন।[সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম, সংক্ষেপিত ও সংকলিত]

শাইখ বিন বায তাঁর ফতোয়াসমগ্র (১৫/৪৩৭) তে বলেন:

সন্দেহ নেই যে, মসজিদে ইতিকাফ করা একটি ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। রমযানে এ ইবাদত পালন করা অন্য সময় পালন করার চেয়ে উত্তম। এটি রমযানে ও রমযানের বাইরে পালন করা যেতে পারে।[সংক্ষেপিত]

দেখুন: ড. খালেদ আল-মুশাইকিহ এর ফিকহুল ইতিকাফ, পৃষ্ঠা-৪১।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

প্রশ্ন: (এক বোনের প্রশ্ন) আমার এক খালাম্মা প্রতি রমজানের শেষে ঘরের মধ্যে ইতিকাফে বসেন। তাকে নিষেধ করা হলেও বসবে। কারণ, মসজিদের হুজুররা বলে, ঘরে মহিলাদের ইতিকাফ হবে। কুরআন- হাদিসের দলিলের আলোকে এ ক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি জানতে চাই।

উত্তর:

ইতিকাফের জন্য শর্ত হল, মসজিদ। মসজিদ ছাড়া ইতিকাফ সহীহ নয়। এই শর্ত পুরুষ-মহিলা সবার জন্য প্রযোজ্য।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

أَن طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ

“তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।” (সূরা বাকারা: ১২৫)

আল্লাহ আরও বলেন: وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ

“আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। ” (সূরা বাকরা:১৮৭)

এ আয়াতগুলোতে মসজিদে ইতিকাফ করার কথা উল্লেখিত হয়েছে।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعتكف العشر الأواخر من رمضان حتى توفاه الله، ثم اعتكف أزواجه من بعده

“রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রামযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন আর তাঁর ইন্তিকালের পরে তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন।”

নারীদের জন্য তার ঘরকে মসজিদ বলা ঠিক নয়। কারণ, মসজিদে ঋতুবতি মহিলাদের দীর্ঘ সময় অবস্থান করা নিষেধ। ঘর যদি মসজিদ হত তাহলে সে ঘরে মহিলাদের অবস্থান করা বৈধ হত না। অনুরূপভাবে ঐ ঘর বিক্রয় করাও বৈধ হত না।

বি: দ্র:

মসজিদের মধ্যে মহিলাদের যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে এবং তার ইতিকাফের কারণে যদি সন্তান প্রতিপালন, ঘর-সংসারের নিরাপত্তা এবং তার উপর অর্পিত অপরিহার্য কবর্ত্য পালনে ব্যাঘাত না ঘরে তবে স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি স্বাপেক্ষে ইতিকাফ করা বৈধ হবে। অন্যথায়, তার জন্য ইতিকাফ না করে বরং নিজ দায়িত্ব যাথাযথভাবে পালন, সংসার দেখা-শোনা, স্বামীর সেবা ইত্যাদিতেই অগণিত কল্যাণ নিহীত রয়েছে। তিনি কাজের ফাঁকে যথাসাধ্য দুয়া, তাসবীহ, কুরআন তিলাওয়াত, নফল সালাত ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করবেন। আল্লাহই তাওফীক দাতা।

➖➖➖➖➖➖➖➖

উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, ksa

ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমাযানে ১০ দিন ইতি-কাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি মৃত্যু বরণ করেন সে বছর একটানা ২০ দিন ইতিকাফ করেছেন। (সহীহ বুখারী, অধ্যায়: ইতি-কাফ, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত)

✅ ইতিকাফের কতিপয় উপকারিতা:

ঈমানদারের জন্য ইতিকাফে অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। নিম্নে সেগুলো কয়েকটি উল্লেখ করা হল:

❖ ১. এর মাধ্যমে কিছু দিনের জন্য দুনিয়া থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে কেবল আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থেকে মহান আল্লাহ নৈকট্য হাসিলের বিশাল সুযোগ পাওয়া যায়।

❖ ২. এ সময় অধিক পরিমাণে নফল সালাত, জিকির-আজকার, দুআ, তাসবীহ, তাকবীরে উলা তথা ইমামের প্রথম তাকবীরে সাথে জামাআতে সালাত, মৃত্যুর পরবর্তী জীবন তথা কবর আখিরাত, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে হিসাব-নিকাশ, পুলসিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি বিষয়ে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন মুখস্থ, ইসলামী জ্ঞানার্জন ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করার বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়।

❖ ৩. এ ছাড়াও ইতিকাফের ফলে দৃষ্টি হেফাজত, অশ্লীল, অনর্থক ও মিথ্যা কথা থেকে মুখ হেফাজত, গীবত-পরনিন্দা, চুগলখোরি ইত্যাদি অসংখ্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়।

❖ ৪. রমাযান মাসে ইতিকাফ করার সবচেয়ে বড় ফায়দা হল, শেষ দশকের রাত জেগে ইবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহ তাওফিক দান করলে ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদর লাভ করা সম্ভব হয়-যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। নি:সন্দেহে এটি জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন।

❖ ৫. ইতিকাফ এর মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আদায় করা হয়- যা বর্তমানে মুসলিম সমাজে প্রায় পরিত্যক্ত।

উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, ksa