নারী ও পুরুষের সতর-৩

 

নারী ও পুরুষের শরীরের যেসব অংশ সবসময়ই আবৃত রাখা ফরয তাকে আরবীতে ‘আওরাহ’ ও ফারসীতে ‘সতর’ বলা হয়। সতর দেহের অবশ্য আবরণযোগ্য অংশ। সময় ও পরিবেশ ভিন্নতায় এবং ব্যক্তির অবস্থা ও অবস্থানের প্রেক্ষিতে সতর পালনেও ভিন্নতা রয়েছে। পোশাক যদি এতটা আঁটসাঁট হয় যাতে দেহ কাঠামো খুব বেশী প্রকাশিত হয়ে পড়ে অথবা এতো পাতলা হয় যে শরীর দৃশ্যমান হয়ে যায়, তাহলে সতর সংরক্ষিত হয়েছে বলা যাবে না বরং ফরয লংঘিত হয়েছে ধরা হবে।

পুরুষের জন্য সতরের সীমারেখা নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত।

হযরত আলী রা: থেকে বর্ণিত। রাসূল সা: বলেছেন: নিজের উরু কাউকে দেখাবে না এবং কোন জীবিত অথবা মৃত ব্যক্তির উরুর প্রতি দৃষ্টিপাত করোনা। আবু দাউদ: ৩১৪০

এক্ষেত্রে আমাদের ভাই, বাবা ও ছেলে সন্তানদের বুঝাতে হবে যেন পাতলা বা আঁটসাঁট কাপড় না থাকে সতরের জায়গাতে। ইদানীং দেখা যায়, যুবক ছেলেরা ছোট ছোট গেঞ্জি পরে, প্যান্ট এমন ভাবে পরে যে, তাতে সতরের সীমারেখা বজায় থাকে না এবং আঁটসাঁট জিন্স পড়ে যা খুবই বিব্রতকর। বিজাতীয় অনুকরণে লজ্জাকেও দূরে নিক্ষেপ করতে এদের সময় লাগে না। তাকওয়া ও ঈমানের বহিঃপ্রকাশ পোশাক পরিধানে থাকা আবশ্যক – এই বোধটুকু আমাদের ছেলেদের শিক্ষা দিতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সন্তানদের হেফাজত করুন। পুরুষদের শরীরের অন্যান্য অংশ সতর না হলেও ফিতনার সম্ভাবনাময় জায়গাগুলোতেও শরীর ঢেকে রাখতে হবে। পোশাকের উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে হবে।

নারীকে মহান আল্লাহ তা’লা অত্যন্ত সুন্দর, আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করেছেন।

বোনেরা একটু ভেবে দেখুন, যে জিনিষ যত বেশী মূল্যবান ও সুন্দর সেই জিনিষের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ কিছু করণীয় থাকে। আপনি নিশ্চয়ই আপনার হীরার হারটি বাইরে তো নয়ই, এমন কি বাসার ভেতরেও যেখানে-সেখানে না রেখে আলমারীতে নিরাপদ জায়গায় রেখে তারপর লক করে চাবিটিও আপনার সাথে যত্ন ও সাবধানতার সাথে রাখেন, তাই না?

এই সমাজের মাঝে একটি পরিবারের আকর্ষণ বা মধ্যমণি হলো সেই পরিবারের নারী। পরিবারের বন্ধন ও স্বাভাবিক চাহিদা পবিত্র ভাবে পূরণের জন্য নারীর আকর্ষণীয়তা প্রয়োজন।

আর তাই বোনেরা, নারীর মর্যাদাকে উচ্চে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মহান আল্লাহ তা’লা কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন যা পালন করা একান্ত আবশ্যক। বাড়ীর কর্তা পুরুষ ব্যক্তিকেও সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে হবে। এই বিষয়ে সচেতন না হলে পরিবার থেকেই শুরু হয়ে যায় অশ্লীলতার জোয়ার। তাই নারী-পুরুষ উভয়কেই ইসলামের সেই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আবার এটাও দেখা যায় নারীকে সতরের/পর্দার ব্যাপারে সচেতন রাখার জন্য পুরুষ ব্যক্তিটি খুব বেশী কঠোর, কিন্তু সতর খোলা ও বেপর্দা নারীর সামনে তাঁর দৃষ্টি সংযত রাখার ব্যাপারে তিনি একদম বেখেয়াল থাকেন। এটি ঠিক নয় মোটেও।

মহান আল্লাহ তা’লা বলেছেন: আল্লাহ চোখের চুরি ও মনের গোপন কথা পর্যন্ত জানেন।(সূরা আল-মু’মিন: ১৯)

নারীর সতরের ব্যাপারে আমরা প্রথমে আল-কুরআন থেকে জানার চেষ্টা করি।

মহান আল্লাহ তা’লা বলেছেন:

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

সূরা আন-নূর: ৩১

এখানে ‘যিনাত’, ‘যুউবিহিন্না’, ‘খুমুরুন’ আরবী শব্দ তিনটি লক্ষ্য করুন।

১। “তাঁদের সাজ-সজ্জা না দেখায় যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তা ছাড়া”। এখানে বলা হয়েছে, নিজে থেকে ইচ্ছায় প্রকাশ করে না বরং প্রকাশিত হয়ে যায় যা সবার কাছে লুকানো যায় না-এটা বাইরের পরিধান বুঝায় কারন ‘যিনাত’ শব্দ ব্যবহার হয় বাইরের সৌন্দর্য (কাপড়) বুঝাতে। যেমন সূরা আরাফে (৩১ নং আয়াত) মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে বনী আদম! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা নিজ নিজ সুন্দর সাজে সজ্জিত হও।’

২। “তারা যেন তাদের সাজসজ্জা (আভরণ)  প্রকাশ না করে”, এখানে ‘যুউবিহিন্না’ বলতে ভিতরের সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে যা মুখমণ্ডল সহ গলা, কান ইত্যাদি”। (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা:)

৩। উক্ত আয়াতে ‘খুমুরুন’ শব্দ ব্যবহার হয়েছে যা খিমার শব্দের বহুবচন। খিমার বলতে সেই কাপড় বুঝায় যা দিয়ে নারী তার মাথা, বক্ষ ও গলা ঢেকে রাখতে পারে।

 

মহান আল্লাহ নারীকে আয়াতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সামনে আসার এবং সাজসজ্জা প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছেন। এরা ছাড়া বাকিদের সামনে সাজসজ্জা প্রকাশ করা যাবে না। সেই ব্যক্তিরা হলেন:

১) স্বামী  ২) বাবা  ৩) স্বামীর বাবা  ৪) নিজের ছেলে  ৫) স্বামীর ছেলে  ৬) ভাই  ৭) ভাইয়ের ছেলে  ৮) বোনের ছেলে  ৯) নিজের মেলামেশার মেয়েদের  ১০) নিজের মালিকানাধীনদের  ১১) অধীনস্থ পুরুষদের যাদের অন্য কোন রকমের উদ্দেশ্য নেই  ১২) এমন শিশুদের সামনে ছাড়া যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ।

 

এই আত্মীয়দের বর্ণনা আরো বিস্তারিত জানার জন্য তাফসীর ইবনে কাসীর থেকে পড়ে নিতে পারেন।

সাজসজ্জা বা আভরণ বলতে এখানে অলংকার ও আকর্ষণীয় পোশাক হতে পারে। আবার কেউ কেউ কসমেটিক্স দিয়ে অতিরিক্ত সাজ নেয়াকে বলেছেন। তাই নারী সাধারণত যেখানে অলংকার পরে-যেমন হাতের আংটি, গলার হার, কানের দুল, পায়ের নূপুর ইত্যাদি শুধুমাত্র উক্ত (মুহরিম) ব্যক্তিদের সামনেই দেখাতে পারে। এদের সামনে কাজের প্রয়োজনে হাতের কাপড় বা পায়ের দিকের কাপড় কিছুটা গুটিয়ে নিতে পারবে।

 

এখানে আপন চাচা বা মামার কথা আসেনি যদিও তারা মুহরিম ব্যক্তি, তাই উনাদের সামনে আসতে হলে সতর পুরোপুরি ঢেকে রেখে আসতে হবে (মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে শুধুমাত্র মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জী থেকে আঙ্গুল বের করে রাখতে পারবে)। আরো অন্যান্য মুহরিম আত্মীয় যাদের সাথে বিয়ে হারাম তাদের সামনে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান।

 

বিভিন্ন আত্মীয়ের ব্যাপারে তাদের আত্মীয়তা, বয়স, পারিবারিক সম্পর্ক ও সম্বন্ধ এবং উভয়পক্ষের অবস্থা-যেমন এক গৃহে বা আলাদা বাস করা ইত্যাদির প্রেক্ষিতে অবশ্যই বিভিন্ন হবে। যেসব আত্মীয়ের সাথে বিয়ে চিরন্তন হারামের সম্পর্ক নয়, আবার মুহরিম আত্মীয়ও না, এক্ষেত্রেও মেয়েরা নিঃসংকোচে সাজসজ্জা করে তাদের সামনে আসবে না আবার অনাত্মীয় অপরিচিত (গায়ের মুহরিম) ব্যক্তির মতো পূর্ণ হিজাবের শর্তও থাকবে না। এর মাঝামাঝি অবস্থার আলোকে নিতে হবে। সুতরাং, বিয়ে হারাম এবং সামনে সাজসজ্জা প্রকাশ করতে পারবে – মুহরিম ব্যক্তি যা সুরা নূর-এর ৩১নং আয়াতে বলা আছে। বিয়ে হারাম কিন্তু সতর ঢেকে রাখবে পুরোপুরি, সাজসজ্জা প্রকাশ করবে না- চাচা, মামা।

 

বিয়ে হারাম যাদের সাথে তাদের তালিকা সূরা আন-নিসাতে (২৩ নং আয়াত) এসেছে:

১) তোমাদের মা  ২) তোমাদের মেয়ে  ৩) বোন  ৪) ফুফু  ৫) খালা  ৬) ভাই ঝি  ৭) বোন ঝি  ৮) দুধ মা  ৯) দুধ বোন  ১০) তোমাদের স্ত্রীদের মা  ১১) স্ত্রীদের মেয়েরা, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তার মেয়েরা  ১২) পুত্রদের স্ত্রীরা  ১৩) একই সাথে দুই বোন  ১৪) অন্য কারো বিবাহাধীন নারী।

 

রাসূল সা: বলেছেন: যে নারী আল্লাহ ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য এ পরিমানের বেশী খোলা রাখা জায়েয নয় একথা বলে তিনি তাঁর কব্জীর উপর এমনভাবে হাত রাখলেন যে, কব্জীর মধ্যস্থল এবং তাঁর হাত রাখার স্থানের মধ্যে মাত্র একমুষ্ঠী পরিমান জায়গা অবশিষ্ট রইল। আবু দাউদ

এক্ষেত্রে মুহরিম পুরুষ আত্মীয়দেরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যে, যে নারীরা (মুহরিম) তাদের সামনে সতর খোলা ও সাজসজ্জা করে আসতে পারে না, তারা যদি সামনে চলে আসে, তবে অবশ্যই মুহরিম ব্যক্তির নিজেদের দৃষ্টি ফিরিয়ে বা সংযত রাখতে হবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা সমাজে পবিত্রতা রক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থা দিয়েছেন। কিন্তু দেখা যায় সমাজে সাবালিকা মেয়েরা তাদের চাচা, মামা বা মুহরিম (যাদের সামনে সাজসজ্জা দেখানো যাবে না) আত্মীয়ের সামনে ওড়না ছাড়া চলে যায় তো বটেই, অতিরিক্ত মাখামাখিও করে, যা শরীয়ত সম্মত নয়। অনেকে টিভি, ভিসিডি, কম্পিউটারে অশ্লীল পোশাক পড়া নারীদের গান-নাচ-ছবি দেখে চোখের যিনা করে থাকেন। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের পরিবার ও সমাজকে এইসব অপবিত্রতা থেকে হেফাজত করুন।

‘খুমুরুন’ শব্দটি ‘খিমার’ শব্দের বহুবচন। খিমার বলতে সেই কাপড় বুঝায় যা দিয়ে নারী তার মাথা বক্ষ ও গলা ঢেকে রাখতে পারে।

জাহেলী যুগে মহিলারা মাথায় একধরনের আটঁসাটঁ বাঁধন দিতো। মাথার পেছনে চুলের খোঁপার সাথে এর গিঁরো বাঁধা থাকতো। সামনের দিকে বুকের একটি অংশ খোলা থাকতো। সেখানে গলা ও বুকের ওপরের দিকের অংশটি পরিষ্কার দেখা যেতো। বুকে জামা ছাড়া আর কিছুই থাকতো না। এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর ওড়নার প্রচলন করা হয় যা শরীরে জড়িয়ে মাথা, কোমর, বুক ইত্যাদি সব ভালোভাবে ঢেকে রাখতো।

 

নারী ঘরে যে পোশাক পরবে অবশ্যই তার সাথে খিমার বা ওড়না বা দোপাট্টা দিয়ে বুক ঢেকে রাখবে। কোন অবস্থাতেই ওড়না ছাড়া মুহরিম ব্যক্তির সামনে (উল্লেখিত আয়াতে সম্পর্ক বলা) আসতে পারবে না (স্বামী ব্যতিক্রম)।

 

বোনেরা আমার, একটি ছেলে বা মেয়ে তার পরিবার থেকেই শালীনতা, সতর শিক্ষা পাবে, যা তাকে পর্দা পালনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আজকাল মায়েরা ছেলে-মেয়ের সামনে, বোন-ভাইয়ের সামনে ওড়না ছাড়াই চলাফেরা করে। তাতে সেই ছেলেটির বা মেয়েটির লজ্জাকে ভেংগে দিচ্ছে। অথচ মহান আল্লাহ তা’লা আমাদের জানিয়েছেন:

হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় হলো তোমাদের খোলামেলা থাকার সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনি ভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। সূরা আন-নূর: ৫৮-৫৯

আমার প্রিয় বোনেরা, এই আয়াতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের পরিবারগুলোতে অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। দেখুন, আজ এই নিয়ম মেনে চলছে অমুসলিম আমেরিকান বা ইউরোপীয়ানরা। অথচ আমাদের মুসলিম পরিবারে এর প্রচলন নেই। ফলে সতর ও পর্দা কোনটি সম্পর্কে জ্ঞান আমরা দিতে পারছিনা। ফলে ঘরেই অশ্লীলতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ঘরের ভিতরে বাবা, ভাইদের সামনে অনেক মা-বোনেরা গেঞ্জি বা আঁটসাঁট পোশাক ওড়না ছাড়াই পড়ে থাকেন যা সতর লঙ্ঘন করে গুনাহগার হচ্ছেন এবং পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ পরিবারকেও অশ্লীলতার দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন। আবার অনেক নারী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একসাথে গোসল করে থাকেন যা সতরকে উন্মোচন করে দেয় – এটাও গুনাহের কাজ। অনেক নারী, নারীর সামনেই অকপটে কাপড় পরিবর্তন করতে সতর খুলে ফেলেন যা শরীয়তের পরিপন্থী। আবার অনেকে পার্লারে যেয়ে সেখানে অর্ধনগ্ন করে রাখে এমন পোশাক পরতেও দ্বিধা করেন না। নারীর সামনেও নারী সূরা নূরের ৩১নং আয়াতে উল্লেখ অনুসারেই সতর ঢেকে রাখবে। তবে অমুসলিম নারীদের ব্যপারে পুরোপুরি সতর ঢেকে রাখবে।

রাসূল সা: বলেছেন, কোন নারীর জন্য বৈধ নয় যে, সে অন্য নারীর সাথে মিলিত হয়ে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা তার স্বামীর সামনে এমনভাবে দেয় যেন তার স্বামী ঐ নারীকে স্বয়ং দেখতে পেরেছে। বুখারী ও মুসলিম

এখানে মুসলিম নারীরা এটা (হাদীসের শিক্ষা) মেনে চলেন বিধায় তাদের সাথে একরকম পর্দা কিন্তু অমুসলিম নারীতো এটা মানবে না তাই কেউ কেউ বলেছেন তাদের সাথে পর্দা করতে হবে।

রাসূল সা: বলেছেন, অস্থানে সৌন্দর্য্য প্রকাশকারিনী নারী কিয়ামতের দিনের ঐ অন্ধকারের মতো যেখানে কোন আলো নেই। তিরমিযী

রাসূল সা: আরো বলেছেন, নিজের স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া বাকী সবার কাছ থেকে সতরের হেফাজত করো। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, আর যখন আমরা একাকী থাকি? রাসূল সা: জবাব দেন, এ অবস্থায় আল্লাহকে লজ্জা করা উচিত, তিনিই এর বেশী হকদার। তিরমিযী: ২৭০৬, আবু দাউদ

এক পুরুষ অপর পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে এবং এক নারী অপর নারীর গুপ্তাঙ্গের দিকে তাকাবে না। এক পুরুষ আরেক পুরুষের সাথে এবং এক নারী আরেক নারীর সাথে বস্ত্রহীন অবস্থায় এক কাপড়ের ভিতর শয়ন করবে না।

তিরমিযী: ২৭৩০

তোমরা উলঙ্গপনা থেকে বেঁচে থাক। কেননা তোমাদের এমন সাথী আছেন (কিরামান-কাতেবীন) যারা পেশাব-পায়খানা ও স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় ছাড়া অন্য কোন সময় তোমাদের থেকে পৃথক হন না। সুতরাং তাদের লজ্জা কর এবং সম্মান কর। তিরমিযী: ২৭৩৭

মহান আল্লাহ তা’লা বলেছেন:

আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না, কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমরা শোকর গুজার হবে।

সূরা আল-মায়েদা: ৬