أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
সূরা নংঃ ৭ আয়াত সংখ্যাঃ ২০৬ রুকুঃ ২৪ পারাঃ ৮ম-৯ম
নাযিল হওয়ার স্থানঃ এ সূরা সর্বসম্মতভাবে মক্কী সূরা। এ সূরার আলোচ্য বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে সুস্পষ্টভাবে অনুভূত হয় যে, এ সূরাটি সূরা আন’আমের প্রায় সমসময়ে নাযিল হয়। অবশ্য এটি আগে না আন’আম আগে নাযিল হয় তা নিশ্চয়তার সাথে চিহ্নিত করা যাবে না। কাজেই এর ঐতিহাসিক পটভূমি অনুধাবন করার জন্য সূরা আন’আমের শুরুতে যে ভূমিকা লেখা হয়েছে তার ওপর একবার নজর বুলিয়ে নেয়া যথেষ্ট হবে
মক্কী সূরাসমূহের মাঝে এটি সবচেয়ে বড় সূরা। আয়াতের সংখ্যার দিক দিয়ে অন্য একটি সূরা বড় হলেও সেই আয়াতগুলো ছোট ছোট যেমন সূরা শো’আরা- ২২৭ টি আয়াত।
সূরার ফযীলতঃ
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ প্রথম সাতটি সূরা গ্রহণ করবে সে আলেম হিসেবে গণ্য হবে”। [মুসনাদে আহমাদ: ৬/৮৫, ৬/৯৬]
সূরার নামকরণঃ
এ সূরার নাম আল-আরাফ। এ নামকরণ এ জন্যই করা হয়েছে যে, এ সূরার ৪৬ ও ৪৮ নং আয়াতদ্বয়ে আল-আরাফ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। এরূপ নামকরণের অর্থঃ এটা এমন একটি সূরা যাতে আরাফবাসীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরাফবাসীদের পরিচয় সম্পর্কে হাদীসে এসেছে: হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,
«أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ قَوْمٌ تَجَاوَزَتْ بِهِمْ حَسَنَاتُهُمُ النَّارَ، وَقَصُرَتْ بِهِمْ سَيِّئَاتُهُمْ عَنِ الْجَنَّةِ، فَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ، قَالُوا: رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ. فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذِ اطَّلَعَ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ. قَالَ: «قُومُوا ادْخُلُوا الْجَنَّةَ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ»
“আরাফবাসী হলো এমন এক দল, যাদের সৎকর্ম এত পরিমাণ যে তা তাদের জাহান্নামে যেতে দেয় না আবার পাপাচার এত পরিমাণ যে তা জান্নাতে প্রবেশ করতে দেয় না। (অর্থাৎ পাপ ও পুণ্য সমানে সমান) যখন তাদের মুখ জাহান্নামবাসীদের দিকে ফেরানো হবে তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। তারা এমনি অবস্থায় থাকবে। তখন তোমার প্রতিপালক বলবেন, যাও, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম”। হাকেম, হাদীস নং ৩২৪৭, তিনি বলেছেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ।
আলোচ্য বিষয়
এ সূরার আলোচ্য বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে সুস্পষ্টভাবে অনুভূত হয় যে, এ সূরাটি সূরা আন’আমের প্রায় সমসময়ে নাযিল হয়। অবশ্য এটি আগে না আন’আম আগে নাযিল হয় তা নিশ্চয়তার সাথে চিহ্নিত করা যাবে না। তবে এ সূরায় প্রদত্ত ভাষণের বাচনভংগী থেকে এটি যে ঐ সময়ের সাথে সম্পর্কিত তা পরিষ্কার বুঝা যায়। কাজেই এর ঐতিহাসিক পটভূমি অনুধাবন করার জন্য সূরা আন’আমের শুরুতে যে ভূমিকা লেখা হয়েছে তার ওপর একবার নজর বুলিয়ে নেয়া যথেষ্ট হবে
সুরাটিতে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের দুর্দশা, শয়তানের কুপরামর্শের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ও সত্যাশ্রয়ীদের সমৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনায় নুহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.), লুত (আ.) ও শোয়েব (আ.)-এর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এই সুরায় মুসা (আ.)-এর জীবনীও আছে। ইবরাহীম আ এর আগে ৩জন নবী ও এর পরে দুইজন নবীর কথা উল্লেখ এসেছে।
সুরার ১ থেকে ৭ আয়াতে আল্লাহ আমাদের কোরআন–সুন্নতের আলোকে জীবন গড়ার এবং পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতির পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে বলেন।
এ সূরার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে রিসালাতের প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত।
এখানে যাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে (অর্থাৎ মক্কাবাসী) তাদেরকে বুঝাতে বুঝাতে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল। তাদের স্থুল শ্রবণ ও অনুধাবন শক্তি, হঠকারিতা, গোয়ার্তুমী ও একগুঁয়ে মনোভাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। যার ফলে রসূলের প্রতি তাদেরকে সম্বোধন করা বন্ধ করে দিয়ে অন্যদেরকে সম্বোধন করার হুকুম অচিরেই নাযিল হতে যাচ্ছিল। তাই বুঝাবার ভংগীতে নবুয়াত ও রিসালাতের দাওয়াত পেশ করার সাথে সাথে তাদেরকে একথাও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, নবীর মোকাবিলায় তোমরা যে কর্মনীতি অবলম্বন করেছো তোমাদের আগের বিভিন্ন মানব সম্প্রদায়ও নিজেদের নবীদের সাথে অনুরূপ আচরণ অবলম্বন করে অত্যন্ত মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হয়েছিল।
শেষ অংশে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আহলি কিতাবদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। আর এক জায়গায় সারা দুনিয়ার মানুষকে সাধারণভাবে সম্বোধন করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে ইহুদিদেরকেও সম্বোধন করা হয়েছে। তাই এই সাথে রিসালাত ও নবুয়াতের দাওয়াতের আর একটি দিকও সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। নবীর প্রতি ঈমান আনার পর তাঁর সাথে মুনাফিকী নীতি অবলম্বন করার, আনুগত্য ও অনুসৃতির অঙ্গীকার করার পর তা ভংগ করার এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে যাওয়ার পর মিথ্যার প্রতি সাহায্য সহযোগিতা দানের কাজে আপাদমস্তক ডুবে থাকার পরিনাম কি, তাও এতে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
নবী ও রসূলের মধ্যে পার্থক্য কী?
প্রত্যেক নবী রাসূল নন। তবে প্রত্যেক রাসূলই নবী।
নবী ও রসূলের মধ্যে পার্থক্য আছে কি না এ ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মতটি হলো,
রসূল বলা হয় এমন পুরুষকে যার নিকট আল্লাহ তা‘আলা নতুন শরী‘আত পাঠিয়েছেন এবং তাকে সেটা প্রচার করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
আর নবী হলেন এমন পুরুষ, যার নিকট অহী প্রেরণ করা হয়েছে, কিন্তু তাবলীগ করার আদেশ করা হয়নি।
সুতরাং প্রত্যেক নবী ও রসূলের নিকটই অহী এসেছে। কিন্তু নবীকে পাঠানো হয়েছে মুমিন সম্প্রদায়ের প্রতি পূর্বের শরী‘আতসহ।
যেমন বনী ইসরাঈলের নবীদের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তাদের সকলকেই তাওরাতের শরী‘আত দিয়ে বনী ইসরাঈলদেরকে পরিচালনা করার আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে তাদের কারো কারো নিকট নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে খাস অহীও করা হয়েছে।
আর রসূলদেরকে পাঠানো হয়েছে কাফের সম্প্রদায়ের নিকট। তারা কাফেরদেরকে আল্লাহর তাওহীদের দিকে এবং তার ইবাদতের দিকে ডাকতেন। সুতরাং রসূলগণ প্রেরিত হতেন অবিশ্বাসী বিরুদ্বাচরণকারী কাফেরদের নিকট। কোনো কোনো কাফের সম্প্রদায় তাদেরকে মিথ্যুক বলতো। রসূলদের মর্যাদা নবীদের মর্যাদার চেয়ে অধিক। রসূলগণের মর্যাদার মধ্যেও তারতম্য রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۘ مِّنْهُم مَّن كَلَّمَ اللَّهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ﴾
‘এ রসূলদের একজনকে আরেকজনের উপর মর্যাদাশালী করেছি। তাদের কারোর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, কাউকে তিনি উন্নত মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। (সূরা বাকারা: ২৫৩) রসূলদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন أولو العزم ( উলুল আযম) অর্থাৎ আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রচারে সুদৃঢ় ইচ্ছার অধিকারী রসূলগণ।
তারা হলেন নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ তা‘আলা নিম্নের আয়াতে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন,
﴿وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَخَذْنَا مِنْهُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا﴾
‘হে নবী! ম্মরণ করো সেই অঙ্গীকারের কথা যা আমি নিয়েছি সকল নবীর কাছ থেকে, তোমার কাছ থেকে, নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মরিয়াম পুত্র ঈসার কাছ থেকে। সবার কাছ থেকে আমি নিয়েছি পাকাপোক্ত অঙ্গীকার। (সূরা আহযাব: ৭) আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে একসাথে উল্লেখ করে আরো বলেন,
﴿شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ﴾
‘তিনি তোমাদের জন্য দীনের সেসব নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার কাছে অহীর মাধ্যমে পাঠিয়েছি। আর যার আদেশ দিয়েছি আমি ইবরাহীম, মূসা, ও ঈসা আলাইহিমুস সালামকে। এ আদেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা দীন কায়েম করো এবং তাতে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’। (সূরা শূরা: ১৩)
উলুল আযম রসূলদের মধ্যে দুই খলীল তথা ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ আলাইহিমাস সালাম সর্বোত্তম। সম্মান ও মর্যাদার দিক দিয়ে তাদের পরে ছিলেন অন্যান্য রসূলগণ। অতঃপর নবীগণ। দুই খলীলের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন উত্তম।
নবী-রসূলদের প্রতি ঈমান আনয়নের পর আমাদেরকে জানতে হবে যে, নবুওয়াত আল্লাহর পক্ষ হতে একটি অনুগ্রহ। আল্লাহ তা‘আলাই তার বান্দাদের মধ্য থেকে কাউকে নবী হিসাবে বাছাই করেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ﴾
‘আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে বাণীবাহক বাছাই করেন এবং মানুষদের মধ্য থেকেও। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’। (সূরা হজ্জ: ৭৫)
নবুওয়াত এমন কোনো সম্মান জনক পদমর্যাদা নয়, যা বান্দা ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে পরিশ্রম করে অর্জন করতে পারে। নবুওয়াত এমন কোনো সম্পদ নয়, যা আনুগত্যের কাজে কঠোর পরিশ্রম, আত্মশুদ্ধির অভ্যাস, অন্তর পরিস্কার, চরিত্র সংশোধন এবং অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। যেমন দার্শনিকগণ বলে থাকে যে, পরিশ্রম করে নবুওয়াত অর্জন করা যায়। তাদের ধারণা হলো, আত্মশুদ্ধি ও অনুশীলনীর মাধ্যমে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন কামালিয়াত বা পূর্ণতা অর্জন করার পর নিয়মিত আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনগুলোর প্রতি কেউ যখন গভীর অন্তর্দিষ্টি দিতে থাকবে, তখন তার হৃদয়ের আয়না প্রস্ফুটিত হবে, তার জ্ঞানের দৃষ্টি উন্মুক্ত হবে এবং তার জন্য এমন কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে, যা অন্যদের জন্য হবে না।
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আনআমের ১২৪ নং আয়াতে বলেন,
﴿قَالُوا لَن نُّؤْمِنَ حَتَّىٰ نُؤْتَىٰ مِثْلَ مَا أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ﴾
‘‘তারা বলে, আল্লাহর রসূলদেরকে যা দেয়া হয়েছে যতক্ষণ না তা আমাদের দেয়া হয় ততক্ষণ আমরা ঈমান আনয়ন করবো না। আল্লাহর নিজের রিসালাত কাকে দিবেন তা তিনিই সর্বাধিক অবগত আছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ﴾
আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকেও বাণীবাহক বাছাই করেন এবং মানুষদের মধ্য থেকেও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’’। (সূরা হজ্জ: ৭৫)
সুতরাং নবুওয়াত আল্লাহ তা‘আলার হিকমত অনুযায়ী এবং সেটার জন্য কে উপযুক্ত সে অনুপাতেই তার পক্ষ হতে নির্বাচিত হয়ে থাকে। বান্দা এটি উপার্জন করতে সক্ষম নয়।
তবে এ কথা সঠিক যে, নবীগণের এমন ফযীলত রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী হয়েছেন।
তারা ছিলেন ঐ সমস্ত রাসূল, যারা রেসালাতের দায়িত্ব পালনে ছিলেন পর্বত সদৃশ সুদৃঢ় ইচ্ছা শক্তি সম্পন্ন এবং আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াত প্রচার করতে গিয়ে নিজ নিজ গোত্রের পক্ষ হতে যেসব যুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তাতে সীমাহীন ধৈর্যধারণকারী।