أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৪৩ : ৬৮ یٰعِبَادِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡكُمُ الۡیَوۡمَ وَ لَاۤ اَنۡتُمۡ تَحۡزَنُوۡنَ
৬৮. হে আমার বান্দাগণ! আজি তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না।
এটা কিয়ামতের দিন সেই আল্লাহভীরুদেরকে বলা হবে, যাঁরা দুনিয়াতে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা রাখত। বহু হাদীসেও এর ফযীলতের কথা এসেছে। এমন কি আল্লাহর নিমিত্তে ভালবাসা রাখা এবং তাঁরই নিমিত্তে বিদ্বেষ পোষণ করাকে ঈমান পরিপূর্ণতার বুনিয়াদ বলা হয়েছে। মহানবী (সাঃ) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে কাউকে ভালোবাসে, আল্লাহর ওয়াস্তে কাউকে ঘৃণা করে, আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু দান করে এবং আল্লাহর ওয়াস্তেই কিছু দান করা হতে বিরত থাকে, সে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী। (সহীহ আবূ দাঊদ ৩৯১০ নং) আর এমন দুই বন্ধু কিয়ামতের দিনে আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া লাভ করবে, যেদিন সেই ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না।
আল্লাহ বলেন, ১০ : ৬২ اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِیَآءَ اللّٰهِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا هُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ
‘জেনে রেখ! নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা ইউনুস : আয়াত ৬২)
২ : ৩৮ قُلۡنَا اهۡبِطُوۡا مِنۡهَا جَمِیۡعًا ۚ فَاِمَّا یَاۡتِیَنَّكُمۡ مِّنِّیۡ هُدًی فَمَنۡ تَبِعَ هُدَایَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا هُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ
আমরা বললাম, তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট কোন হিদায়াত আসবে তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। বাকারাঃ৩৮
خَوْفٌ এর অর্থ আগত দুঃখ-কষ্টজনিত আশংকার নাম। আর حُزْنٌ বলা হয়, কোন উদ্দেশ্য সফল না হওয়ার কারণে সৃষ্ট গ্রানি ও দুশ্চিন্তাকে লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে যে, এ দুটি শব্দে যাবতীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে এমনভাবে কেন্দ্রিভূত করে দেয়া হয়েছে যে, স্বাচ্ছন্দ্যের একবিন্দুও এর বাইরে নেই। এ আয়াতে আসমানী হিদায়াতের অনুসারীগণের জন্য দু’ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমতঃ তাদের কোন ভয় থাকবে না এবং দ্বিতীয়তঃ তারা চিন্তাগ্রস্ত হবে না।
৪৩ : ৬৯ اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَ كَانُوۡا مُسۡلِمِیۡنَ
৬৯. যারা আমার আয়াতে ঈমান এনেছিল এবং যারা ছিল মুসলিম—
আরবী ‘আমন’ শব্দ থেকে ঈমান শব্দটির উৎপত্তি। আম্ন (أمن) অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা, আস্থা, বিশ্বস্ততা, হৃদয়ের স্থিতি ইত্যাদি। ঈমান শব্দের আভিধানিক অর্থ: নিরাপত্তা প্রদান, আস্থা স্থাপন, বিশ্বাস ইত্যাদি। শব্দটির অর্থ সম্পর্কে ৪র্থ হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ ভাষাবিদ আবুল হুসাইন আহমদ ইবনু ফারিস (৩৯৫হি) বলেন: ‘‘হামযা, মীম ও নূন: এই ধাতুটির মূল অর্থ দুটি: প্রথম অর্থ: বিশস্ততা, যা খিয়ানতের বিপরীত এবং দ্বিতীয় অর্থ বিশ্বাস করা বা কোনো ব্যক্তি বা বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করা। আমরা দেখছি যে, অর্থ দুটি খুবই নিকটবর্তী ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। ইবনু ফারিস, আহমদ (৩৯৫হি), মু’জামু মাকায়িসিল লুগাহ ১/১৩৩।
তিনি উভয় অর্থে ঈমান শব্দের অর্থ আলোচনা করে উল্লেখ করেন যে, প্রথম অর্থে ঈমান অর্থ নিরাপত্তা প্রদান করা বা আমানতদার বলে মনে করা। আর দ্বিতীয় অর্থে ঈমান অর্থ বিশ্বাস করা, বিশ্বস্ততায় আস্থা স্থাপন করা। প্রাগুক্ত ১/১৩২-১৩৩।
‘‘আর কেউ ঈমান প্রত্যাখ্যান করলে তার কর্ম বিনষ্ট বা নিষ্ফল হবে এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ সূরা মায়িদা: ৫ আয়াত।
ইসলাম”-এর একটি আইনী চেহারা রয়েছে, এবং যে কেউ শাহাদাতাইন পড়বে, সে ইসলামের অন্তভূক্ত হবে অর্থাৎ তাকে মুসলমান হিসেবে গন্য করা হবে।এবং ইসলামের বিধান তার জন্য প্রযোজ্য, তবে ঈমান একটি আসল এবং অভ্যন্তরীণ জিনিস এবং এর স্থান মানুষের জিহ্বা ও প্রকাশ্যে নয়; বরং ঈমানের স্থান মানুষের অন্তরে।
ঈমান ও ইসলামের সাধারণ মূলনীতি নিম্নোক্ত আয়াতে একত্রিত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿قُولُوٓاْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيۡنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطِ وَمَآ أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَآ أُوتِيَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمۡ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّنۡهُمۡ وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ١٣٦﴾ [البقرة: ١٣٦]
“তোমরা বল, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর ওপর এবং যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের ওপর ও যা নাযিল করা হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের সন্তানদের ওপর, আর যা প্রদান করা হয়েছে মূসা ও ঈসাকে এবং যা প্রদান করা হয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে নবীগণকে। আমরা তাদের কারো মধ্যে তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৩৬]
ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য কি? আয়াত অনুসারে
«قالَتِ الْأَعْرابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَ لكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنا وَ لَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمانُ فِي قُلُوبِكُمْ …»
মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি।
এখানে “ইসলাম” এবং “ঈমান”-এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। “ইসলাম”-এর একটি আইনী চেহারা রয়েছে এবং যে কেউ শাহাদাতাইন পাঠ করবে, সে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। এবং ইসলামের বিধান তার জন্য প্রযোজ্য, তবে ঈমান একটি বাস্তব এবং অভ্যন্তরীণ জিনিস এবং এর স্থান একজন ব্যক্তির জিহ্বা এবং চেহারা নয়; বরং তার হৃদয়ে এর স্থান ।
ঈমান হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু আদেশ করেছেন সেগুলোর ওপর দৃঢ় ঈমান স্থাপন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করাকে বলে ইসলাম। একমাত্র আল্লাহর সমীপে আত্মসমর্পণ করা ও তাঁরই আনুগত্য স্বীকার করাকে ইসলাম বলে।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে জিবরীলে ও অন্যান্য হাদীসে ঈমান ও ইসলামের ব্যাখ্যায় বলেছেন,
«الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ والْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ».
“ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। ইসলাম হলো, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের সাওম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহর হজ পালন করবে।” সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ১/৩৬, হাদীস নং ৮, উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত; সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান, ১/২৭, হাদীস নং ৮; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ১/৩৯, হাদীস নং ৯, উভয়ে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানকে অন্তরের বিশ্বাস ও ইসলামকে শরী‘আতের বাহ্যিক আমলের দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।
একজন ব্যক্তির “ইসলাম” আনার জন্য বিভিন্ন প্রেরণা থাকতে পারে, এমনকি বস্তুগত প্রেরণা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থও থাকতে পারে, তবে “ঈমান” তথা “বিশ্বাস” অবশ্যই এলম তথা জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক প্রেরণা থেকে উদ্ভূত হয়; যেমন ইসলামের নবী (সাঃ) বলেছেনঃ
الاسلام علانية، و الايمان فى القلب
ইসলাম নির্দেশ হচ্ছে প্রকাশ্যে, কিন্তু ঈমানের স্থান হল হৃদয়। (মাজমাউল বায়ান, ৯ম খণ্ড, পৃ: ১৩৮)
এছাড়াও, অন্য কিছু হাদীসে বলা হয়েছে যে “ইসলাম” ধারণাটি মৌখিক স্বীকারোক্তিতে সীমাবদ্ধ বলে বিবেচিত হয়, কিন্তু ঈমানকে কর্মের সাথে একত্রিত স্বীকারোক্তি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। (আল-কাফি, ২য় খণ্ড, পৃ: ২৪)
ঈমান ইসলামের অংশীদার, কিন্তু ইসলাম ঈমানের অংশীদার নয়। অন্য কথায়, প্রত্যেক মুমিন মুসলমান, কিন্তু প্রত্যেক মুসলমানই মুমিন নয়। “বিশ্বাস” হল যা অন্তরে থাকে, কিন্তু “ইসলাম” এমন একটি জিনিস যা অনুসারে বিবাহ এবং উত্তরাধিকার … সংরক্ষণের আইন।
৪৩ : ৭০ اُدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ اَنۡتُمۡ وَ اَزۡوَاجُكُمۡ تُحۡبَرُوۡنَ
৭০. তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।
أَزْوَاجُكُمْ থেকে কেউ মু’মিন (পার্থিব) স্ত্রীগণ, কেউ মু’মিন বন্ধু এবং কেউ জান্নাতের স্ত্রী হুরগণ অর্থ নিয়েছেন। আর সব অর্থই সঠিক। কারণ, এরা সকলেই জান্নাতে যাবে। تُحْبَرُوْنَ শব্দ حَبْرٌ থেকে গঠিত। অর্থাৎ, সেই আনন্দ ও প্রফুল্লতা যা তাঁরা জান্নাতের নিয়ামত ও সম্মানের কারণে অনুভব করবে।
৪৩ : ৭১ یُطَافُ عَلَیۡهِمۡ بِصِحَافٍ مِّنۡ ذَهَبٍ وَّ اَكۡوَابٍ ۚ وَ فِیۡهَا مَا تَشۡتَهِیۡهِ الۡاَنۡفُسُ وَ تَلَذُّ الۡاَعۡیُنُ ۚ وَ اَنۡتُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ
স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে; সেখানে মন যা চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয় তাই থাকবে। আর সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে।
صِحَافٌ হল صَحْفَةٌ এর বহুবচন। এর অর্থ থালা বা প্লেট। সব চেয়ে বড় পাত্রকে جُفْنَةٌ বলা হয়। তার থেকে ছোটকে قَصْعَةٌ (যাতে দশজন মানুষ পেট ভরে খেতে পারবে।) এর থেকে ছোটকে صَحْفَةٌ (যা قَصْعَةٌ এর অর্ধেক) এবং তার থেকে ছোটকে مَكِيْلَةٌ বলা হয়। অর্থাৎ, জান্নাতীরা জান্নাতে যে খাদ্য লাভ করবে তা সোনার প্লেটে দেওয়া হবে।
৪৩ : ৭২ وَ تِلۡكَ الۡجَنَّۃُ الَّتِیۡۤ اُوۡرِثۡتُمُوۡهَا بِمَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ৭২. আর এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কাজের ফলস্বরূপ।
, যেভাবে একজন ওয়ারেস (উত্তরাধিকারী) মীরাসের মালিক হয়, অনুরূপ জান্নাতও একটি মীরাস; যার ওয়ারিস হবে তারা, যারা দুনিয়াতে ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে জীবন-যাপন করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
৪০ : ১৭ اَلۡیَوۡمَ تُجۡزٰی كُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا كَسَبَتۡ ؕ لَا ظُلۡمَ الۡیَوۡمَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ
আজ প্রত্যেককে তার অর্জন অনুসারে প্রতিফল দেয়া হবে; আজ কোন যুলুম নেই। নিশ্চয় আল্লাহ্ দ্রুত হিসেব গ্রহনকারী। মুমিনঃ ১৭
যে সৎকাজ করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। আর আপনার রব তার বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুমকারী নন। হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত)-৪৬
৪৩ : ৭৩ لَكُمۡ فِیۡهَا فَاكِهَۃٌ كَثِیۡرَۃٌ مِّنۡهَا تَاۡكُلُوۡنَ
৭৩. সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তা থেকে তোমরা খাবে।
৪৩:৭৪ اِنَّ الۡمُجۡرِمِیۡنَ فِیۡ عَذَابِ جَهَنَّمَ خٰلِدُوۡنَ
৭৪. নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে স্থায়ী হবে;
৪৩ : ৭৫ لَا یُفَتَّرُ عَنۡهُمۡ وَ هُمۡ فِیۡهِ مُبۡلِسُوۡنَ
৭৫. তাদের শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তারা তাতে হতাশ হয়ে পড়বে।
‘‘নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করেছে এবং যুলুম করেছে, আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সুপথ প্রদর্শন করবেন না। জাহান্নামের পথ ব্যতীত। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। (সূরা নিসাঃ ১৬৮-১৬৯
‘‘আর যারা কুফরী করে তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের আগুন। তাদের মৃত্যুর ফয়সালা হবে না যে, তারা মরবে এবং তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি লাঘব হবে না। এভাবে আমি প্রত্যেক কাফেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা ফাতিরঃ ৩৬)
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(إِذَا صَارَ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلَى الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ إِلَى النَّارِ جِيءَ بِالْمَوْتِ حَتَّى يُجْعَلَ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ لَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ لَا مَوْتَ فَيَزْدَادُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَرَحًا إِلَى فَرَحِهِمْ وَيَزْدَادُ أَهْلُ النَّارِ حُزْنًا إِلَى حُزْنِهِمْ)
‘‘যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে চলে যাবেন এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন (সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের ভেড়ার আকৃতিতে) মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি স্থানে রেখে যবেহ করে ঘোষণা করা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা। এখানে তোমরা অনাদিকাল পর্যন্ত অবস্থান করবে। ওহে জাহান্নামীরা! তোমরা চিরকাল এ কঠিন আযাব ভোগ করবে। তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা। একথা শুনে বেহেশতবাসীদের আনন্দ ও খুশী আরও বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের দুঃখ ও পেরেশানী আরও বৃদ্ধি পাবে। বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুর রিকাক।
৪৩ : ৭৬ وَ مَا ظَلَمۡنٰهُمۡ وَ لٰكِنۡ كَانُوۡا هُمُ الظّٰلِمِیۡنَ
৭৬. আর আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি, কিন্তু তারা নিজেরাই ছিল যালিম৷
নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি কোন যুলুম করেন না, বরং মানুষই নিজেদের প্রতি যুলুম করে থাকে। ইউনুসঃ৪৪
আর আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। অতঃপর যখন আপনার রবের নির্দেশ আসল, তখন আল্লাহ ছাড়া তারা যে ইলাহসমূহের ইবাদাত করত তারা তাদের কোন কাজে আসল না। আর তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের অন্য কিছুই বৃদ্ধি করল না। সূরা হুদঃ১০১
নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলুম করেন না। আর কোন পূণ্য কাজ হলে আল্লাহ সেটাকে বহুগুণ বর্ধিত করেন এবং আল্লাহ তার কাছ থেকে মহাপুরস্কার প্রদান করেন। সূরা নিসাঃ৪০
লুকমানের ওসিয়ত বর্ণনায় আল্লাহ বলেন, “হে প্রিয় বৎস! নিশ্চয় তা (পাপ-পুণ্য) যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, অতঃপর তা থাকে শিলাগর্ভে অথবা আসমানসমূহে কিংবা যমীনে, আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন” [সূরা লুকমান ১৬]
অন্য সূরায় আল্লাহ বলেন, “সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখান যায়, কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে, আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তাও দেখবে। [সূরা আয-যালযালাহ: ৬-৮]
৪৩ : ৭৭ وَ نَادَوۡا یٰمٰلِكُ لِیَقۡضِ عَلَیۡنَا رَبُّكَ ؕ قَالَ اِنَّكُمۡ مّٰكِثُوۡنَ
৭৭. তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালেক, তোমার রব যেন আমাদেরকে নিঃশেষ করে দেন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা অবস্থানকারী হবে।
৪৩ : ৭৮ لَقَدۡ جِئۡنٰكُمۡ بِالۡحَقِّ وَ لٰكِنَّ اَكۡثَرَكُمۡ لِلۡحَقِّ كٰرِهُوۡنَ
৭৮. আল্লাহ বলবেন, অবশ্যই আমরা তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তোমাদের বেশীর ভাগই ছিলে সত্য অপছন্দকারী।
মালেক অর্থ জাহান্নামের ব্যবস্থাপক ফেরেশতার নাম। কথার ইঙ্গিত থেকেই এটিই প্রকাশ পাচ্ছে। তারা বলছে আমাদেরকে মৃত্যু দান করুন, যাতে আযাব থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে যাই। সেখানে মৃত্যু আবার কোথায়? শাস্তির এই জীবন মৃত্যু অপেক্ষা আরো নিকৃষ্টতর হবে। আর এ ছাড়া তো অন্য কোন উপায়ও থাকবে না।
জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফিরিস্তার সংখ্যা উনিশ। মহান আল্লাহ বলেন,
আমি তাকে নিক্ষেপ করব সাক্কার (জাহান্নামে)। কিসে তোমাকে জানাল, সাক্বার কী? ওটা তাদেরকে (জীবিত অবস্থায়) রাখবে না, আর (মৃত অবস্থায়ও) ছেড়ে দেবে না। ওটা দেহের চামড়া দগ্ধ করে দেবে। ওর তত্ত্বাবধানে রয়েছে উনিশ জন প্রহরী। আমি ফেরেশ্তাদেরকেই করেছি জাহান্নামের প্রহরী। আর অবিশ্বাসীদের পরীক্ষা স্বরূপই আমি তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি, যাতে কিতাবধারীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীরা ও কিতাবধারীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। এর ফলে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তারা ও অবিশ্বাসীরা বলবে, এ বর্ণনায় আল্লাহর উদ্দেশ্য কি? এইভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ নির্দেশ করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। (জাহান্নামের) এই বর্ণনা তো মানুষের জন্য উপদেশ বাণী। (মুদ্দাসসিরঃ ২৬-৩১)
উক্ত আয়াতে কুরাইশ বংশের মুশরিকদের খন্ডন করা হয়েছে। যখন জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফিরিদের কথা আল্লাহ উল্লেখ করলেন, তখন আবু জাহল কুরাইশদেরকে সম্বােধন করে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক দশজনের একটি দল এক একজন ফিরিস্তার জন্য যথেষ্ট নয় কি? কেউ বলেন, কালাদাহ নামক এক ব্যক্তি—যার নিজ শক্তির ব্যাপারে বড়ই অহংকার ছিল—সে বলল, ‘তোমরা কেবল দু’জন ফিরিশ্তাকে সামলে নিও, অবশিষ্ট ১৭ জন ফিরিশ্তার জন্য আমি একাই যথেষ্ট!’ বলা বাহুল্য, (কুরআনে উল্লিখিত) এই সংখ্যাও তাদের উপহাস ও বিদ্রুপের বিষয়রূপে পরিণত হল। (আহসানুল বায়ান)
উক্ত ১৯ জন ফিরি জাহান্নামের দারোগা বলে প্রসিদ্ধ। যাদের কথা মহান আল্লাহ বলেছেন,
জাহান্নামীরা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতিপালককে বল, তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে একদিনের শাস্তি লাঘব করেন।” তারা বলবে, তোমাদের কাছে কি স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগ আসেননি? জাহান্নামীরা বলবে, হ্যাঁ, অবশ্যই। প্রহরীরা বলবে, সুতরাং তোমরাই ডাক; আর কাফিরদের ডাক শুধু ব্যর্থই হয় (মু’মিনঃ ৪৯-৫০)।
পরিশেষে তারা নিজেরাই আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে। কিন্তু সেখানে তাদের ফরিয়াদে কর্ণপাত করা হবে না। কারণ, দুনিয়াতে তাদের উপর হুজ্জত পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আখেরাত তো ঈমান আনার এবং তওবা ও আমল করার স্থান নয়। আখেরাত তো প্রতিদান ও প্রতিফল লাভের স্থান। দুনিয়াতে যা কিছু করা হবে, তার পরিণাম সেখানে ভোগ করতে হবে।
৪৩ : ৭৯ اَمۡ اَبۡرَمُوۡۤا اَمۡرًا فَاِنَّا مُبۡرِمُوۡنَ
৭৯. নাকি তারা কোন ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে? নিশ্চয় আমিই তো চুড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী।
৪৩ : ৮০ اَمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّا لَا نَسۡمَعُ سِرَّهُمۡ وَ نَجۡوٰىهُمۡ ؕ بَلٰی وَ رُسُلُنَا لَدَیۡهِمۡ یَكۡتُبُوۡنَ
৮০. নাকি তারা মনে করে যে, আমরা তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণা শুনতে পাই না? অবশ্যই হ্যাঁ। আর আমাদের ফেরেশতাগণ তাদের কাছে থেকে সবকিছু লিখছে।
ফেরেশতাগণ আল্লাহর অন্যতম সৃষ্টি। তারা সব সময় আল্লাহর নির্দেশ প্রতিপালন করে থাকেন। তারা নিজের পক্ষ থেকে কোন কিছুই বলেন না। মহান আল্লাহ বলেন-
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হ’তে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফেরেশতামন্ডলী, যারা অমান্য করে না আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে’ (তাহরীম ৬)।
তোমরা তো প্রতিদান ও শাস্তিকে অস্বীকার কর। কিন্তু তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, তোমাদের প্রতিটি কথা ও কর্মকে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। আল্লাহর তরফ হতে তোমাদের জন্য ফিরিশতা প্রহরী হিসাবে নিযুক্ত আছে; যারা তোমাদের প্রতিটি কথাকে জানে, যা তোমরা করছ। এটা হল মানুষের জন্য সতর্কবার্তা যে, প্রত্যেক কর্ম করা ও প্রত্যেক কথা বলার পূর্বে চিন্তা-ভাবনা করে দেখ, এটা ভুল নয় তো।
عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيْد، مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلاَّ لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْد)
অর্থাৎ, এক ফিরিশতা (মানুষের) ডাইনে ও অন্য এক ফিরিশতা (তার) বামে বসে আছে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, (তাই লিপিবদ্ধ করার জন্য) তার কাছে তৎপর প্রহরী প্রস্তুত রয়েছে। (সূরা ক্বাফ ১৭-১৮ নং) অর্থাৎ, লিখার জন্য বলা হয়, একজন ফিরিশতা নেকী ও অন্য একজন ফিরিশতা বদী লিখে থাকেন। আর হাদীস ও আসার দ্বারা বোঝা যায় যে, দিনে তার জন্য দুই ফিরিশতা এবং রাত্রে দুই ফিরিশতা পৃথক পৃথক নির্দিষ্ট থাকেন। পরবর্তীতে নেকী এবং বদী উভয়ের উল্লেখ করা হচ্ছে।
৮২ : ১০ وَ اِنَّ عَلَیۡكُمۡ لَحٰفِظِیۡنَ
৮২ : ১১ كِرَامًا كَاتِبِیۡنَ
৮২ : ১২ یَعۡلَمُوۡنَ مَا تَفۡعَلُوۡنَ আর নিশ্চয় নিয়োজিত আছেন তোমাদের উপর সংরক্ষকদল; সম্মানিত (আমল) লেখকবর্গ (ফিরিশতা);তারা জানে তোমরা যা কর। সূরা ইনফিতারঃ ১০-১২
৪৩ : ৮১ قُلۡ اِنۡ كَانَ لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدٌ ٭ۖ فَاَنَا اَوَّلُ الۡعٰبِدِیۡنَ
বলুন, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমি হতাম তাঁর ইবাদতে ঘৃণাকারীদের অগ্রণী
ওপরে عَابِدِينَ এর অর্থ করা হয়েছে, ঘৃণাকারী। এটা আরবী বিভিন্ন বাকরীতিতে ব্যবহৃত আছে। অন্য অনুবাদ হচ্ছে, বলুন হে মুহাম্মাদ! যদি রহমানের কোন সন্তান থাকে যেটা তোমরা তোমাদের কথায় দাবী করছ, তবে তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করণে ও তোমাদের দাবী অস্বীকারকরণে আমি প্রথম আল্লাহর উপর মুমিন। কারণ, তাঁর কোন সন্তান থাকতে পারে না। [তাবারী] তখন عَابِدِينَ শব্দের অর্থ হবে, مُؤْمِنِيْنَ আর কথার বাকী অংশ উহ্য থাকবে। তাছাড়া আরেক অনুবাদ হচ্ছে, ইবাদতকারী। অর্থাৎ যদি ধরে নেয়া হয়, তাঁর সন্তান আছে তারপরও আমি আল্লাহরই ইবাদাত করব। কারণ, আমি তাঁর বান্দা। আর বান্দা স্রষ্টার নির্দেশের বাইরে যেতে পারে না। [ইবন কাসীর]
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর সন্তান হওয়া কোন পর্যায়ে সম্ভব। বরং উদ্দেশ্য একথা ব্যক্ত করা যে, আমি কোন শক্রতা ও হঠকারিতাবশতঃ তোমাদের বিশ্বাস অস্বীকার করছি না; বরং প্রমাণাদির আলোকেই করছি। বিশুদ্ধ প্রমাণাদি দ্বারা আল্লাহর সন্তান থাকা প্রমাণিত হলে আমি অবশ্যই তা মেনে নিতাম। কিন্তু সর্বপ্রকার দলীল এর বিপক্ষে। কাজেই মেনে নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। এ থেকে জানা গেল যে, মিথ্যাপন্থীদের সাথে বিতর্কের সময় নিজের সত্যপ্রিয়তা ফুটানোর উদ্দেশ্যে একথা বলা জায়েয ও সমীচীন যে, তোমার দাবী সত্য প্রমাণিত হলে আমি মেনে নিতাম। কেননা, মাঝে মাঝে এধরনের কথায় প্রতিপক্ষের মনে নম্রতা সৃষ্টি হয়, যা তাকে সত্য গ্রহণে উৎসাহিত করে। [দেখুন: তাবারী; কুরতুবী; ইবন কাসীর আদওয়াউল বায়ান]
৪৩ : ৮২ سُبۡحٰنَ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ رَبِّ الۡعَرۡشِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ
৮২-তারা যা আরোপ করে তা থেকে আসমানসমূহ ও যমীনের রব এবং আরশের রব পবিত্র-মহান।
এটা আল্লাহর উক্তি, যাতে তিনি তাঁর (সমস্ত দোষ-ত্রুটি থেকে) মুক্ত ও পবিত্রতা হওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছেন। অথবা রসূল (সাঃ)-এর কথা, তিনিও আল্লাহর নির্দেশে তাঁকে সেই সব জিনিস থেকে মুক্ত এবং পাক ও পবিত্র হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন, যেগুলোর সাথে মুশরিকরা আল্লাহকে সম্পৃক্ত করে।
৪৩ : ৮৩ فَذَرۡهُمۡ یَخُوۡضُوۡا وَ یَلۡعَبُوۡا حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَهُمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ
৮৩. অতএব আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন তারা মগ্ন থাকুক বেহুদা কথায় এবং মত্ত থাকুক খেল-তামাশায় যে দিনের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তার সম্মুখীন হওয়ার আগ পর্যন্ত।
এখন যদি ওরা হিদায়াতের পথ অবলম্বন না করে, তবে তুমি তাদেরকে নিজ অবস্থাতেই ছেড়ে দাও এবং দুনিয়ার খেলা-ধূলায় মেতে থাকতে দাও। এটা হল ধমক ও হুঁশিয়ারি।
তাদের চোখ সেই দিনই খুলবে, যেদিন তাদের এই আচরণের পরিণাম তাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়ে যাবে।
৪৩ : ৮৪ وَ هُوَ الَّذِیۡ فِی السَّمَآءِ اِلٰهٌ وَّ فِی الۡاَرۡضِ اِلٰهٌ ؕ وَ هُوَ الۡحَكِیۡمُ الۡعَلِیۡمُ
৮৪. আর তিনিই সত্য ইলাহ আসমানে এবং তিনিই সত্য ইলাহ যমীনে। আর তিনি হিকমতওয়ালা, সর্বজ্ঞ।
এ রকম নয় যে, আকাশের উপাস্য অন্য একজন এবং পৃথিবীর উপাস্য আর একজন। বরং যেমন এই উভয়েরই সৃজনকর্তা একজনই, অনুরূপ উপাস্যও একজনই। এই অর্থেরই আয়াত হল এটা,
{وَهُوَ اللهُ فِي السَّمَوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُوْنَ} (الأنعام: ৩)
অর্থাৎ, তিনিই আল্লাহ আসমানে এবং যমীনে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য জানেন এবং তোমরা যা কর, তাও অবগত। (আনআমঃ ৩)
এ রকম নয় যে, আকাশের উপাস্য অন্য একজন এবং পৃথিবীর উপাস্য আর একজন। বরং যেমন এই উভয়েরই সৃজনকর্তা একজনই, অনুরূপ উপাস্যও একজনই। এই অর্থেরই আয়াত হল এটা, {وَهُوَ اللهُ فِي السَّمَوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُوْنَ} (الأنعام: ৩) অর্থাৎ, তিনিই আল্লাহ আসমানে এবং যমীনে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য জানেন এবং তোমরা যা কর, তাও অবগত। (আনআমঃ ৩)
৪৩ : ৮৫ وَ تَبٰرَكَ الَّذِیۡ لَهٗ مُلۡكُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ مَا بَیۡنَهُمَا ۚ وَ عِنۡدَهٗ عِلۡمُ السَّاعَۃِ ۚ وَ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ
৮৫. আর তিনি বরকতময়, যার কর্তৃত্বে রয়েছে আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছু। আর কিয়ামতের জ্ঞান শুধু তাঁরই আছে এবং তারই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।
এমন সত্তা যিনি সমস্ত এখতিয়ারের মালিক এবং আকাশ-পৃথিবীর রাজত্ব যাঁর হাতে, তাঁর সন্তান-সন্ততির কিসের প্রয়োজন? কিয়ামতের জ্ঞান শুধু তাঁরই আছে, যা তিনি যথাসময়েই প্রকাশ করবেন। তারই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে। যেখানে তিনি প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান ও শাস্তি দেবেন।
পৃথিবীতে তোমরা যাকেই সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষক বানাও না কেন মৃত্যুর পর সেই একমাত্র আল্লাহর সাথেই তোমাদের পাল্লা পড়বে। তাঁর আদালতেই তোমাদের সমস্ত কাজকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
৪৩ : ৮৬ وَ لَا یَمۡلِكُ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِهِ الشَّفَاعَۃَ اِلَّا مَنۡ شَهِدَ بِالۡحَقِّ وَ هُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ
৮৬. আর তিনি ছাড়া তারা যাদেরকে ডাকে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না, তবে তারা ছাড়া, যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়।
এ আয়াতাংশের কয়েকটি অর্থঃ
প্রথম অর্থ হচ্ছে, মানুষ পৃথিবীতে যাদেরকে উপাস্য বানিয়ে রেখেছে তারা কেউই আল্লাহর কাছে শাফায়াতকারী নয়। তাদের মধ্যে যারা পথভ্রষ্ট ও দুষ্কর্মশীল তারা নিজেরাই তো সেখানে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত হবে। তবে যারা জ্ঞানের ভিত্তিতে (না জেনে শুনে নয়) ন্যায় ও সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছিলো তাদের কথা ভিন্ন।
দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, যারা শাফায়াত করার ক্ষমতা ও ইখতিয়ার লাভ করবে তারাও কেবল সেই সব লোকের জন্যই শাফায়াত করতে পারবে যারা পৃথিবীতে জেনে শুনে (গাফলতিতে ও অজান্তে নয়) ন্যায় ও সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে। যে ব্যক্তি পৃথিবীতে ন্যায় ও সত্যের প্রতি রুষ্ঠ ছিল কিংবা না বুঝে শুনে أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ও বলতো এবং অন্যান্য উপাস্যদের উপাসনাও করতো এমন কোন ব্যক্তির শাফায়াত না তারা নিজেরা করবে না তা করার অনুমতি পাবে।
তৃতীয় অর্থ হচ্ছে,
কেউ যদি বলে, সে যাদের উপাস্য বানিয়ে রেখেছে তারা অবশ্যই শাফায়াতের ক্ষমতা ও এখতিয়ার রাখে এবং আল্লাহর কাছে তাদের এমন ক্ষমতা ও আধিপত্য আছে যে, আকীদা-বিশ্বাস যাই হোক না কেন তারা যাকে ইচ্ছা মাফ করিয়ে নিতে পারে, তাহলে সে মিথ্যা বলে। আল্লাহর কাছে কারোরই এই মর্যাদা নেই। যে ব্যক্তি কারো জন্য এমন শাফায়াতের দাবী করে সে যদি জ্ঞানের ভিত্তিতে একথা সত্য হওয়ার প্রমাণ পেশ করতে পারে তাহলে সাহস করে এদিকে আসুক। কিন্তু সে যদি এরূপ প্রমাণ পেশ করার মত পজিশনে না থাকে— এবং নিশ্চিতভাবেই নেই—তাহলে অযথা শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে কিংবা শুধু অনুমান, সংস্কার ও ধারণার বশবর্তী হয়ে এরূপ একটি আকীদা পোষণ করা একেবারেই অর্থহীন আর এই খেয়ালীপনার ওপর নির্ভর করে নিজেদের পরিণামকে বিপদগ্রস্ত করা চরম নির্বুদ্ধিতা।
এ আয়াত থেকে আনুসাঙ্গিকভাবে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি পাওয়া যায়। এক, এ থেকে জানা যায়, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে জ্ঞানবিহীন সাক্ষ্য দুনিয়াতে গ্রহণযোগ্য হলেও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। দুনিয়াতে যে ব্যক্তিই মুখে কালেমা শাহাদাত উচ্চারণ করবে আমরা তাকে মুসলমান হিসেবে মেনে নেবো এবং যতক্ষণ না সে প্রকাশ্যে সুস্পষ্ট কুফরী করবে ততক্ষণ আমরা তার সাথে মুসলমানদের মতই আচরণ করতে থাকবো। কিন্তু আল্লাহর কাছে শুধু সেই ব্যক্তিই ঈমানদার হিসেবে গণ্য হবে যে তার জ্ঞান ও বুদ্ধির সীমা অনুসারে জেনে বুঝে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ বলেছে এবং সে একথা বুঝে যে এভাবে সে কি কি বিষয় অস্বীকার করেছে এবং কি কি বিষয় স্বীকার করে নিচ্ছে।
দুই, এ থেকে সাক্ষ্য আইনের এই সূত্রটিও পাওয়া যায় যে, সাক্ষ্যের জন্য জ্ঞান থাকা শর্ত। সাক্ষী যে ঘটনার সাক্ষ্য দান করছে তার যদি সে সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে তাহলে তার সাক্ষ্য অর্থহীন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের একটি ফায়সালা থেকেও এ বিষয়টি জানা যায়। তিনি একজন সাক্ষীকে বলেছিলেনঃ
اذا رايت مثل الشمس فاشهد والافدع (احكام القران للجصاص)
“যদি তুমি নিজ চোখে ঘটনা এমনভাবে দেখে থাকো যেমন সূর্যকে দেখছো তা হলে সাক্ষ্য দাও। তা না হলে দিও না।”
হক বা সত্য বলতে বুঝানো হয়েছে, তাওহীদের কালেমা ‘লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহ’কে। এর স্বীকৃতি ও সাক্ষ্য জ্ঞান ও উপলব্ধির ভিত্তিতে হবে। (এর অর্থ না বুঝে) কেবল প্রথাগত ও (অন্যের) দেখাদেখির ভিত্তিতে যেন না হয়। অর্থাৎ, মৌখিকভাবে কালেমা তাওহীদের ঘোষণাদাতাকে জেনে রাখতে হবে যে, এতে কেবল এককভাবে আল্লাহর উপাস্যত্বকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং অন্যান্য সমস্ত উপাস্যের উপাস্যত্ব নাকচ করা হয়েছে। অতঃপর (আন্তরিকভাবে) এই অনুযায়ী হবে তার আমল। এ রকম লোকের ব্যাপারে সুপারিশকারীদের সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে। অথবা অর্থ হল, সুপারিশ করার অধিকার কেবল তাঁরাই লাভ করবেন, যাঁরা সত্যকে স্বীকার করবেন। অর্থাৎ, আম্বিয়া, নেকলোক এবং ফিরিশতাগণ এই অধিকার লাভ করবেন। সেই বাতিল উপাস্যরা নয়, যাদেরকে মুশরিকরা মনগড়াভাবে নিজেদের সুপারিশকারী মনে করে থাকে।
৪৩ : ৮৭ وَ لَئِنۡ سَاَلۡتَهُمۡ مَّنۡ خَلَقَهُمۡ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰهُ فَاَنّٰی یُؤۡفَكُوۡنَ
৮৭. আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। অতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?
এর দু’টি অর্থ। একটি হচ্ছে, যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, তাদের কে সৃষ্টি করেছেন? তাহলে তারা বলবে, আল্লাহ। অপরটি হচ্ছে, যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, তাদের উপাস্যদের স্রষ্টা কে তাহলে তারা বলবে, আল্লাহ।
৪৩ : ৮৮ وَ قِیۡلِهٖ یٰرَبِّ اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ قَوۡمٌ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ
৮৮. আর তাঁর (রাসূল) এ উক্তিঃ হে আমার রব! নিশ্চয় এরা এমন সম্প্রদায় যারা ঈমান আনবে না।
وَقِيْلِهِ এর সংযোগ হল وَعِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ এর সাথে। অর্থাৎ, وَعِلْمُ قِيْلِهِ আল্লাহরই কাছে রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান এবং স্বীয় পয়গম্বরের অভিযোগের জ্ঞান।
কুরআন মজীদের যেসব আয়াতে আরবী ব্যাকরণের অত্যন্ত জটিল প্রশ্ন দেখা দেয় এ আয়াতটি তার অন্যতম। এখানে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে যে, وقيله কথাটির মধ্যে واو কোন্ প্রকৃতির এবং ওপরের বক্তব্যের ধারাবাহিকতার মধ্যে কোন জিনিসটির সাথে এর সম্পর্ক? তাফসিরকারগণ এ সম্পর্কে বহু আলোচনা করেছেন। কিন্তু তাদের সেই সব আলোচনার মধ্যে আমি কোন সন্তোষজনক বিষয় পাইনি। শাহ আবদুল কাদের (র) সাহেবের অনুবাদ থেকে যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় সেইটিই আমার কাছে সর্বাধিক বিশুদ্ধ বলে মনে হয় অর্থাৎ এখানে واو ‘আতাফ’-এর (বাক্য সংযোজনের জন্য) জন্য ব্যবহৃত হয়নি, বরং শপথের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ আয়াতাংশের সাথে সম্পর্কিত। আর قيله এর সর্বনাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। يَا رَبِّ إِنَّ هَؤُلَاءِ قَوْمٌ لَا يُؤْمِنُونَ (হে রব, এরাই সেই সব লোক যারা মানছে না) আয়াতাংশ যার প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করছে। এক্ষেত্রে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়ঃ
“রসূলের এই বাণীর শপথ যে, হে রব! এরাই সেই সব লোক যারা মানছে না” কী বিস্ময়কর এদের প্রতারিত হওয়া। এরা নিজেরাই স্বীকার করছে যে, এদের ও এদের উপাস্যদের স্রষ্টাও আল্লাহ। তা সত্ত্বেও স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে সৃষ্টি উপাসনার জন্য গোঁ ধরে আছে।
রসূলের এই কথাটির শপথ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের এই আচরণ স্পষ্ট প্রমাণ করছিলো যে, তারা প্রকৃতই হঠকারী লোক। কারণ, তাদের নিজেদের স্বীকৃতি অনুসারে তাদের আচরণের অযৌক্তিকতা প্রকাশ পাচ্ছে। এ ধরনের অযৌক্তিকতা আচরণ শুধু সেই ব্যক্তিই করতে পারে যে, না মানার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছে। অন্য কথায় এ শপথের অর্থ হচ্ছে, রসূল অতীব সত্য কথাই বলেছেন। প্রকৃতই এরা মেনে নেয়ার মত লোক নয়।
৪৩ : ৮৯ فَاصۡفَحۡ عَنۡهُمۡ وَ قُلۡ سَلٰمٌ ؕ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ﴿
৮৯. কাজেই আপনি তাদেরকে উপেক্ষা করুন এবং বলুন, সালাম, অতঃপর তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
এ সালাম হল সম্পর্কচ্ছেদ করার সালাম। যেমন, সূরা ক্বাসাস ৫৫ আয়াত {سَلاَمٌ عَلَيْكُنمْ لاَ نَبْتَغِيْ الْجَاهِلِيْنَ} এবং সূরা ফুরকান ৬৩ আয়াত {قَالُوْا سَلاَمًا} -এ রয়েছে। অর্থাৎ, দ্বীনের ব্যাপারে আমার ও তোমাদের পথ ভিন্ন ভিন্ন। তোমরা যদি ফিরে না এসো তো ঠিক আছে, তোমরা তোমাদের কাজ করে যাও, আমিও আমার কাজ করে যাচ্ছি। অতঃপর অতি সত্বর জেনে নেবে যে, কে সত্যবাদী, আর কে মিথ্যাবাদী।
অর্থাৎ তাদের রূঢ় কথা এবং ঠাট্টা-বিদ্রূপের কারণে তাদের জন্য বদদোয়া করো না কিংবা তার জবাবে রূঢ় কথা বলো না। বরং সালাম দিয়ে তাদের কাছে থেকে সরে যাও।