সূরা যুখরুফঃ ৪র্থ রুকু (৩৬-৪৫)আয়াত

ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। রহমানের ‘যিকর’ অর্থ তাঁর পক্ষ থেকে আসা উপদেশ বাণী এবং কুরআনও।

عَشَا يَعْشُو এর অর্থ হল, চোখের রোগ রাতকানা অথবা তার কারণে যে অন্ধত্ব আসে। অর্থাৎ, যে আল্লাহর যিকর থেকে অন্ধ (বা উদাসীন) হয়ে যায়।

এই শয়তান আল্লাহর যিকর থেকে উদাসীন ব্যক্তির সাথী হয়ে যায়। সে সব সময় তার সাথে থেকে তাকে সমস্ত নেকীর কাজে বাধা দেয়। অথবা মানুষ নিজেই এই শয়তানের সঙ্গী হয়ে যায় এবং তার নিকট থেকে কোন সময় পৃথক হয় না, বরং সমস্ত কার্যকলাপে তারই অনুসরণ করে এবং তার যাবতীয় কুমন্ত্রণায় তার আনুগত্য করে।

 وَ مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِكۡرِیۡ فَاِنَّ لَهٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡكًا وَّ نَحۡشُرُهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَعۡمٰی

আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয় তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত এবং আমরা তাকে কিয়ামতের দিন জমায়েত করব অন্ধ অবস্থায়। (সূরা ত্বাহা:-১২৪)

এখানে যিকর-এর অর্থ কুরআনও হতে পারে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামও হতে পারে, যেমন- অন্য আয়াতে ذِكْرًا رَّسُولًا বলা হয়েছে। [কুরতুবী] তবে অধিকাংশের নিকট এখানে কুরআন বোঝানো হয়েছে। সারমর্ম এই যে, যে ব্যক্তি কুরআনের বিধি-বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, কুরআনের নির্দেশের আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়; অন্যদের থেকে হিদায়াত গ্ৰহণ করে, তার পরিণাম এই যে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে। [ইবন কাসীর] কুরআনের ভাষ্যে ঐ সমস্ত লোকদের জন্য সংকীর্ণ ও তিক্ত জীবনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যারা আল্লাহর কুরআন ও তাঁর রাসূলের প্রদর্শিত পথে চলতে বিমুখ হয়। কিন্তু কোথায় তাদের সে সংকীর্ণ ও তিক্ত জীবন হবে তা নির্ধারণে বেশ কয়েকটি মত রয়েছেঃ

এক) তাদের দুনিয়ার জীবন সংকীর্ণ হবে। তাদের কাছ থেকে অল্পে তুষ্টির গুণ ছিনিয়ে নেয়া হবে এবং সাংসারিক লোভ-লালসা বাড়িয়ে দেয়া হবে। যা তাদের জীবনকে অতিষ্ট করে তুলবে। ফলে তাদের কাছে যত অর্থ-সম্পদই সঞ্চিত হোক না কেন, আন্তরিক শান্তি তাদের ভাগ্যে জুটবে না। সদা-সর্বদা সম্পদ বৃদ্ধি করার চিন্তা এবং ক্ষতির আশঙ্কা তাদেরকে অস্থির করে তুলবে। কেননা, সুখ-শান্তি অন্তরের স্থিরতা ও নিশ্চিন্ততার মাধ্যমেই অর্জিত হয়; শুধু প্রাচুর্য্যে নয়। [দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]

দুই) অনেক মুফাসসিরের মতে এখানে সংকীর্ণ জীবন বলতে কবরের জীবনকে বোঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর] অর্থাৎ তাদের কবর তাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে যাবে বিভিন্ন প্রকার শাস্তির মাধ্যমে। এতে করে কবরে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে দেয়া হবে। তাদের বাসস্থান কবর তাদেরকে এমনভাবে চাপ দেবে যে, তাদের পাঁজর ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং (مَعِيشَةً ضَنْكًا) এর তাফসীরে বলেছেন যে, এখানে কবর জগত ও সেখানকার আযাব বোঝানো হয়েছে। [মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ২/৩৮১ নং ৩৪৩৯, ইবনে হিব্বানঃ ৭/৩৮৮, ৩৮৯ নং ৩১১৯]

তাছাড়া বিভিন্ন সহীহ হাদীসে কবরের যিন্দেগীর বিভিন্ন শাস্তির যে বর্ণনা এসেছে, তা থেকে বুঝা যায় যে, যারা আল্লাহ, কুরআন ও রাসূলের প্রদর্শিত দ্বীন থেকে বিমুখ হবে, কবরে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “মুমিন তার কবরে সবুজ প্রশস্ত উদ্যানে অবস্থান করবে। আর তার কবরকে ৭০ গজ প্রশস্ত করা হবে। পূর্নিমার চাঁদের আলোর মত তার কবরকে আলোকিত করা হবে। তোমরা কি জান আল্লাহর আয়াত (তাদের জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন) কাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে? তোমরা কি জানো সংকীর্ণ জীবন কি? সাহাবায়ে কেরাম বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা হল কবরে কাফেরের শাস্তি। যার হাতে আমার জীবন, তার শপথ করে বলছি- তাকে ন্যস্ত করা হবে ৯৯টি বিষাক্ত তিন্নিন সাপের কাছে। তোমরা কি জানো তিন্নিন কি? তিন্নিন হল ৯৯টি সাপ। প্রত্যেকটি সাপের রয়েছে ৭টি মাথা। যেগুলো দিয়ে সে কাফেরের শরীরে ছোবল মারতে থাকবে, কামড়াতে ও ছিড়তে থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। [ইবনে হিব্বানঃ ৩১২২, দারেমীঃ ২৭১১, আহমাদঃ ৩/৩৮, আবু ইয়া’লাঃ ৬৬৪৪, আব্‌দ ইবনে হুমাইদঃ ৯২৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদঃ ৩/৫৫]

 তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় হাশার করা হবে।

এখানে অন্ধ অবস্থার কয়েকটি অর্থ হতে পারে-

(এক) বাস্তবিকই সে অন্ধ হয়ে উঠবে।

(দুই) সে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না।

(তিন) সে তার পক্ষে পেশ করার মত কোন যুক্তি থেকে অন্ধ হয়ে যাবে। কোন প্রকার প্রমাণাদি পেশ করা থেকে অন্ধ হয়ে থাকবে। [দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]

তখন তার পরবর্তী আয়াতের অর্থ হবে- সে বলবেঃ হে আমার রব! আমাকে কেন আমার যাবতীয় যুক্তিহীন অবস্থায় হাশর করেছেন? আল্লাহ উত্তরে বলবেনঃ অনুরূপভাবে তোমার কাছে আমার নিদর্শনসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি সেগুলো ত্যাগ করে ভুলে বসেছিলে, তাই আজকের দিনেও তোমাকে যুক্তি-প্রমাণহীন অবস্থায় অন্ধ করে ত্যাগ করা হবে, ভুলে যাওয়া হবে। কারণ এটা তো তোমারই কাজের যথোপযুক্ত ফল। [ইবন কাসীর]

وَ اذۡکُرۡ رَّبَّکَ فِیۡ نَفۡسِکَ تَضَرُّعًا وَّ خِیۡفَۃً وَّ دُوۡنَ الۡجَهۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَ الۡاٰصَالِ وَ لَا تَکُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِیۡنَ

আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে স্মরণ কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। ( আরাফ ২০৫)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡهِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَ لَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। (৬৩. মুনাফিকুন ০৯)

আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবেনা সে দিন আল্লাহ তা’আলা সাত প্রকার মানুষকে সে ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। ১। ন্যায়পরায়ণ শাসক। ২। যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থেকে যৌবনে উপনীত হয়েছে। ৩। যার অন্তরের সম্পর্ক সর্বদা মসজিদের সাথে থাকে। ৪। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে দু’ব্যাক্তি পরস্পর মহব্বত রাখে, উভয়ে একত্রিত হয় সেই মহব্বতের উপর আর পৃথক হয় সেই মহব্বতের উপর। ৫। এমন ব্যাক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী (অবৈধ মিলনের জন্য) আহবান জানিয়েছে। তখন সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। ৬। যে ব্যাক্তি গোপনে এমনভাবে সা’দকা করে যে, তার ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জনতে পারেনা। ৭। যে ব্যাক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে অশ্রু বের হয়ে পড়ে। (বুখারী ১৪২৩)

আবূ মূসা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে তার প্রতিপালকের যিকর করে, আর যে যিকর করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি। (বুখারী ৬৪০৭; মুসলিম ৭৭৯)

শয়তানরা সে সমস্ত লোকদেরকে সৎ পথ থেকে দূরে রাখে যারা আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ। শয়তানরা স্মরণবিমুখ লোকদের জন্য ভ্ৰষ্ট পথকে সুশোভিত করে দেখায়, আর আল্লাহর উপর ঈমান ও সৎকাজ করাকে অপছন্দনীয় করে রাখে। আর আল্লাহর স্মরণ বিমুখ লোকেরা শয়তানের পক্ষ থেকে সুশোভিত করার কারণে তারা যে ভ্ৰষ্ট মতাদর্শের উপর রয়েছে সেটাকেই হক ও হেদায়াতের পথ মনে করতে থাকে। [দেখুনঃ মুয়াস্‌সার]

مَشْرِقَيْنِ (দ্বিবচনঃ দুই পূর্ব) থেকে পূর্ব ও পশ্চিমকে বুঝানো হয়েছে। فَبِئْسَ الْقَرِيْنُ এর ‘মাখসূস বিযযাম্ম’ (নিন্দিত) ঊহ্য আছেঃ أَنْتَ أَيُّهَا الشَّيْطَانُ! হে শয়তান, তুমি অতীব নিকৃষ্ট সাথী। এটা কাফের কিয়ামতের দিন বলবে। কিন্তু সেদিন এই স্বীকৃতির লাভ কি হবে?

যার ব্যাপারে অনন্তকালের জন্য দুর্ভাগ্য লিপিবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সে ওয়ায-নসীহত শোনার ব্যাপারে কানা ও কালা। তোমার দাওয়াত ও তবলীগে সে সঠিক পথে আসতে পারবে না। এখানে ‘ইস্তিফহাম’ (জিজ্ঞাসা) ‘ইনকার’ (অস্বীকৃতি) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যেভাবে বধির (কালা) শোনা হতে এবং অন্ধ দেখা থেকে বঞ্চিত, অনুরূপ প্রকাশ্য ভ্রষ্টতায় পতিত ব্যক্তিও সত্যের দিকে আসা থেকে বঞ্চিত। এতে নবী (সাঃ)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। যাতে এই ধরনের লোকদের কুফরীর কারণে তিনি বেশী অস্থিরতা অনুভব না করেন।

কাতাদাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এ আয়াতের তাফসীরে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলে গেছেন এখন প্রতিশোধ নেয়া বাকী আছে। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবীকে তার উম্মাতের মধ্যে এমন কিছু দেখাননি যা তার মনোকষ্টের কারণ হবে। শেষ পর্যন্ত রাসূল চলে গেলেন। অন্যান্য নবীগণের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ছিল, তারা তাদের জীবদ্দশাতেই তাদের উম্মাতের উপর শাস্তি আপতিত হতে দেখেছিলেন। [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৪৭]

যে পরিস্থিতিতে একথা বলা হয়েছে তা সামনে রাখলেই এ কথার তাৎপর্য ভালভাবে উপলব্ধি করা যেতে পারে। মক্কার কাফেররা মনে করছিলো, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তি সত্তাই তাদের জন্য বিপদ হয়ে আছে। মাঝ পথ থেকে এই কাঁটা সরিয়ে দিতে পারলেই তাদের সব কিছু সুন্দর ও ঠিকঠাক হয়ে যাবে। এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে কোন না কোনভাবে তাঁকে হত্যা করার জন্য তারা রাত দিন বসে বসে পরামর্শ করতো। এতে আল্লাহ‌ তাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলছেনঃ তোমার বর্তমান থাকা না থাকা কিছুই আসে যায় না। তুমি বেঁচে থাকলে তোমার চোখের সামনেই তাদের দুর্ভাগ্য নেমে আসবে। আর যদি তোমাকে উঠিয়ে নেয়া হয় তাহলে তোমার বিদায়ের পরে তাদের দফারফা হবে। অশুভ কর্মফল এখন তাদের ভাগ্যের লিখন হয়ে গিয়েছে। এর হাত থেকে তাদের পক্ষে রক্ষা পাওয়া আর সম্ভব নয়।

এই নির্দিষ্টীকরণের অর্থ এই নয় যে, অন্যদের জন্য উপদেশ নয়। বরং সর্বপ্রথম সম্বোধন যেহেতু কুরাইশদেরকেই করা হয়েছে সেহেতু তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নচেৎ কুরআন তো সারা বিশ্বের জন্য উপদেশ। মহান আল্লাহ বলেন,

{وَمَا هُوَ إِلاَّ ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِيْنَ} (القلم: ৫২)

 যেমন, রসূল (সাঃ)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, {وَاَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْاَقْرَبِيْنَ} অর্থাৎ, তুমি তোমার নিকট আত্মীয়দেরকে সতর্ক কর। (সূরা শুআরাঃ ২১৪ আয়াত) এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর পয়গাম কেবল আত্মীয়দের কাছেই পৌঁছাতে হবে। বরং এর অর্থ হল, তবলীগের কাজ শুরু হবে নিজের আত্মীয়দের থেকেই। কেউ কেউ ‘যিকর’ অর্থ এখানে ‘সম্মান’ করেছেন। অর্থাৎ, এই কুরআন তোমার জন্য ও তোমার জাতির জন্য সম্মানের উৎস। এই কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এটাকে তারাই বেশী বুঝত এবং এরই মাধ্যমে তারা সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ মর্যাদা পেতে পারে। কাজেই এদের উচিত এটাকে গ্রহণ করে এর দাবী অনুযায়ী সর্বাধিক আমল করা।

নবীদেরকে এ প্রশ্ন হয়তো ইসরা ও মি’রাজের সময় বায়তুল মুক্বাদ্দাসে অথবা আসমানে করা হয়েছিল, যেখানে সমস্ত নবীদের সাথে রসূল (সাঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়েছিল। অথবা এখানে أَتْبَاعَ শব্দ ঊহ্য আছে। অর্থাৎ, তাঁদের অনুসারীদের (ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের)-কে জিজ্ঞাসা কর। কেননা, তারা তাঁদের যাবতীয় শিক্ষা সম্পর্কে অবগত আছে এবং তাঁদের উপর অবতীর্ণকৃত কিতাবগুলোও তাদের কাছে বিদ্যমান।

উত্তর অবশ্যই নেতিবাচক হবে। আল্লাহ কোন নবীকেই এই নির্দেশ দেননি। বরং এর বিপরীত প্রত্যেক নবীকে তাওহীদের প্রতি আহবান করারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।