রবিউল আউয়াল মাস সম্পর্কে জানি ও কিছু বাস্তব সময়ের প্রশ্নের উত্তর

রবিউল আউয়াল মাস সম্পর্কে জানি ও কিছু প্রশ্নের উত্তর

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে আলেমগণের একাধিক অভিমত ও অগ্রগণ্য মতের উল্লেখ

প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ কোনটি? আমার জানা মতে এ বিষয়ে অনেকগুলো অভিমত। এর মধ্যে বিশুদ্ধ অভিমত কোনটি- কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে জানতে চাই ?

উত্তর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

এক:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের দিন ও মাস নির্দিষ্ট করা নিয়ে সিরাতপ্রণেতা ও ঐতিহাসিকগণ মতানৈক্য করেছেন। এ মতানৈক্যেরযৌক্তিক কারণও রয়েছে।যেহেতু কারো জানা ছিল না যে, এ নবজাতকভবিষ্যতেবড় কিছু হবে? অন্য নবজাতকের জন্মকে যেভাবে নেয়া হত তার জন্মকেও সেভাবে নেয়া হয়েছে। এ জন্য কারো পক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম তারিখ নির্দিষ্টভাবেনিশ্চিত করেননি। ড. মুহাম্মদ তাইয়েব আন-নাজ্জার -রাহিমাহুল্লাহ- বলেন:

“সম্ভবত এর রহস্য হলো- যখন তিনি জন্ম গ্রহণ করেন তখন তার থেকে কেউ এমন বিপদ আশঙ্কা করেনি। এ জন্যই জন্মলগ্ন থেকে নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত সময়েআলোচনায় আসেননি। চল্লিশ বছর বয়সে যখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে রিসালাতের দাওয়াত পৌঁছানোর নির্দেশ প্রদান করেন তখন থেকে মানুষ এ নবী সংক্রান্ত তাদের স্মৃতিতে গেঁথে থাকা ঘটনাগুলো স্মরণ করতে থাকে এবং একে অপরকে তাঁর জীবনের খুঁটিনাটি সব ইতিহাস জিজ্ঞেস করতে থাকে। এ বিষয়ে তাদেরকে অনেকটা সমৃদ্ধ করেছেবুঝবান হওয়ার পর থেকে নিজের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বর্ণনা- যে ঘটনাগুলো তিনি পার করেছেন অথবা তাঁর উপর দিয়ে পার হয়েছে। অনুরূপভাবে তার সাহাবীগণের বর্ণনা ও এসব ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গদের বর্ণনা।এভাবে মুসলমানেরা তাদের নবীর ইতিহাস সংক্রান্ত শ্রুত সব ঘটনা সংগ্রহ করা আরম্ভ করেন, যেন কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য তা বর্ণনা করে যেতে পারেন”।[আল-কাওলুল মুবিন ফী সীরাতে সায়্যিদিল মুরসালীন,(পৃষ্ঠা নং-৭৮]

দুই:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম সম্পর্কিত যে তথ্যগুলোর ব্যাপারে সকলে একমত সেটা হচ্ছে- জন্মের সাল ও দিন।

জন্মের সাল: তার জন্মের বছর ছিল “আমুল ফিল” তথা হস্তি বাহিনীর বছর। ইমাম ইবনুল কাইয়ূম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এতে কোন সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার অভ্যন্তরে হস্তি বাহিনীর বছর জন্ম গ্রহণ করেন।”[যাদুলমা‘আদ, পৃষ্ঠা-১/৭৬]

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ সালেহি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “ইবনেইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তার জন্ম ছিল হস্তি বাহিনীর বছর। ইবনে কাছির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: অধিকাংশ আলেমের নিকট এ অভিমতটি প্রসিদ্ধ। ইমাম বুখারির উস্তাদ ইবরাহিম ইবনেমুনযির বলেছেন: এ ব্যাপারে কোন আলেম দ্বিমত পোষণ করেননি। খলিফা ইবনে খাইয়্যাত, ইবনুল জাযযার, ইবনে দিহইয়াহ, ইবনুল জাওযি ও ইবনুল কাইয়্যেম প্রমুখ আরেকটু বাড়িয়ে এ মতের উপর সকল সিরাতপ্রণেতারইজমা (মতৈক্য)উল্লেখ করেছেন।”[সুবুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতে খাইরিল ইবাদ (১/৩৩৪-৩৩৫)]

ড. আকরাম জিয়া আল-উমরিবলেন:

“সত্য হলো: বিপরীত বর্ণনাগুলোর প্রত্যেকটির সনদ দুর্বল।যে বর্ণনাগুলোতে বলা হয়েছে যে, তাঁর জন্ম ছিল হস্তি বাহিনীর ১০ বছর অথবা ২৩ বছর অথবা ৪০ বছর পর। কিন্তু অধিকাংশ আলেম বলেছেন তাঁর জন্ম হয়েছে হস্তি বাহিনীর বছর। আধুনিক যুগে মুসলিম ও পাশ্চাত্যপন্থী গবেষকদের পরিচালিত গবেষণাও এ মতকে সমর্থন করে। তাদের মতে, হস্তি বাহিনীর বছর হচ্ছে- ৫৭০অথবা ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দ।”[আস-সিরাতুন নববিয়াহ আস-সাহিহাহ (১/৯৭)]

জন্মদিন: সোমবার। তিনি সোমবারে জন্ম গ্রহণ করেন, সোমবারে নবুওয়ত পান এবং সোমবারে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবু কাতাদা আনসারি (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :

سئلصلىاللهعليهوسلمعنصوميومالاثنين؟قال : ذاك يومولدتفيه،ويومبعثت – أوأنزلعليفيه). رواهمسلم : (1162)

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারেরোজা রাখার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: এ দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিনে আমাকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছে অথবা এ দিনে আমার উপর (অহি) নাযিল হয়েছে।” [সহিহ মুসলিম (১১৬২)]

ইবনে কাছির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “যারা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন রবিউল আউয়াল মাসের সতের তারিখ জন্ম গ্রহণ করেছেন, তাদের কথা সুদূর পরাহত; বরং ভুল। জনৈক শিয়া মতাবলম্বী কর্তৃক লিখিত “ইলামুর রুওয়া বি আলামিল হুদা”নামক গ্রন্থ থেকে হাফেজ ইবনে দিহইয়াহ এমতটিউদ্ধৃত করেছেন।এরপর তিনি এ মতের দুর্বলতা প্রমাণ করেছেন। এ মতটি আসলেই দুর্বল। যেহেতু এটি হাদিসের বিপরীত”। [আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (১/১৯৯)]

তিন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের ব্যাপারে মতবিরোধ হচ্ছে মাস ও তারিখনিয়ে। এ বিষয়ে আমরা আলেমদের বহু অভিমত জানতে পেরেছি, যেমন:

১. কেউ কেউ বলেছেন: ২ রা রবিউল আউয়াল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন।        ইবনে কাছির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “কেউ কেউ বলেছেন ২ রা রবিউল আউয়াল। ইবনে আব্দুল বারর “ইস্তেআব” গ্রন্থে এ অভিমত উল্লেখ করেন এবংওয়াকেদি এ বর্ণনাটি আবু মাশার নাজিহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাদানি থেকেও উদ্ধৃত করেন”।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ”(১/১৯৯)]

২. কেউ কেউ বলেন: ৮ ই রবিউল আউয়াল।

ইবনে কাছির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “কেউ বলেছেন: ৮ ই রবিউল আউয়াল। হুমাইদি এ বর্ণনাটি ইবনে হাজম থেকে বর্ণনা করেন। আর মালেক, উকাইল ও ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ প্রমুখ এটি বর্ণনা করেন জুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে। ইবনে আব্দুল বারর বলেন, ঐতিহাসিকরা এ মতটিকেসঠিক বলেছেন। হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারজেমি এ তারিখের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। হাফেজ আবুল খেতাব ইবনে দিহইয়াহ ‘আত-তানবির ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাজির’ গ্রন্থে এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন”।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ(১/১৯৯)]

৩. কেউ কেউ বলেছেন: ১০ রবিউল আউয়াল।

ইবনেকাছির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “কেউ বলেন: ১০ রবিউল আউয়াল। এ মতটি ইবনে দিহইয়াহ তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবংইবনে আসাকের এ মতটি আবু জাফর আল-বাকের থেকে এবং মুজালিদ নামক রাবী শা‘বি থেকে বর্ণনা করেন”।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ (১/১৯৯)]

৪. কেউ কেউ বলেছেন: ১২ রবিউল আউয়াল।

ইবনেকাছির (রাহিমাহুল্লাহ)বলেন: “কেউ বলেন,১২ রবিউল আউয়াল।ইবনে ইসহাক এ মতটিউল্লেখ করেন। ইবনে আবু শায়বাহ তার ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এ মতটি আফ্‌ফান থেকে, তিনিসাঈদইবনে মিনা থেকে, তিনি জাবের ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তারা উভয়ে বলেছেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তি বাহিনীর বছর, ১২ ই রবিউল আউয়াল, সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। এ দিনেই তাকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়, এ দিনেই তার মিরাজ হয়েছিল, এ দিনেই তিনি হিজরত করেছেন এবং এ দিনেই তিনি মারা যান’। জমহুর আলেমদের নিকট এ মতটিই বেশী প্রসিদ্ধ”।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ (১/১৯৯)]

কেউ কেউ বলেন: তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন রমযান মাসে, কারো কারো মতে, সফর মাসে; ইত্যাদি আরও অভিমতরয়েছে।

আমাদের নিকট যে মতটি অগ্রগণ্য মনে হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের আট বা বারো তারিখের কোন একদিন জন্ম গ্রহণ করেন।কিছুকিছু মুসলিম গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ গবেষণা করে বের করেছেন যে, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখসোমবার ছিল! তাহলে এটা আরেকটি মত হল। এ মতটিও শক্তিশালী, এ তারিখটি ৫৭১খৃষ্টাব্দের নিসান (এপ্রিল) মাসের বিশ তারিখ পড়ে। সমকালীন সিরাতপ্রণেতাদের কেউ কেউ এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যেউস্তাদ মুহাম্মদ আল-খুদারি ও শফিউর রহমান মোবারকপুরি অন্যতম।

আবু কাসেম আস-সুহাইলি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “গণিতবিদগণ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম সৌরমাস “নিসান”এর বিশ তারিখে ছিল”। [আর-রওদুল উন্‌ফ (১/২৮২)]

উস্তাদ মুহাম্মদ আল-খুদারী(রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “মিসরের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মরহুম মাহমুদ পাশা(মৃত্যু : ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ)-যিনি একাধারেজ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, গণিতবিদ্যা, বই লেখা ও গবেষণায় পারদর্শী ছিলেন-বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ছিল সোমবার সকাল বেলা, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখমোতাবেক এপ্রিল/নিসান-এর ২০ তারিখ, ৫৭১খ্রিষ্টাব্দ। এ বছরটি হস্তি বাহিনীর ঘটনার প্রথম বছর। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন বনু হাশেম পল্লীতে আবু তালেবের ঘরে”।[নূরুল ইয়াকিন ফি সিরাতে সাইয়্যেদিল মুরসালিন, পৃষ্ঠা-৯;আরও দেখুন: আর-রাহিকুল মাখতুম (পৃষ্ঠা নং: ৪১)]

চার:

মৃত্যুদিন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি সোমবার দিন মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুধবার মারা গেছেন মর্মে ইবনে কুতাইবার বর্ণনা সঠিক নয়। তবে এর দ্বারা যদি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফন করা বুঝিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক আছে।

মৃত্যু সাল: এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি ১১ হিজরিতে মারা যান।

মৃত্যু মাস: এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

কিন্তু এ মাসের নির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে আলেমগণের মতপার্থক্য রয়েছে:

১. অধিকাংশ আলেম বলেছেন: রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ।

২.খাওয়ারেযমি বলেছেন : রবিউল আউয়ালের প্রথম তারিখ।

৩. ইব্‌নুল কালবি ও আবু মিখনাফ বলেছেন : রবিউল আউয়াল মাসের ২ তারিখ। সুহাইলি ও হাফেজ ইবনে হাজার এ মতের দিকেই ঝুঁকেছেন।

তবে অধিকাংশ আলেমেরপ্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগারো হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন:সুহাইলিপ্রণীত “আর-রওদুল উন্‌ফ (৪/৪৩৯-৪৪০), ইবনে কাছিরের “আস-সিরাহ আন-নববিয়াহ” (৪/৫০৯), ইবনে হাজারের “ফাতহুল বারি” (৮/১৩০)।

আল্লাহই ভাল জানেন।সূত্র  

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

—————————-o———————-o———————o———————–

রবিউল আউয়াল মাস (ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)- হাদীসের নামে জালিয়াতি

মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও ওফাতের মাস হিসাবে রবিউল আউয়াল মাস মুসলিম মানসে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। এ মাসের ফযীলত, ও আমল বিষয়ক হাদীস আলোচনা করার আগে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম ও ইন্তিকাল সম্পর্কে হাদীস ও ইতিহাসের আলোকে আলোচনা করব। মহান আল্লাহর তাওফীক চাই।

(ক) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম দিবস

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম বার, জন্ম দিন, জন্ম মাস ও জন্ম তারিখ বিষয়ক হাদীস ও ঐতিহাসিক তথ্যাদি বিস্তারিত আলোচনা করেছি ‘এহইয়াউস সুনান’ গ্রন্থে। এখানে সংক্ষেপে কিছু বিষয় আলোচনা করছি।

সহীহ হাদীস থেকে সুস্পষ্টরূপে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন।মুসলিম, আস-সহহি ২/৮১৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ ৪/১৭২-১৭৩, নং ২৫০৬।

 হাদীসে নাবাবী থেকে তাঁর জন্মমাস ও জন্মতারিখ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। সাহাবীগণের মাঝেও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মত প্রচলিত ছিল না। পরবর্তী যুগের আলিম ও ঐতিহাসিকগণ তাঁর জন্মতারিখ সম্পর্কে অনেক মতভেদ করেছেন। এ বিষয়ে ১২টিরও বেশি মত রয়েছে। ইবন হিশাম, ইবন সা’দ, ইবন কাসীর, কাসতালানী ও অন্যান্য ঐতিহাসিক এ বিষয়ে নিম্নলিখিত মতামত উল্লেখ করেছেন :

(১). কারো মতে তাঁর জন্মতারিখ অজ্ঞাত, তা জানা যায় নি এবং জানা সম্ভব নয়। তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছেন এটুকুই শুধু জানা যায়, জন্ম মাস বা তারিখ জানা যায় না। এ বিষয়ে আলোচনা তারা অবান্তর মনে করেন।

(২). কারো কারো মতে তিনি মুহাররাম মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(৩). অন্য মতে তিনি সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(৪). কারো মতে তিনি রবিউল আউআল মাসের ২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় হিজরী শতকের অন্যতম ঐতিহাসিক মুহাদ্দিস আবু মা’শার নাজীহ বিন আব্দুর রাহমান আস-সিনদী (১৭০হি) এ মতটি গ্রহণ করেছেন।

(৫). অন্য মতে তাঁর জন্মতারিখ রবিউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ। আল্লামা কাসতালানী ও যারকানীর বর্ণনায় এ মতটিই অধিকাংশ মুহাদ্দিস গ্রহণ করেছেন। এ মতটি দু’জন সাহাবী ইবনু আববাস ও জুবাইর বিন মুতয়িম (রা) থেকে বর্ণিত। অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও সীরাত বিশেষজ্ঞ এ মতটি গ্রহণ করেছেন বলে তারা উল্লেখ করেছেন। প্রখ্যাত তাবিয়ী ইমাম মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন শিহাব আয-যুহরী (১২৫ হি.) তাঁর উস্তাদ প্রথম শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও নসববিদ ঐতিহাসিক তাবিয়ী মুহাম্মাদ ইবন জুবাইর ইবন মুতয়িম (১০০ হি.) থেকে এই মতটি বর্ণনা করেছেন। কাসতালানী বলেন : ‘‘মুহাম্মাদ ইবন জুবাইর আরবদের বংশ পরিচিতি ও আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর জন্মতারিখ সম্পর্কিত এ মতটি তিনি তাঁর পিতা সাহাবী জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে গ্রহণ করেছেন। স্পেনের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ আলী ইবন আহমাদ ইবন হাযম (৪৫৬ হি) ও মুহাম্মাদ ইবন ফাতুহ আল-হুমাইদী (৪৮৮ হি) এ মতটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছেন। স্পেনের মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসূফ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল বার (৪৬৩ হি) উল্লেখ করেছেন যে, ঐতিহাসিকগণ এ মতটিই সঠিক বলে মনে করেন। মীলাদের উপর প্রথম গ্রন্থ রচনাকারী আল্লামা আবুল খাত্তাব ইবন দেহিয়া (৬৩৩ হি) ঈদে মীলাদুন্নবীর উপর লিখিত সর্বপ্রথম গ্রন্থ ‘‘আত-তানবীর ফী মাওলিদিল বাশির আন নাযীর’’ -এ এ মতটিকেই গ্রহণ করেছেন।

(৬). অন্য মতে তাঁর জন্মতারিখ ১০ রবিউল আউয়াল। এ মতটি ইমাম হুসাইনের পৌত্র মুহাম্মাদ ইবন আলী আল বাকির (১১৪ হি) থেকে বর্ণিত। ১ম-২য় শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আমির ইবন শারাহিল শাবী (১০৪ হি.) থেকেও মতটি বর্ণিত। ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ ইবন উমর আল-ওয়াকিদী (২০৭ হি) এ মত গ্রহণ করেছেন। ইবন সা’দ তার বিখ্যাত ‘‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’’-য় শুধু দু’টি মত উল্লেখ করেছেন, ২ তারিখ ও ১০ তারিখ। ইবন সা’দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা ১/৮০-৮১।

(৭). কারো মতে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর জন্মতারিখ ১২ রবিউল আউয়াল। এ মতটি দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দীর প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (১৫১ হি) গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন : ‘‘রাসূলুল্লাহ ﷺ হাতির বছরে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।’’ ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ ১/১৮৩। এখানে লক্ষণীয় যে, ইবন ইসহাক সীরাতুন্নবীর সকল তথ্য সাধারণত সনদসহ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এ তথ্যটির জন্য কোনো সনদ উল্লেখ করেননি। কোথা থেকে তিনি এ তথ্যটি গ্রহণ করেছেন তাও জানান নি বা সনদসহ প্রথম শতাব্দীর কোনো সাহাবী বা তাবিয়ী থেকে মতটি বর্ণনা করেননি। এ জন্য অনেক গবেষক এ মতটিকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন. মাহদী রেজকুল্লাহ আহমাদ, আস-সীরাতুন নাবাবিয়াহ, ১০৯ পৃ। তা সত্ত্বেও পরবর্তী যুগে এ মতটিই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ইবন কাসীর উল্লেখ করেছেন যে ২ জন সাহাবী জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) ও আব্দুল্লাহ ইবন আববাস (রা) থেকে এ মতটি বর্ণিত।

(৮). অন্য মতে রাসূলুল্লাহর ﷺ জন্ম তারিখ ১৭-ই রবিউল আউয়াল।

(৯). অন্য মতে তাঁর জন্ম তারিখ ২২-শে রবিউল আউয়াল।

(১০). অন্য মতে তিনি রবিউস সানী মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

(১১). অন্য মতে তিনি রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। ।

(১২). অন্য মতে তিনি রমযান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। ৩য় হিজরী শতকের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক যুবাইর ইবন বাক্কার (২৫৬ হি.) থেকে এ মতটি বর্ণিত। তাঁর মতের পক্ষে যুক্তি হলো যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বসম্মতভাবে রমযান মাসে নুবুওয়াত পেয়েছেন। তিনি ৪০ বছর পূর্তিতে নবুয়্যত পেয়েছেন। তাহলে তাঁর জন্ম অবশ্যই রমযানে হবে। এছাড়া কোনো কোনো হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ হজ্জের পবিত্র দিনগুলোতে মাতৃগর্ভে আসেন। সেক্ষেত্রেও তাঁর জন্ম রমযানেই হওয়া উচিত। এ মতের সমর্থনে আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা) থেকে একটি বর্ণনা আছে বলে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন।ইবন সা’দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা ১/১০০-১০১, ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/২১৫, আল-কাসতালানী, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যা ১/৭৪-৭৫, আল-যারকানী, শরহুল মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যা ১/২৪৫-২৪৮, ইবন রাজাব, লাতায়িফুল মায়ারিফ ১/১৫০।

(খ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত দিবস

বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোমবার ইন্তিকাল করেন।বুখারী, আস-সহীহ ১/২৬২, ৪/১৬১৬; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৩১৫; আবূ নুআইম ইসপাহানী, আল-মুসনাদ আল-মুসতাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম ২/৪৩-৪৪।

 কিন্তু এ সোমবারটি কোন্ মাসের কোন্ তারিখ ছিল তা কোনো হাদীসে বলা হয় নি। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রামাদান মাসের ১১ তারিখে ইন্তিকাল করেন।ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ৮/১২৯।

 এ একক বর্ণনাটি ছাড়া মুসলিম উম্মাহর সকল ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিস একমত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তিকাল করেন। কিন্তু কোন্ তারিখে তিনি ইন্তিকাল করেছেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

বুখারী-মুসলিম সংকলিত হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্জে ৯ই যুলহাজ্জ ছিল শুক্রবার।বুখারী, সহীহ ১/২৫, ৪/১৬০০, ১৬৮৩, ৬/২৬৫৩; মুসলিম, সহীহ ৪/২৩১২-২৩১৩।

 এ থেকে আমরা জানতে পারি যে, সে বছর যুলহাজ্জ মাসের ১ তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার। আমরা জানি যে, বিদায় হজ্জ থেকে ফিরে তিনি যুলহাজ্জ মাসের বাকি দিনগুলি এবং মুহার্রাম ও সফর মাস মদীনায় অবস্থান করেন এবং রবিউল আউয়াল মাসে তিনি ইন্তিকাল করেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক উলেলখ করেছেন যে, তিনি বিদায় হজ্জের এ দিনের পরে ৮০ বা ৮১ দিন জীবিত ছিলেন। এরপর রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে তিনি ইন্তিকাল করেন। ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ৮/১৩০।

ওফাতের তারিখ সম্পর্কে দ্বিতীয় হিজরীর তাবিয়ী ঐতিহাসিকগণ এবং পরবর্তী ঐতিহাসিকগণের ৪টি মত রয়েছে: ১ রবিউল আউয়াল, ২ রবিউল আউয়াল, ১২ রবিউল আউয়াল ও ১৩ রাবিউল আউয়াল। প্রাগুক্ত ৮/১২৯।

সাধারণভাবে পরবর্তী কালে ১২ তারিখের মতটিই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কিন্তু এখানে একটি কঠিন সমস্যা রয়েছে। আমরা জানি যে, আরবী মাস ৩০ বা ২৯ দিন হয় এবং সাধারণত কখনোই পরপর তিনটি মাস ৩০ বা ২৯ দিনের হয় না। উপরের হাদীস থেকে আমরা জেনেছি যে, যুলহাজ্জ মাস শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার। আর বৃহস্পতিবার ১ যুলহাজ্জ হলে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ কোনোভাবেই সোমবার হতে পারে না।

যুলহাজ্জ, মুহার্রাম ও সফর তিনটি মাসই ৩০ দিনে ধরলে ১ রবিউল আউয়াল হয় বুধবার। দু’টি ৩০ ও একটি ২৯ ধরলে ১ রবিউল আউয়াল হয় মঙ্গলবার। দু’টি ২৯ ও একটি ৩০ ধরলে হয় ১ রবিউল আউয়াল হয় সোমবার। আর তিনটি মাসই ২৯ দিন ধরলে ১ রবিউল আউয়াল হয় রবিবার। আর কোনো হিসাবেই ১২ তারিখ সোমবার হয় না।

এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার জন্য কেউ কেউ ১৩ তারিখের কথা বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনটি মাসই ৩০ দিনের ছিল এবং মদীনায় একদিন পরে চাঁদ দেখা গিয়েছিল। দুটি ব্যখ্যাই দূরবর্তী। ইবনু হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী ৮/১২৯-১৩০।

দ্বিতীয় হিজরী শতকের প্রখ্যাত তাবিয়ী মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক আল্লামা সুলাইমান ইবনু তারখান আত-তাইমী (৪৬-১৪৩ হি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসুস্থতার শুরু হয় ২২ সফর শনিবার। ১০ দিন অসুস্থতার পর ২ রবিউল আউয়াল সোমবার তিনি ইন্তিকাল করেন।’’ প্রাগুক্ত ৮/১২৯।

তাঁর এ মতঅনুসারে সে বছরে যুলহাজ্জ, মুহার্রাম ও সফর তিনটি মাসই ২৯ দিন ছিল, যা সাধারণত খুবই কম ঘটে। এ জন্য কোনো কোনো মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক ও গবেষক ১লা রবিউল আউয়ালের মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে আল্লামা সুহাইলী, ইবনু হাজার প্রমুখ গবেষক মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক ২ তারিখের মতটিকেই গ্রহণ করেছেন। তিনটি কারণে তাঁরা এ মতটি গ্রহণ করেছেন। প্রথম, তাবিয়ীগণের যুগ থেকে সহীহ সনদে কথাটি পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়, এ মতটি বিদায় হজ্জের পরে তাঁর ৮০ বা ৮১ দিন জীবিত থাকার বর্ণনাটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তৃতীয়, যারা ১২ বলেছেন তাদের কথার একটি দূরবর্তী ব্যাখ্যা দেওয়া যায় যে, আরবীতে (ثاني شهر) কে (ثاني عشر) বা ‘মাসের দুই’-কে ‘দশের দুই’ (১২) পড়ার একটি সম্ভাবনা থাকে। কেউ হয়ত ২-কে ১২ পড়েছিলেন ও লিখেছিলেন এবং অন্যরা তার অনুসরণ করেছেন। প্রাগুক্ত ৮/১২৯-১৩০।

(গ) রবিউল আউয়াল বিষয়ক ভিত্তিহীন কথাবার্তা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর জন্ম বা ওফাতের মাস হিসাবে রবিউল আউয়াল মাসের কোনো উল্লেখ হাদীস শরীফে নেই। এ মাসের কোনো বিশেষ ফযীলত বা বিশেষ আমল কোনো কিছুই হাদীসে বর্ণিত হয় নি।

এ বিষয়ক মিথ্যা গল্প কাহিনীর মধ্যে রয়েছে: ‘‘এ মাসের ১২ তারিখে বুজুর্গ তাবিয়ী’গণ হযরত রাসূলে কারীম (ﷺ) এর রূহের মাগফিরাতের জন্য ২০ রাকয়া’ত নফল নামায পড়িতেন। এ নামায দুই দুই রাকয়া’তের নিয়তে আদায় করিতেন এবং প্রত্যেক রাকয়া’তে সূরা ফাতিহার পরে ১১ বার করিয়া সূরা ইখলাছ পড়িতেন। নামায শেষে আল্লাহর হাবীবের প্রতি সাওয়াব রেছানী করিতেন। তাহারা ইহার বরকতে খাবের মাধ্যমে হযরত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দর্শন লাভ করিতেন এবং দোজাহানের খায়ের ও বরকত লাভ করিতেন। অন্য রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে, কোন মু’মিন ব্যক্তি নিম্নের দরূদ শরীফ এ মাসের যে কোন তারিখে এশার নামাযের পরে ১১২৫ বার পাঠ করিলে আল্লাহর রহমতে সে ব্যক্তি হযরত নবী করীম (ﷺ) কে স্বপ্নে দর্শন লাভ করিবে।…’’ মুফতী হাবীব ছামদানী, বার চান্দের ফযীলত, পৃ. ১৬-১৭।

এরূপ আরো অনেক ভিত্তিহীন বানোয়াট কথা প্রচলিত বিভিন্ন পুস্তকে দেখা যায়। অধ্যাপিকা কামরুন নেসা দুলাল, পৃ. ৩০১-৩০২।

 এগুলো সবই বানোয়াট কথা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকালের পরবর্তী তিন যুগ, সাহাবী, তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ীগণের মধ্যে এ মাসটির কোনো পরিচিতিই ছিল না। এ মাসটি যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্ম মাস সে কথাটিই তখনো প্রসিদ্ধি লাভ করে নি।

৪০০ হিজরীর দিকে সর্বপ্রথম মিসরের ফাতেমীয় শিয়া শাসকগণ এ মাসে ‘মীলাদ’ বা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্ম দিবস পালনের প্রচলন করে। ৬০০ হিজরীতে ইরাকের ইরবিল শহরে ৮ ও ১২ রবিউল আউয়াল ‘মীলাদ’ বা ‘ঈদ মীলাদুন্নবী’ নামে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্ম উদযাপন শুরু হয়। অপরদিকে ভারত ও অন্যান্য দেশে ১২ রবিউল আউয়ালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত উপলক্ষ্যে ‘ফাতেহা’ বা ‘ফাতেহায়ে দোয়াজদহম’ উদযাপন শুরু হয়। এ বিষয়ক সকল তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ‘এহইয়াউস সুনান’ গ্রন্থে।

—————o——————–o———————-o——————–o—————–

নিজের জন্মদিন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিনে রোযা রাখা                                        প্রশ্ন: সহিহ মুসলিম, সুনানে নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন সোমবারে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তখন তিনি বলেন: “এটি এমন দিন যে দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি…”এ হাদিসের ভিত্তিতে কোন ব্যক্তির জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিনে রোযা রাখা জায়েয হবে কি? অনুরূপভাবে নিজের জন্মদিনে রোযা রাখা জায়েয হবে কি? আশা করি বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

এক:

সহিহ মুসলিমে আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবারে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: “এটি এমন দিন যে দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমার ওপর ওহি নাযিল হয়”।

ইমাম তিরমিযি (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “প্রতি সোমবারে ও বৃহস্পতিবারে আমলনামা পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি আমি রোযা রেখেছি এমতাবস্থায় যেন আমার আমলনামা উপস্থাপন করা হয়”[তিরমিযি হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন। আলবানী ‘সহিহুত তিরমিযি’ গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘সহিহ’ আখ্যায়িত করেছেন]

পূর্বোক্ত হাদিস থেকে জানা গেল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার তাঁর জন্মদিন হওয়ার কারণে যেমন রোযা রেখেছেন তেমনি এ দিনটির মর্যাদার কারণেও রোযা রেখেছিলেন। কেননা এ দিনে আল্লাহ তাঁর ওপর ওহী নাযিল করেছেন। এ দিনে তাঁর আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা থাকা অবস্থায় তাঁর আমলনামা পেশ হওয়া চাইতেন। এজন্য ঐ দিনে রোযা রাখার অনেকগুলো কারণের মধ্যে ঐ দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম হওয়াটাও একটি কারণ।

সুতরাং যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত সোমবারে রোযা রাখতে চান, এর মাধ্যমে ক্ষমার আশা করেন, আল্লাহ তার বান্দাদেরকে যে সব নেয়ামত দিয়েছেন সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করতে চান; যে নেয়ামতগুলোর মধ্যে সেরা নেয়ামত হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও তাঁর নবুয়ত এবং সেই দিনে ক্ষমাপ্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করেন— তাহলে এটি একটি ভাল আমল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, বিশেষ কোন সপ্তাহে এ আমলটি করা অন্য সপ্তাহে না করা এবং বিশেষ কোন মাসে এ আমলটি করা অন্য মাসে না করা— এমনটি যেন না হয়। বরং ব্যক্তি তার সাধ্যানুযায়ী সবসময় এটি করবে।

আর মিলাদুন্নবী পালনের উদ্দেশ্যে বছরের বিশেষ একটি দিনে এ আমলটি করা— এটি বিদআত ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর খেলাফ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে রোযা রেখেছেন। অথচ মিলাদুন্নবী পালনের নির্দিষ্ট এ দিনটি সোমবারেও পড়তে পারে; আবার সপ্তাহের অন্য কোন দিনও হতে পারে।

মিলাদুন্নবী পালনের হুকুম ও এ সম্পর্কে জানতে পড়ুন 13810 নং ও 70317 নং প্রশ্নোত্তর।                       দুই:

বর্তমানে সাধারণ মানুষের মাঝে ‘জন্মদিন’ পালনের নামে বিশেষ দিন উদযাপনের যে প্রথা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে— এটি বিদআত ও শরিয়ত বিরোধী। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ছাড়া মুসলমানদের আর কোন উৎসব (দিন পালন) নেই। ইতিপূর্বে একাধিক প্রশ্নোত্তরে সে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। পড়ুন 26804 নং ও 9485নং প্রশ্নোত্তর।

এছাড়া যে নবী হচ্ছেন— প্রকৃত নেয়ামত ও সকল মানুষের জন্য রহমত, যাঁর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি”[সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭], যিনি হচ্ছেন সকল মানুষের জন্য কল্যাণের পথ উন্মোচনকারী তাঁর জন্মদিন এর সাথে অন্য মানুষের জন্মদিবস বা মৃত্যুদিবসের তুলনা কিভাবে চলে?

তাছাড়া তাঁর সাহাবীগণ ও তাদের পরবর্তী সলফে সালেহীনের কেউ কি এমন কিছু পালন করেছেন?

বরঞ্চ সলফে সালেহীন ও পূর্ববর্তী আলেমদের কেউ এ কথা বলেছেন বলে জানা যায় না যে, সপ্তাহের বিশেষ একটি দিনে, কিংবা মাসের বিশেষ একটি দিনে, কিংবা বছরের বিশেষ একটি দিনে রোযা রাখা কিংবা সে দিনটি উদযাপন করা শরিয়তসম্মত; যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সপ্তাহের যে বারটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন সেই বারে অর্থাৎ সোমবারে রোযা রাখতেন। যদি এটা শরিয়তসম্মত আমল হত তাহলে পূর্ববর্তী আলেমগণ ও নেকীর কাজে অগ্রগামী ব্যক্তিগণ এ দিনটি পালন করতেন। যখন তাঁরা সেটা করেননি কাজেই জানা গেল যে, এটি নব-প্রচলিত; এটি পালন করা যাবে না।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

————–o——————o———————o——————–o—————

মিলাদুন্নবী (নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন) উপলক্ষে যে খাবার বিতরণ করা হয় সেটা খাওয়া জায়েয হবে কিনা? কেউ কেউ এর সপক্ষে দলিল পেশ করতে গিয়ে বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিনে আবু লাহাব দাসী আযাদ করায় আল্লাহ তাআলা তার জন্য সেদিনের শাস্তি লঘু করেছেন।

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার

এক:

ইসলামী শরিয়তে “ঈদে মিলাদুন্নবী” বলতে কিছু নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, চার ইমাম ও অন্য আলেমগণ এমন কোন দিন জানতেন না। বরং এ ঈদ বা উৎসবটি উদ্ভাবন করেছে কিছু বিদআতী বাতেনী গোষ্ঠী। এরপর থেকে মানুষ এ বিদআত পালন করে আসছে; অথচ আলেমগণ সর্বকালে ও সর্বস্থানে এ বিদআত সম্পর্কে মানুষকে হুশিয়ার করে আসছেন।

এ বিদআতের ব্যাপারে এ ওয়েব সাইটের 10070 নং, 13810 নং ও 70317 নং প্রশ্নোত্তরে সাবধান করা হয়েছে।

দুই:

এ দিনকে উপলক্ষ করে মানুষ যা কিছু পালন করে থাকে যেমন- মাহফিল করা, খাবার বিতরণ করা ইত্যাদি সব হারাম কাজ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এর মাধ্যমে তারা আমাদের শরিয়তে একটি বিদআতী উৎসবকে চালু রাখতে চায়।

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান ‘আল-বায়ান লি আখতায়ি বাযিল কুত্তাব’ (পৃষ্ঠা ২৬৮-২৭০) গ্রন্থে বলেন: কুরআন ও হাদিসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক প্রদত্ত বিধানের অনুসরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ধর্মীয় বিষয়ে নতুন কিছু প্রবর্তন করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে- এটি কারো অজানা নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি মার্জনা করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীলও দয়ালু।[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১] তিনি আরও বলেন: “তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে কর্তাদের অনুসরণ করো না।”।[সূরা আরাফ, আয়াত: ৩] তিনি আরও বলেন: “তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।”[সূরা আনআম, আয়াত: ১৫৩] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “নিশ্চয় শ্রেষ্ঠ সত্যবাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে- নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে- নব প্রবর্তিত বিষয়গুলো।” তিনি আরও বলেন: “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে এমন কোন বিষয় চালু করে যা এতে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত” । সহিহ মুসলিমের এ বর্ণনায় এসেছে- “যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করে যা আমাদের দ্বীনে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত”।

মানুষ যে সব বিদআতের প্রবর্তন করেছে তার মধ্যে রবিউল আউয়াল মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবার্ষিকী পালন করা অন্যতম। এ জন্মবার্ষিকী পালন করার ক্ষেত্রে তারা কয়েক শ্রেণীর:

এক শ্রেণী যারা শুধু জমায়েত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম কাহিনী পড়ে; কিংবা এ উপলক্ষে আলোচনা পেশ করে ও কাসিদা পাঠ করে।

আর কেউ আছে খাবার-দাবার ও মিষ্টান্ন তৈরী করে উপস্থিত লোকদের মাঝে বিতরণ করে।

কেউ আছে মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে; কেউ আছে বাড়ীতে আয়োজন করে।

আর কেউ আছে শুধু এ সবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও অনেক হারাম ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হয়; যেমন নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, নাচগান, কিংবা বিভিন্ন শিরকমিশ্রিত কার্যাবলী যেমন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সাহায্য চাওয়া, তাঁকে ডাকা, শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য তাঁর মদদ চাওয়া ইত্যাদি।

মিলাদ অনুষ্ঠানের এ নানাবিধ ধরন ও প্রকারসহ এটি একটি হারাম কাজ ও উত্তম ত্রি-প্রজন্মের উত্তরকালে প্রবর্তিত বিদআত।

ষষ্ঠ হিজরী কিংবা সপ্তম হিজরীতে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি চালু করেন আর্বিলের বাদশা আবু সাঈদ (সাঈদের পিতা) আল-মুজাফফর কুকবুরি; যেমনটি উল্লেখ করেছেন ইতিহাসবিদ ইবনে কাছির ও ইবনে খাল্লিকান প্রমুখ।

আবু শামা বলেন: মোসুলে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি পালন করেন একজন মশহুর দ্বীনদার মানুষ- শাইখ উমর বিন মুহাম্মদ আল-মোল্লা। এরপর আর্বিলের বাদশা ও অন্যরা তাকে অনুসরণ করেন।

হাফেয ইবনে কাছির ‘আল-বিদায়া’ গ্রন্থে (১৩/১৩৭) আবু সাঈদ কুকবুরি এর জীবনীতে লিখেন: “তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদুন্নবী পালন করতেন এবং বিশাল অনুষ্ঠান করতেন…। এক পর্যায়ে তিনি বলেন: আল-সিবত বলেন: মুজাফফর কর্তৃক মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজনকৃত ভোজানুষ্ঠানে যারা হাজির হয়েছেন এমন একজন বলেন যে, সে অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজার ভুনা মাথা, দশ হাজার মুরগী, একলক্ষ দুধের পেয়ালা এবং ত্রিশ হাজার মিষ্টান্নের প্লেট উপস্থাপন করা হত…। এক পর্যায়ে তিনি বলেন: সুফি গান শুনার ব্যবস্থা থাকত জোহর থেকে ফজর পর্যন্ত। বাদশা নিজে তাদের সাথে নাচত।[সমাপ্ত]

ইবনে খাল্লিকান তাঁর ‘ওফাইয়াতুল আইয়ান’ নামক গ্রন্থে (৩/২৭৪) বলেন:

সফর মাস এলে তারা সে গম্বুজগুলোকে সৌন্দর্যমণ্ডিত বিলাসবহুল সাজে সাজাত। প্রত্যেক গম্বুজে একদল গায়ক বসত; একদল সাধক ও বাদক দল থাকত। ঐ গম্বুজগুলোর প্রত্যেকটি তলাতে এদের একদল থাকত।[সমাপ্ত]

অতএব, এ বিদআত উদযাপনের মধ্যে রয়েছে- এ দিনে নানা রকমের খাবার-দাবার প্রস্তুত করা, খাবার বিতরণ করা, মানুষকে সে ভোজের দাওয়াত দেয়া। সুতরাং, কোন মুসলমান যদি এসব কিছুতে তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করে, তাদের প্রস্তুতকৃত খাবার খায়, তাদের দস্তরখানে বসে নিঃসন্দেহে সেটা এ বিদআত উদযাপনের মধ্যে পড়বে; এটি তাদেরকে এ বিদআত উদযাপনে সহযোগিতা করার নামান্তর। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নেকী ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা কর; পাপকাজ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করো না।[সূরা মায়েদা, আয়াত: ২]

এ কারণে সে দিনকে উপলক্ষ করে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়া হারাম মর্মে আলেমগণ ফতোয়া দিয়েছেন এবং অন্য কোন বিদআত উৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়াও হারাম ফতোয়া দিয়েছেন।

শাইখ বিন বাযকে নিম্নোক্ত প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হয় (৯/৭৪):

মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়ার হুকুম কি?

জবাবে তিনি বলেন: যদি যার মিলাদ (জন্ম বার্ষিকী) তাঁর জন্য এ পশু জবাই করা হয় তাহলে এটি শিরকে আকবার (বড় শিরক)। আর যদি গোশত খাওয়ার জন্য জবাই করা হয় তাতে কিছু নেই। তবে কোন মুসলমানের সে গোশত খাওয়া উচিত নয়; সে অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিত নয়; যাতে করে মুসলমান কথা ও কাজের মাধ্যমে বিদআতীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারেন। আর যদি তাদেরকে নসিহত করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হতে চান সেটা করতে পারেন; তবে তাদের খাবার বা অন্য কিছুতে অংশ গ্রহণ করবে না।[সমাপ্ত]

এ বিষয়ে এ ওয়েব সাইটে আরও কিছু ফতোয়া রয়েছে; যেমন দেখুন 7051 নং ও 9485 নং প্রশ্নোত্তর।

আল্লাহই ভাল জানেন। সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

———————-o———————o——————–o———————-

যার পরিবারের লোকেরা মিলাদুন্নবী উদযাপন করে এবং এতে অংশগ্রহণ না করার কারণে তাকে তিরস্কার করে এমতাবস্থায় পরিবারের সাথে সে কীরূপ আচরণ করবে

আমি মিলাদুন্নবী পালন করি না। কিন্তু পরিবারের বাকী সবাই তা পালন করে। তারা বলেন: আমার ইসলাম নতুন ইসলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসি না। এ বিষয়ে কোন উপদেশ আছে কী?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

এক:

প্রিয় ভাই, আপনি এ বিদআতটি পরিহার করে উত্তম কাজটি করেছেন যে বিদআতটি অভ্যাসের মত মানুষের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে। যারা আপনাকে নবীর অনুসরণের ঘাটতি উল্লেখ করে অপবাদ দিল অথবা ইসলামী আদর্শের উপর আপনার অবিচলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আপনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার দরকার নেই। এমন কোন রাসূল নেই যাঁর সাথে লোকেরা তিরস্কার করেনি বা তাঁর বিবেক-বুদ্ধি ও দ্বীনদারির উপর অপবাদ দেয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেন: “এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রাসূল আগমন করেছে, তারা বলেছে যাদুকর কিংবা উন্মাদ।”[সূরা যারিয়াত, আয়াত: ৫২] নবীদের জীবনে আপনার জন্য উত্তম আদর্শ। সুতরাং আপনি যে কষ্ট পাচ্ছেন এতে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের প্রত্যাশা করুন।

দুই:

আপনার জন্য নসিহত হচ্ছে- আপনি তাদের সাথে কোন আলোচনা-পর্যালোচনা, তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলবেন। যদি এদের মধ্যে জাগ্রত বিবেকের কেউ থাকে যে কথা শুনে ও বুঝতে চেষ্টা করে তাহলে তার সাথে আলোচনা করতে পারেন। বাছাই করে এ ধরণের ব্যক্তিদেরকে আপনি মিলাদের স্বরূপ, এর হুকুম, এটি সঠিক না হওয়ার দলিল জানাতে পারেন। তাদের কাছে আপনি নবীকে অনুসরণ করার মর্যাদা ও বিদআত প্রচলন করার খারাপ দিকটি তুলে ধরতে পারেন। যদি আপনি এমন কাউকে দেখেন তাহলে তাদের সাথে নিম্নোক্ত পন্থায় সংলাপ করতে পারেন এবং তাদেরকে নসিহত করতে পারেন।

১. তারা যেখানে শেষ করেছে আমরা সেখান থেকে শুরু করব। তারা আপনাকে বলেছে: আপনার ইসলাম নতুন ইসলাম। আমরা বলব: কোনটা আগে শুরু হয়েছে- মিলাদ করা; নাকি মিলাদ না করা? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক ন্যায়বান ও বিবেকবান ব্যক্তির উত্তর হবে: যারা মিলাদ পালন করে না তারাই আগে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম উবাইদি যুগ পর্যন্ত মিলাদ করেনি। উবাইদিদের পর মিলাদ করা শুরু হয়েছে। সুতরাং কার ইসলাম নতুন?!

২. আমরা যদি দেখি- কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি ভালবাসে? সাহাবায়ে কেরাম; নাকি তাদের পরবর্তী যামানার লোকেরা? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক বিবেকবান লোকের জবাব হবে: সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি ভালবেসেছে এবং বেশি সম্মান দিয়েছে। তারা কি মিলাদ পালন করেছেন?! মিলাদপালনকারী এ লোকদের পক্ষে কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের সাথে পাল্লা দেয়া সম্ভব?! ৩. আমরা যদি প্রশ্ন তুলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার অর্থ কী? প্রত্যেক বিবেকবান ও ন্যায়বান ব্যক্তির মতে, নবীর আদর্শের অনুসরণ ও তাঁর প্রদর্শিত পথে চলা। যদি মিলাদপালনকারী এ লোকগুলো তাদের নবীর আদর্শ আঁকড়ে ধরত এবং তাঁকে অনুকরণ করে পথ চলত তাহলে রাসূলের প্রেমিক সাহাবায়ে কেরাম ও নবীর অনুসারীগণ যা করেছেন এদের জন্যেও তা তা করা-ই যথেষ্ট হত এবং তারা বুঝতে পারত যে, পূর্ববর্তীদের অনুকরণ করার মধ্যেই কল্যাণ; আর পরবর্তীদের নবপ্রচলনের মধ্যেই অকল্যাণ। কাযী ইয়ায (রহঃ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার আলামত শীর্ষক অধ্যায়ে বলেন: “যে ব্যক্তি কাউকে ভালবাসে সে তাকে অগ্রাধিকার দেয়। তার সাথে সাদৃশ্য অর্জনকে প্রাধান্য দেয়। তা না হলে সে ভালবাসা সত্য নয়; বরং নিছক দাবিমাত্র। যে ব্যক্তি সত্যিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসে এর আলামত তার মধ্যে দেখা যেতে হবে। প্রথম আলামত হচ্ছে: সুসময়ে, দুঃসময়ে, কর্মোদ্দীপনা ও অলসতা সর্বাবস্থায় তাঁর অনুকরণ, তাঁর আদর্শের অনুসরণ, তাঁর কথা-কাজ-নির্দেশের অনুগমন, তাঁর নিষেধগুলো পরিহার, তাঁর শিষ্টাচারগুলো গ্রহণ। এর প্রমাণ রয়েছে আল্লাহর বাণীতে “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর; এতে করে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি মার্জনা করে দিবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী, দয়ালু।[সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩১]

তাঁর শরিয়তকে অগ্রাধিকার দেয়া, আত্মপ্রবৃত্তি ও নিজ-মতের পরিবর্তে তাঁর শরিয়তের অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে।” [সূরা হাশর, আয়াত: ৯]

আল্লাহর রেজামন্দি হাছিলের জন্য বান্দাকে নারাজ করা:

যে ব্যক্তি এসব গুণে গুণান্বিত সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে পূর্ণ ভালবাসে। যে ব্যক্তি এসব ক্ষেত্রে কিঞ্চিত ঘাটতি করে তার ভালবাসাতে ঘাটতি আছে; তবে সেও তাঁদেরকে ভালবাসে। [আস-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তাফা (২/২৪-২৫)]

৪. আমরা যদি নবীর মিলাদ বা জন্মতারিখ নিয়ে পর্যালোচনা আসি- এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত কিনা? বিপরীত দিকে তাঁর মৃত্যু তারিখ নিয়েও পর্যালোচনা করি এ তারিখ সাব্যস্ত কিনা? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক বিবেকবান ও ন্যায়বান ব্যক্তির উত্তর হবে- নবীর জন্মতারিখ সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু নবীর মৃত্যুতারিখ সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তার প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন। যদি আমরা সিরাত গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করি তাহলে দেখব সিরাত লেখকগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মতারিখের ব্যাপারে একাধিক অভিমত ব্যক্ত করেছেন:

১. সোমবার ২ রা, রবিউল আউয়াল।

২. ৮ই, রবিউল আউয়াল।

৩. ১০ই, রবিউল আউয়াল।

৪. ১২ই. রবিউল আউয়াল।

৫. যুবায়ের ইবনে বাক্কার বলেন: তিনি রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ জানার উপর দ্বীনের কোন কিছু নির্ভর করত তাহলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেন অথবা তিনি নিজেই তাদেরকে এ ব্যাপারে অবহিত করতেন। অথচ এর কোনটি ঘটেনি।

পক্ষান্তরে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লামের মৃত্যু তারিখের ব্যাপারে কোন মতভেদ হয়নি। তাঁর মৃত্যু তারিখ হিজরী ১১ সালের ১২ই রবিউল আউয়াল। এরপর আমরা যদি দেখি এ বিদআতপন্থী লোকগুলো কখন মিলাদুন্নবী (নবীর জন্মবার্ষিকী) পালন করে? তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন। উবাইদি সম্প্রদায় (যারা বংশ পরিচয়ে জালিয়াতি করে নিজেদেরকে ফাতেমা রাঃ এর সাথে সম্পৃক্ত করে ফাতেমী দাবী করে) এভাবে এ কর্মের প্রচলন করে গেছেন এবং লোকেরা নির্বোধের মত এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। অথচ তারা ছিল জিন্দিক, নাস্তিক বা ধর্মত্যাগী সম্প্রদায়। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুতে ফুর্তি করার জন্য এমন একটি উপলক্ষের উদ্ভব করেছে। এর জন্য তারা জমায়েত হত এবং খুশি প্রকাশ করত। আর নির্বোধ মুসলমানদেরকে এভাবে ধোকা দিত যে, তাদের অনুকরণে এ অনুষ্ঠান করার মানে- নবীর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা। এভাবে তারা তাদের নিকৃষ্ট ও মন্দ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ও ভালবাসার অর্থকে বিকৃত করণে সফল হল। তাদের কাছে নবীর ভালবাসা হচ্ছে- মিলাদের কাসিদা পড়া, সিরনি ও মিষ্টি বিতরণ, নাচের আয়োজন, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ঢোল বাজানো, বেপর্দাপনা, পাপাচার, বিভিন্ন বিদআতী দুআ ও শিরকী কথাবার্তা, যেগুলো মিলাদের মজলিসে বলা হয়ে থাকে। এ বিদআতের কদর্যতা এ ওয়েব সাইটের 10070, নং প্রশ্নোত্তরে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিদআতের অপনোদনমূলক আলোচনা জানতে এই লিংকে গিয়ে শাইখ সালেহ আল-ফাউযানের “হুকমুল ইহতিফাল বিল মাউলিদিন্নাবি” নামক বইটি পড়া যেতে পারে। তিন:

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণের উপর ধৈর্য ধারণ করুন। তাঁর বিরুদ্ধাচারণকারীদের সংখ্যাধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা আপনাকে ইলমে দ্বীন অর্জন ও মানুষের উপকার করার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ধরণের ইস্যু যেন পরিবারের সদস্যদের থেকে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে না রাখে। কারণ তারা এমন লোকদের তাকলিদ করছেন যারা মিলাদের জলসাগুলো জায়েয হওয়ার, এমনকি মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে ফতোয়া দেয়। তাই এ বিদআতের বিরোধিতা করার সময় তাদের সাথে কোমল হওয়া উচিত। কথা, কাজ ও আখলাকের সৌন্দর্যতা ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট থাকা উচিত। নবীর অনুসরণের প্রভাব আপনি আপনার আচার-আচরণ, ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তাদের কাছে ফুটিয়ে তুলুন। আমরা আপনার জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিকের দুআ করছি।

আল্লাহই ভাল জানেন। সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব